ETV Bharat / entertainment

'সবকিছু উপেক্ষা করে শুধু একটা পোশাক নিয়ে এত কথা!' ঋতুপর্ণার বেগুনী গাউন বিতর্কে মুখ খুললেন চৈতি

'নেভার মাইন্ড'-এর প্রিমিয়ারে ঋতুপর্ণার পরনে ছিল একটি বেগুনি গাউন ৷ অভিনেত্রীর এমন পোশাক নির্বাচন নিয়ে চর্চা চলে নেটপুলিশদের ৷

chaiti-ghoshal-reacts-on-trolling-rituparna-sengupta-in-nevermind-cinema-premiere
ঋতুপর্ণার বেগুনী গাউন বিতর্কে মুখ খুললেন চৈতি (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : July 8, 2026 at 4:45 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 8 জুলাই: বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়ে না। এবার নতুন করে আবার বিতর্কের মুখে পড়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Rituparna Sengupta)। যদিও ট্রোলিং, বিতর্ক এসব কিছুকে পাত্তা দেন না বলে বারবারই ইন্টারভিউতে বলে থাকেন তিনি। আর এবার সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা ছবি 'নেভার মাইন্ড'-এর প্রিমিয়ারে এসেও পোশাক নিয়ে ট্রোলিংয়ের শিকার হলেন ঋতুপর্ণা। উল্লেখ্য, এই ছবিতে শুধু অভিনয়ই নয়, প্রযোজনাও করেছেন তিনি।

'নেভার মাইন্ড'-এর প্রিমিয়ারে ঋতুপর্ণার পরনে ছিল একটি বেগুনি গাউন, তাঁর গায়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সেই পোশাকে তিনি কিছুটা অস্বচ্ছন্দ্য বোধ করছিলেন বলে দাবি নেটিজেনদের। তা ছাড়া পোশাকের সঙ্গে টাইট করে পনিটেল বেঁধেছিলেন ঋতুপর্ণা। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়, ঋতুপর্ণার বেগুনি গাউন পরা ছবি। সেই ছবি দেখে অনেকেই বলেছেন যে, ঋতুপর্ণা বেগুনি গাউনে এতটাই অস্বচ্ছন্দ যে তিনি নিজের শ্বাস বন্ধ করে ক্যামেরায় পোজ দিচ্ছেন।

অনেকে আবার বলেছেন, পোশাক নির্বাচনের সময়ে তাঁর নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রাখা উচিত ছিল। ঋতুপর্ণা সত্যিই স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট সচেতন এবং বয়স বাড়লেও তিনি তন্বী রয়েছেন। তবে এই পোশাকটি পরে তিনি একেবারেই স্বচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরাও করতে পারছেন না। সেই কারণে তাঁর এই পোশাক নির্বাচন করা উচিত হয়নি।...
ঋতুপর্ণা অবশ্য বলেছেন, তিনি চরিত্রের থিম মেনেই পোশাক পরেছেন। টলিকুইনকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে কথা যেন বন্ধই হচ্ছে না।

এবার এই বিষয়টি নিয়ে এবার ইটিভি ভারতের কাছে মুখ খুললেন ছবির পরিচালক চৈতি ঘোষাল। এটাই তাঁর পরিচালনায় প্রথম ছবি। 2 জুলাই মুক্তি পেয়েছে চৈতি ঘোষাল পরিচালিত 'নেভার মাইন্ড'। সেই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। আর তাঁর সঙ্গেই অভিনয় করেছেন চৈতি পুত্র অর্মত্য। চৈতী বলেন, "আমি একজন নতুন পরিচালক। অনেক কষ্ট করে ভেবেচিন্তে একটি গল্প নির্মাণ করেছি। বহু মানুষ কথা বলছেন ছবিটা নিয়ে। ছবিটা দেখছেনও। ফেসবুকে এমন কোনও মানুষ নেই যে এই ছবিটাকে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন। অনেকে বক্তব্য রাখছেন ছবির ভালো মন্দ দিক নিয়ে। বক্তব্য থাকতেই পারে। আর তাকে আমি স্বাগত জানাই। কিন্তু কথা হল ছবিটা নিয়ে ভীষণ পজিটিভ রি-অ্যাকশন পাচ্ছি।"

অভিনেত্রী-পরিচালক আরও বলেন, "অনেকে নিজেদের ছোটবেলার কথা লিখছেন। অনেকে পার্কস্ট্রিটের কথা লিখছেন। পাশাপাশি ছবিতে শেষের মোচড় নিয়ে মানুষ কাঁদছেন সিনেমা হলে। আমার কথা হল, এই সবকিছু উপেক্ষা করে শুধু একটা পোশাক নিয়ে এত কথা? একজন নতুন পরিচালকের কাজ, অভিনেতার কাজটাকে তারা ধরতব্যের মধ্যেই ধরছে না! সমানে ট্রোল করে যাচ্ছে। শুভাশিস মুখোপাধ্যায়কে এভাবে কোন ছবিতে দেখা গেছে আমাকে বলা হোক। সুদীপা, কুশল সকলেই নিজের নিজের জায়গায় অনবদ্য। একটা বাচ্চা ছেলে সে সারা ভারত জুড়ে নাম করল 'ময়দান' ছবিতে চূনী গোস্বামীর চরিত্রে অভিনয় করে। 'উড়োচিঠি' মতো ছবির মাধ্যমে তার ডেবিউ। তাকে বলা হল সেলেব কিড। তাই তাকে ছবিতে নেওয়া হয়েছে এবং নেওয়া অন্যায় হয়েছে। কিছুই না জেনে কেন এসব কথা?"

চৈতী ঘোষাল আরও বলেন, " ঋতুর পোশাক হয়তো অনেকের ভালো লাগেনি। আমাদেরও তো অনেককিছু ভালো লাগে না। যখন শুধু পোশাক আর ট্রোলিং নিয়ে কথা হয় আমরা তো ইগনোরই করি। তারপরে সেটা যখন একটা বিরাট আকারে পৌঁছে যায় যার কোনও ফল নেই, তখন মুখ খুলি। এমন নয় যে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এর পর থেকে ওই ট্রোলারদের পছন্দ অনুযায়ী জামাকাপড় পরবে। ঋতুপর্ণা সেটাই পরবে যেটা তার ভালো লাগে। আমি যে গল্প পছন্দ করব সেটা দিয়েই ছবি করব। এমন অনেক অনেক ইতিহাস আছে যে এরকমভাবে বেনোজল ঢুকে নষ্ট করে দিয়েছে কত ভালো ভালো কাজ। কত ভালো কাজ আসতেও বাধা পায়। সবার যেমন গল্প বলার অধিকার আছে। তেমনি কে কী পোশাক পরবে সেটা তার নিজস্ব পছন্দ। সে কী পরবে নিজে ঠিক করবে কেউ ঠিক করে দেবে না। ঋতু কী পরবে ও নিজে ঠিক করবে। আর আমি কী ছবি বানাবো তা আমি ঠিক করব। আমাদের এই ছবিটা একটি নামী ফেস্টিভ্যালে ভারতবর্ষের ছবি হিসেবে সিলেক্ট হয়েছে। সেই নিয়ে তো একটাও কথা নেই!"

আরও পড়ুন