বাবারা ভালো থাকার নয়, ভালো রাখার জন্য বাঁচে! 'প্রজাপতি 2' বুঝতে একটা সংলাপই যথেষ্ট
কেমন হল অভিজিৎ সেনের 'প্রজাপতি' ফ্রাঞ্চাইজির দ্বিতীয় নিবেদন 'প্রজাপতি 2'?

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : December 29, 2025 at 3:29 PM IST
কলকাতা, 29 ডিসেম্বর: শীতের শহরে বড়দিনের ছুটিতে উৎসবের আমেজ । কল্লোলিনী কলকাতা ঝলমল করছে বাহারি আলোয় । ভিক্টোরিয়া থেকে মিলেনিয়াম পার্ক, রেস্তোরাঁ থেকে সিনেমা হল - সব জায়গাতেই জনতার ভিড় । আর এই শীতের মরশুমেই সিনেপ্রেমী মানুষের জন্য হাজির তিনটি বাংলা ছবি । 'প্রজাপতি 2', 'মিতিন মাসি: একটি খুনির সন্ধানে' ও 'লহ গৌরাঙ্গের নাম রে'। ব্যবসার নিরিখে এখনও প্রথম স্থানে ‘প্রজাপতি 2’।
সূত্রের খবর, মাত্র তিন দিনেই কয়েক কোটির ব্যবসা করে ফেলেছে এই ছবি । বাকি দুটি ছবিরও শো বেড়েছে । 'বুক মাই শো'-র হিসেব বলছে, রবিবারের শো সংখ্যা ছিল এরকম, 'প্রজাপতি 2' - 138টি, 'মিতিন মাসি: একটি খুনির সন্ধানে' - 63 ও 'লহ গৌরাঙ্গের নাম রে' - 63 ৷ অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে যে, 'প্রজাপতি 2'র গতি বাকিদের থেকে অনেকটাই বেশি ।

অভিজিৎ সেনের 'প্রজাপতি' ফ্রাঞ্চাইজির এই দ্বিতীয় নিবেদন প্রমাণ করে দিয়েছে বাঙালি আজও পারিবারিক ছবিই বেশি ভালোবাসে । না-হলে এভাবে হল ভরাতে পারে না । এই ছবি গোটা সপ্তাহ হাউজফুল বেহালার অশোকা সিনেমা হলে । অন্যান্য জায়গাতেও হাউজফুল । গতকাল দেবের পোস্ট জানান দিয়েছে, 'প্রজাপতি 2'-র দুশো'টিরও বেশি শো হাউজফুল (সত্যতা যাচাই করেনি ইটিভি ভারত)।
সংসারে বাবা তার সন্তানের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দিতে পারে - এই বার্তা আছে ছবিতে । মিঠুন চক্রবর্তীর ভাষায়, "বাবারা ভালো থাকার জন্য বাঁচে না, ভালো রাখার জন্য বাঁচে ৷" এই একটা কথা গোটা ছবিটাকে বুঝিয়ে দেয় ।
একইভাবে সু-সন্তানও বাবার মুখে হাসি ফোটাতে জীবনের সর্বস্ব দিয়ে দিতে প্রস্তুত থাকে । ঠিক যেমনটা জয় চক্রবর্তী, থুড়ি দেব করেছেন । ছেলের জন্য বাবা তার সাধের বাড়ি প্রোমোটারের হাতে তুলে দেয় । আর ছেলে সেই বাড়ি বাবাকে ফিরিয়ে দিতে নিজের ফুড কার্ট বেচে দিতে চায়, সঞ্চিত অর্থ তুলে দিতে চায় প্রোমোটারের হাতে । অন্যদিকে, দেবের দিদিও (অপরাজিতা আঢ্য) নিজের গয়না বেচে বাবার বাড়ি ফেরত পেতে চায় । এভাবেই একে অপরের সঙ্গে বেঁধে বেঁধে থাকা এক পরিবারের গল্প বুনেছেন পরিচালক অভিজিৎ সেন এবং প্রযোজক অতনু রায়চৌধুরী ।
