শুরু 'সতীপীঠ কালীঘাট'-এর শুটিং, ধারাবাহিক রইল সুব্রত রায়ের হাতেই
শুরু হয়েছে 'সতীপীঠ কালীঘাট'-এর শুটিং। টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োতে তপন সিনহা ফ্লোরে চুটিয়ে চলছে ধারাবাহিকের শুটিং।

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : August 6, 2026 at 11:13 AM IST
কলকাতা, 6 অগস্ট: শুরু হয়ে গিয়েছে 'সতীপীঠ কালীঘাট'-এর শুটিং। টেকনিশিয়ান্স স্টুডিয়োতে তপন সিনহা ফ্লোরে চুটিয়ে চলছে ধারাবাহিকের শুটিং। রয় সিনেওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের প্রযোজনাতেই আসছে এই ধারাবাহিক। কিছুদিন আগে এই ধারাবাহিকের কাহিনি ও চিত্রনাট্য নিয়ে বেশ জটিলতা তৈরি হয়। লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের এই ধারাবাহিকের প্রযোজক সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ থেকে ধারাবাহিকটিকে প্রযোজনা সংস্থা রয় সিনেওয়ার্কস প্রাইভেট লিমিটেডের হাত থেকে সরিয়ে নেওয়ার জল্পনায় টলিপাড়ায় চলছিল জোর চর্চা।
এমনও শোনা গিয়েছিল যে গোটা প্রজেক্টের দায়িত্ব নিজেদের ইনহাউস টিমের মাধ্যমে পরিচালনা করবে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলটি। টলিপাড়ায় সবাই একপ্রকার ধরেই নিয়েছিলেন যে এই প্রজেক্টের সঙ্গে আর কোনওভাবেই জড়িত থাকবেন না সুব্রত রায়। কিন্তু না, সব জল্পনা উড়িয়ে 'সতীপীঠ কালীঘাট' রইল সুব্রত রায়ের হাতেই। 4 অগস্ট বেলা 1টায় ছিল সবার কলটাইম। সেদিন থেকেই শুরু হয়েছে 'সতীপীঠ কালীঘাট'-এর শুটিং। সুব্রত রায়ের সঙ্গে কথা বলে ইটিভি ভারত। তিনি নিজেই জানান, ধারাবাহিক রয়েছে তাঁর হাতেই। শুটিং শুরু হয়েছে। সম্প্রচারও শুরু হবে শীঘ্রই। সময়মতো তা জানাবে চ্যানেল। তিনি এও জানান, গল্পের নায়িকার দুটি বয়স দেখানো হবে। তবে, কারা রয়েছে সেই চরিত্রে, তা গোপনই রাখলেন প্রযোজক।
প্রসঙ্গত, লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে তাঁর একটি দীর্ঘ পোস্টে অভিযোগ তোলেন, ধারাবাহিকটির মূল কাহিনি নির্মাণের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মানী মেলেনি। এমনকি পোস্ট-ডেটেড চেক দেওয়া হলেও ব্যাঙ্কে জমা দিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। নিজের দাবির সমর্থনে একাধিক স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছিলেন লেখিকা। সেই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই প্রযোজনা সংস্থাকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক, আর তারই জেরে 'সতীপীঠ কালীঘাট'-এর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

সুব্রত রায়ও পালটা জানান, দেবারতি মুখোপাধ্যায় 'সতীপীঠ কালীঘাট'-এর কাহিনি লেখার জন্য (যা আদতে ব্যবহারই করা হয়নি) যে অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন (1 লক্ষ টাকা), সেই টাকা তিনি তাঁর অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিয়েছেন। টাকা মেটানোর সব প্রমাণও দেন সুব্রত রায়। তিনি আরও জানান, দেবারতি মুখোপাধ্যায়কে যে ই-মেলটি তিনি পাঠিয়েছিলেন, তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, তাঁর লেখা গল্পটি অনুমোদিত হওয়ার পরেই তাঁকে স্টোরি রাইটার হিসেবে নিযুক্ত করা হবে। তিনি যে গল্পের খসড়া জমা দিয়েছিলেন, তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি অনুমোদিত হয়নি এবং সে সিদ্ধান্ত তাঁকে অল্প সময়ের মধ্যেই জানিয়েও দেওয়া হয়।
টেলিভিশন জগতে গল্পের ধারণা বা খসড়া গ্রহণ বা বাতিল হওয়া সৃজনশীল প্রক্রিয়ার একটি স্বাভাবিক ও প্রচলিত অংশ। প্রতিষ্ঠিত শিল্প-রীতি অনুযায়ী, যে গল্পের খসড়া অনুমোদিত হয়নি, তার জন্য প্রযোজকের পারিশ্রমিক প্রদান করার কোনও বাধ্যবাধকতা থাকে না। তিনি আরও জানান, দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের জমা দেওয়া খসড়ার কোনও অংশই এই ধারাবাহিকে ব্যবহার করা হয়নি। ফলে তাঁর গল্প চুরি বা প্ল্যাজিয়ারিজম করা হয়েছে-এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য। ধারাবাহিকটি সম্প্রচারিত হলে বিষয়টি সকলের কাছেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
অনুমোদিত না হওয়া একটি গল্পের খসড়ার জন্য তাঁকে কোনও পারিশ্রমিক দেওয়ার আইনি বা চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা তাঁর ছিল না বলেই জানান তিনি। তবুও, তাঁর সময় ও পরিশ্রমের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং সম্পূর্ণ সদিচ্ছা থেকে তিনি তাঁকে কিছু অর্থ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। যে অর্থ সুব্রত রায় দেবারতিকে পারিশ্রমিকের কারণে দিতে চেয়েছিলেন তিনি তাঁর দ্বিগুণ দাবি করেন। সুব্রত রায়ের জোড়ালো যুক্তি, প্রথমত, টাকা তাঁকে দেওয়ারই কথা নয়। দ্বিতীয়ত উনি যে অঙ্কের টাকা তাঁর কাছে দাবি করেন তা সেই মুহূর্তে দেওয়া কার্যত বেশ কঠিন ছিল বলেই জানান সুব্রত রায়। তবুও দেবারতিকে তিনি চেক দেন এবং বলেন, কয়েকদিন পরে তা ব্যাঙ্কে জমা করতে। কেননা সেই সময়ে অত টাকা গচ্ছিত ছিল না তাঁর অ্যাকাউন্টে। সুব্রত রায়ের কথায়, দেবারতি সময়ের আগেই চেক ব্যাঙ্কে ফেলে আসেন। ফলে, চেক বাউন্স হয় এবং সামাজিক মাধ্যমে সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ আনেন।
সুব্রত রায় আরও জানান, এই বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত ই-মেল এবং অন্যান্য যোগাযোগের সম্পূর্ণ নথি তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু পেশাগত আলোচনার সময় আদান-প্রদান হওয়া ব্যক্তিগত যোগাযোগ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করতে নারাজ তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যথাযথ আইনগত ও পেশাগত প্রক্রিয়া বিদ্যমান।
জনসমক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে করা মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতেও প্রস্তুত তিনি। প্রযোজকের দাবি, "আমি সবসময় লেখক ও সৃজনশীল ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সম্মান করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হবে।"
ধারাবাহিকের প্রোমো এসে গিয়েছে বেশ অনেকদিন হল। ইতিমধ্যেই তা দর্শকের নজর কেড়েছে। কালীঘাট মন্দিরের ইতিহাস, পুরাণ, লোকবিশ্বাস এবং বাংলার ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি এই মেগায় ইতিহাস ও পৌরাণিক উপাদানের মিশেল থাকছে।

