পিয়া সেনগুপ্তকে 'ফাইল চোর' স্লোগান ! পুলিশের দ্বারস্থ অসুস্থ ইম্পা সভাপতি
বেশ কয়েকদিন ধরেই পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন প্রযোজক-পরিবেশকদের একাংশ। শুক্রবার সেই উত্তাপ আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেল ৷

Published : May 22, 2026 at 10:00 PM IST
কলকাতা, 22 মে: পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার ফের উত্তপ্ত ইম্পা অফিস। সভাপতির উদ্দেশ্যে শোনা গেল 'ফাইল চোর' স্লোগান। অসুস্থ হয়ে পড়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন প্রযোজক-পরিবেশকদের একাংশ। কয়েকদিন ধরেই দফায় দফায় চলছে মিটিং।
দাবি একটাই পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগ এবং নতুন কমিটি গঠন। তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগও উঠেছে ৷ কিন্তু তাঁর সভাপতি পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা 2027 সালের সেপ্টেম্বর মাসে। তাঁর আগে পদ ছাড়তে নারাজ পিয়া ৷ তিনি চান, নির্দিষ্ট সময়ে ভোটের মাধ্যমে পরবর্তী সভাপতি ঠিক হোক। আর্থিক তছরুপের অভিযোগ নিয়ে তাঁর পাল্টা দাবি, আগে প্রমাণ দেখাতে হবে ৷ কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে বেরিয়ে পিয়া সেনগুপ্ত যান বৌবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করতে।
এমনই আবহে শুক্রবার চতুর্থ বারের জন্য সমস্ত সদস্যদকে নিয়ে সাধারণ বৈঠক করার ডাক দেন ইম্পা সভাপতি। কিন্তু কোথায় বৈঠক? বৈঠকের বদলে রীতিমতো ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল সংগঠনের অফিসে। দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষও হল ৷ পিয়ার অভিযোগ, "ইম্পার সদস্য নন এমন অনেকেও বৈঠকে হাজির ছিলেন ৷" আরও অভিযোগ, বৈঠকে তাঁকে অপমান করা হয়েছে এবং তাঁর দিকে নাকি পরিচালক অতনু বসু-সহ কয়েকজন তেড়ে গিয়েছেন। পুলিশের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন পিয়া। তাঁর কথায়, "আমার সঙ্গে অভব্য আচরণ করা হয়েছে। ওঁরা তেড়ে এসেছেন আমার দিকে। ওঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে যাব। অনেক সহ্য করেছি, আর নয়।"

বিরোধীপক্ষের প্রযোজকদের মধ্য অন্যতম শতদীপ সাহা মিটিং চালিয়ে যাওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করেন পিয়াকে। শতদীপের অভিযোগ, "এদিন বারবার মিটিং ছেড়ে উঠে যাচ্ছিলেন পিয়া সেনগুপ্ত। শেষবার এসে কিছু ফাইল হাতে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। সকলেই তার সাক্ষী। আমরা একটা শান্তিপূর্ণ সংগঠন চাই, বাংলা সিনেমার স্বার্থে। আজ অধিকাংশ সদস্য এসেছেন। তাঁরা পিয়া সেনগুপ্তর বিপক্ষে। তাই আমরা পিয়া সেনগুপ্তকে সরে যেতে বলছি। যতদিন না ভোট হয় ততদিন রতন সাহা সভাপতিত্বে থাকবেন। সময়মতো ভোট হবে। তারপরে সেই অনুযায়ী কমিটি গঠন হবে।"
কেন বৈঠক মাঝপথে ছেড়ে ফাইল হাতে বেরিয়ে যান পিয়া সেনগুপ্ত ? তাঁর জবাব, "অনেক বাইরের লোক ঢুকে পড়েছিল। তাঁরা পুলিশের সামনেই তেড়ে আসছে ন! এমতাবস্থায় কী করে মিটিং করব? এটা কি তৃণমূল বা বিজেপি বা সিপিএমের পার্টি অফিস নাকি যে বাইরে থেকে লোক এনে হাঙ্গামা করবে? "

পিয়া বেরিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের উপস্থিতিতে ফের মিটিং শুরু হয়। সেখানে ধ্বনিভোটে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে রতন সাহার নাম শিলমোহর দেন সদস্যরা । কিন্তু তা মানতে অস্বীকার করেন বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। তাঁর দাবি, "যেরকম গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আমি নির্বাচিত হয়েছি, সেভাবেই আমাকে সরানো হোক। ওঁরা পুলিশকেও মানছেন না ! নিজেরাই কমিটি গঠন করবেন বলে ঠিক করেছেন। আমরা আইনের পথে হাঁটব। আইনি লড়াই হবে।"