ছবির শুরুর দিকে বাবার সঙ্গে মেয়ের অর্থাৎ দেবের সঙ্গে অনুমেঘা কাহালির র্যাম্প ওয়াক নজর কাড়ে । ব্যস্ত বাবা তার মেয়ের সঙ্গে র্যাম্পে হাঁটতে দেরি করে পৌঁছলে ছোট্ট মিমমিমের ভাঙা বাংলায় বাবাকে নিয়ে বলা কথা চোখে জল আনে । দেব- ইধিকা রসায়ন আরেকটু জমলে ভালো হত । এটুকুতে মন ভরে না । এই ছবির অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে লন্ডনে বাপ-ব্যাটার পান্তাভাত বিক্রি । ভেজ পান্তা, এগ পান্তা, প্রন পান্তা । এই পান্তা খেতে দলে দলে লোক ভিড় জমায় বাপ-ছেলের ফুড কার্টে । দেবের উদ্দেশে মিঠুনের সংলাপ, "তোরা কলকাতাকে লন্ডন বানাতে পারলি না । আমি লন্ডনকে কলকাতা বানাব..." দর্শককে হাসিয়েছে ।
এই ছবির উপরি পাওনা খরাজ মুখোপাধ্যায়ের সাবলীল অভিনয়, দুরন্ত সংলাপ । অপরাজিতা আঢ্য তাঁর অসামান্য অভিনয়ের ধারা এখানেও বজায় রেখেছেন । অনির্বাণ চক্রবর্তী এখানে ভিলেনি ইমেজে আছেন । চটুল কথার টিপ্পনিতে জেরবার করেছেন দেবকে । এখানে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককেন্দ্রিক সংলাপ নিক্ষেপ এই সময়ের জন্য উপযোগী ।
কাঞ্চন মল্লিক সবসময়ের মতোই সাবলীল । মজা দিয়েছেন দর্শককে ৷ সত্যিকারের মায়েরা যেমন হয় তেমনই শকুন্তলা বড়ুয়া । কিছুক্ষণের জন্য এসে পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীপর্ণা রায়, পার্থ ভৌমিক, অম্বরীশ ভট্টাচার্য ছক্কা হাঁকিয়ে চলে গেলেন । জীবনের প্রথম ছবিতে যথেষ্ট সাবলীল জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু । ভালো মানিয়েছে দেবের পাশে । তবে, কেমেস্ট্রি জমতে জমতেও জমল না । দর্শক এঁদের দুজনের একটা রোম্যান্টিক গান আশা করতে বাধ্য । 'প্রজাপতি 3' এলে হয়তো অভিজিৎ সেন সেই ঘাটতি পূরণ করে দেবেন । চোখ সেদিকেই থাকবে ।
অনুমেঘার ভাঙা ভাঙা বাংলা সংলাপ মিষ্টতায় ভরপুর । তাকে রপ্ত করতে হয়েছে তা বোঝা যায় । দিনদিন সে যেভাবে নিজেকে তৈরি করছে তাতে এই মেয়ে লম্বা রেসের ঘোড়া । অতি সাধারণ যুবকের ইমেজ ফুটিয়ে তুলেছেন দেব । চাকরি না থাকা যুবকের চোখমুখের অভিব্যক্তি দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি । একইসঙ্গে বাবার জন্য অসম্ভব চিন্তা ফুটে উঠেছে তাঁর চোখে মুখে । আর মিঠুন চক্রবর্তী ? থাক, সেই নিয়ে কথা না বলাই ভালো । তাঁর চোখ কথা বলেছে এই ছবিতে । তাঁর সংলাপ বরাবরই দর্শককে টানে । এবারেও দর্শককে নিরাশ করেননি তিনি ।
বিদেশের দৃশ্য থেকে জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সুরে গান এবং রথীজিৎ ভট্টাচার্যের আবহ আরও মরমী করে তুলেছে ছবিকে । দর্শকের প্রাপ্তি এগুলোই ।
আর অপ্রাপ্তির কথা বলতে গেলে দেব-জ্যোতির্ময়ীকে আরও একটু বেশি সময় একসঙ্গে পর্দায় দেখা গেলে নতুন জুটির স্বাদটা পাওয়া যেত । আর হইহই করে যে জীবনে বাঁচতে চেয়েছিল তার শেষ পরিণতি হইহই করে হলেই দর্শকের মুখে শেষ অবধি হাসিটা বজায় থাকত । তবে, সিনেপ্রেমীরা বলছেন, এ ছবি দেখলে টাকা নষ্ট হওয়ার কোনও চান্স নেই ।

