ETV Bharat / entertainment

নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতার মন পড়তে চান অঙ্কুশ ! কেন ? উত্তর লুকিয়ে 'নারী চরিত্র বেজায় জটিল'-এ

ঝন্টুর মতো একজন প্রেমিক কেন সব মেয়েরাই চাইবে, উত্তর লুকিয়ে 'নারী চরিত্র বেজায় জটিল' সিনেমায় ৷

ankush-hazra-oindrila-sen-starrer-nari-choritro-bejay-jotil-movie-highlights
মুক্তি পেয়েছে 'নারী চরিত্র বেজায় জটিল' (পোস্টার)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : January 10, 2026 at 12:10 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 10 জানুয়ারি: মুক্তি পেল অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলা অভিনীত সুমিত-সাহিল পরিচালিত 'নারী চরিত্র বেজায় জটিল' (Nari Choritro Bejay Jotil)। শুরুতেই দর্শককে নড়ে চড়ে বসাবেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। তাঁর কণ্ঠ গোটা ছবিতে। যাকে বলে সূত্রধর। ছবিটাকে শুরু থেকে শেষ অবধি ভয়েস ওভারে বুঝিয়ে দিলেন তিনি। এই নতুন ভূমিকাতেও অনবদ্য ছাপ রেখেছেন প্রসেনজিৎ।

উল্লেখ্য, মুক্তির আগের দিন দক্ষিণ কলকাতার নবীনা সিনেমা হলের সামনে এই ছবির অঙ্কুশ-ঐন্দ্রিলার 30 ফুটের কাট আউট ভাঙচুর করে জনাকয়েক কালো মাস্ক পরা মানুষ। অঙ্কুশ চারুমার্কেট থানায় অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন "আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব।" ছবিতে এই একই কথা অঙ্কুশ অর্থাৎ ছবির ঝন্টুকে বলতে শোনা গিয়েছে। তাও আবার স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেবের উদ্দেশ্যে। কেন বলেছেন তা জানতে হলে দেখতে হবে ছবিটা।

উত্তর কলকাতায় তস্য গলি থেকে বিদেশের শুটিং- ছবির দৃশ্যায়ন খুব ব্যালেন্সড। ঝন্টু চরিত্রে অঙ্কুশ বরাবরের মতো একইরকম। তবে, যত দিন যাচ্ছে ভাঙছেন তিনি নিজেকে। 'রক্তবীজ 2'-তে মুনির আলম চরিত্রে অন্য অঙ্কুশকে দেখেছে দর্শক। এই ছবিতে স্বভাবোচিত অঙ্কুশকে দেখলেও আরও পরিণত বলে মনে হবে। ওঁর কমেডি টাইমিং বরাবরই ভালো। নাচটাও শুরু থেকেই সাবলীল ওঁর। ওঁর মজাকে কখনও ছ্যাবলামি বলে মনে হয় না। ‘নারী চরিত্র বেজায় জটিল’ হাসানোর মাঝে জলও এনে দেয় চোখের কোণে।

ছবি দেখলে একবারও বলতে গিয়ে হোচট খাবেন না 'ঝন্টু (অঙ্কুশ) জিন্দাবাদ'। ঐন্দ্রিলা আরও পরিণত এবং চার্মিং। সোহাগ সেনের কিপটেমি আর মেজাজের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এমন স্নেহ জড়ানো অন্তর, ঠিক যেন নিজের ঠাম্মি! সোহিনী সেনগুপ্ত কোনওকালেই অভিনয় করছেন বলে মনে হয় না। এতটাই জীবন্ত তাঁর অভিনয়। ইপ্সিতা মুখোপাধ্যায়, দেবরাজ ভট্টাচার্য, কৌশিক চক্রবর্তী, নবনীতা মালাকার, অনন্যা সেনগুপ্ত, অর্পিতা মুখোপাধ্যায় প্রত্যেকেই নিজগুণে যথাযথ।

অঙ্কুশ অর্থাৎ গল্পের ঝন্টু প্রথমে কিছুতেই মেয়েরা কী চায় তা বুঝে উঠতে পারে না। তাদেরকে চরম জটিল মনে হয় ঝন্টুর। পরে মা কালীর চড়ে সে মেয়েদের মনের কথা জানতে শুরু করে। মা কালীর ভয়েস ওভার দিয়েছেন মানসী সিনহা। সবার আগে সে জানতে আগ্রহী 'দিদি' অর্থাৎ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন। তাই সে নবান্নে যেতে চায়। এছাড়াও এই 'পাওয়ার' পেয়ে সে আরও কী কী করে সেটাই দেখার।

বেশ কিছু দৃশ্যে খটকা লাগে। এই যেমন স্কুলের ভিতর রাতে ছাত্রীদের উপস্থিতির কারণ বোঝা গেল না। এরকম আছে আরও কয়েকটা দৃশ্য। মাঝেমধ্যে ছন্দপতন ঠাওর হলেও মজা আছে ভরপুর। তবে, ছবির গান মন ভরাবে। বেশ অনেকদিন পর মশলাদার বাংলা গানে মজেছে দর্শকরা ৷

ঐন্দ্রিলার সাজপোশাক বেশ নজরকাড়া। প্রিন্টেড ব্লাউজের সঙ্গে পাতলা সুতির শাড়িতে খুব সাদামাটা অথচ স্টাইলিশ ছোটপর্দার প্রিয় দুষ্টু ঐন্দ্রিলা। তবে, এই ছবির মূল আকর্ষণ অঙ্কুশ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 'নারী চরিত্র বেজায় জটিল'- এই ধ্যান ধারণা কি ভাঙবে অঙ্কুশের? প্রায় শেষ অবধি এই প্রশ্ন তুলবে ছবিটা। শেষে কী হয় সেটা জানতেই ছবিটা দেখতে পারেন। ঠকবেন না। একেবারে সহজ একটা ছবি। এই ছবি দেখে নারী এবং পুরুষ তাদের সম্পর্কের যাবতীয় জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। আর আলবাত সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে চাইবেন ঝন্টুর মতো একজন প্রেমিক, যে মেয়েদের মন পড়ে নেয় নিমেষে।