দেবলীনার একাধিক ঘুমের ওষুধ খাওয়া নিয়ে বিতর্ক ! মুখ খুললেন চিকিৎসক ও দিদি
দেবলীনার চরম পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় সোশাল মিডিয়া এখন তোলপাড়।

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : January 8, 2026 at 10:58 AM IST
|Updated : January 8, 2026 at 11:36 AM IST
কলকাতা, 8 জানুয়ারি: একাধিক ঘুমের ওষুধ খেয়ে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন ইউটিউবার তথা গায়িকা দেবলীনা নন্দী। কারণ হিসাবে উঠে আসছে দাম্পত্য কলহ। স্বামী প্রবাহ নন্দীর নাকি শর্ত ছিল- দেবলীনাকে তাঁর মায়ের সঙ্গ ছাড়তে হবে। দেবলীনার চরম পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় সোশাল মিডিয়া এখন তোলপাড়। কেউ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ সমালোচনা উগড়ে দিচ্ছেন।
এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন দেবলীনা। তাঁর চিকিৎসা করছেন ডা. অতনু পাল। এখন কেমন আছেন দেবলীনা, তা জানতে সেখানে হাজির হয় ইটিভি ভারত। দেবলীনার দিদি শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস বলেন, "বোন এখন অনেকটা ভালো আছে। ওর সঙ্গে আজ সকালে কথা বলে আমার খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু ট্রমার মধ্যে আছে। ডাক্তার ওকে ফোন থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে বলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নানারকমের কমেন্ট, পোস্ট ওর মনে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট তৈরি করছে। বোঝানোর চেষ্টা করেছি, মোটিভেট করার চেষ্টা করেছি ওকে। সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোস্ট, কমেন্ট দেখলে ওর মন খারাপ হচ্ছে। তাই ওকে ফোন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছি। ডাক্তার ফোন থেকে ওকে দূরে রাখতে বলেছেন। বরং গল্প করতে বলছেন ওর সঙ্গে। ডাক্তার ওকে গান শুনতে বলেছেন।"
তিনি আরও বলেন, "দেবলীনার স্বামী প্রবাহ এখনও কোনও যোগাযোগ করেননি। ওদের বাড়ির কেউই যোগাযোগ করেননি। তবে, প্রবাহর এক বৌদি যোগাযোগ করেছিলেন। জানতে চেয়েছেন কেমন আছে দেবলীনা।" এতগুলো ঘুমের ওষুধ খাওয়া প্রসঙ্গে যে বিতর্ক তা নিয়ে দেবলীনার দিদি শর্মিষ্ঠা জানান, "78 টি ঘুমের বড়ি খেয়েও কি একজন মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব? যাঁরা বলছেন তাঁদের বলি, বানিয়ে কিছুই বলা হচ্ছে না। সবকিছুর প্রমাণ আছে। ডাক্তার বলেছেন অনেকগুলো ট্যাবলেট শরীরে গিয়েছে। ফলে, পুরো সুস্থ হতে একটু সময় লাগবে। বেশি করে জল খেতে বলেছেন ডাক্তার।"
শর্মিষ্ঠা আরও বলেন, "ওষুধের দোকান কীভাবে এতগুলো ওষুধ একসঙ্গে দিল সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠছে দেখছি। একটা মানুষ এক বছর ধরে অত্যাচারিত হচ্ছে। সে হয়তো মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিল এমন কিছু করবে। আমার মনে হয় সেভাবেই রেডি হচ্ছিল আমার বোন।" থানায় অভিযোগের প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, "আমরা চন্দননগর থানায় গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের পাঁচ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। আমাদের অভিযোগ করা হয়নি। দেখা যাক। আমরা এক্ষুণি কিছু বলতে পারছি না। বোনের উপর সব নির্ভর করছে। ও তো এখনও সংসার করতে চায়। ভালোবাসে প্রবাহকে। কাল রাতেও প্রবাহকে ফোন করতে চেয়েছে।"
দেবলীনার ঘুমের ওষুধ খাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ৷ বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. অভিজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, " ওষুধ খাওয়ার পর কী কী উপসর্গ হচ্ছে আর কে খাচ্ছে সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন কমবয়সি কেউ খেলে তার ক্ষতি হওয়ার চান্স কম। একজন 70-80 বছর বয়সি লোক খেলে তার অসুবিধা হওয়ার চান্স বেশি। একজন মানুষের ব্যাকগ্রাউন্ডে কী অসুখ আছে তার উপরেও নির্ভর করে ক্ষতিটা কতখানি হবে। আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞানে ওষুধ এবং বিষের ক্ষেত্রে কার কী ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হবে তা অঙ্ক করে বলা যায় না।"
- জীবন শেষ করে দেওয়া কোনও সমাধান নয়
যদি আপনার মধ্যে কখনও চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার চিন্তা মাথাচাড়া দেয় বা আপনার কোনও বন্ধু বা পরিচিত এই সমস্যায় জর্জরিত হন, তাহলে ভেঙে পড়বেন না। জানবেন, এমন কেউ আছে যে আপনার যন্ত্রণা, আপনার হতাশা ভাগ করে নিতে সদা-প্রস্তুত। আপনার পাশে দাঁড়াতে তৎপর। সাহায্য পেতে দিনের যে কোনও সময়ে 044-24640050 এই নম্বরে কল করুন স্নেহা ফাউন্ডেশনে। টাটা ইন্সটিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সের হেল্পলাইন নম্বরেও (9152987821) কল করতে পারেন। এখানে ফোন করতে হবে সোমবার থেকে শনিবার সকাল 8টা থেকে রাত 10টার মধ্যে।
'মদন মিত্র ইজ দ্য সাবজেক্ট অফ ট্রোলিং'- দেবলীনাকে দেখতে এসে কেন বললেন বিধায়ক?

