পরিবর্তনে বিশ্বাসী অঙ্গনা কী বললেন ' উইঙ্কল টুইঙ্কল'-এ অভিনয়, বিয়ে, যাদবপুর নিয়ে ?
কেমন ছিল নতুন ছবি 'উইঙ্কল টুইঙ্কল'-এ কাজ করার জার্নি ? শুনলেন ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি নবনীতা দত্তগুপ্ত ।

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : August 30, 2026 at 6:36 PM IST
|Updated : August 30, 2026 at 8:58 PM IST
কলকাতা, 30 অগস্ট: মাত্র পাঁচ বছর বয়সে 2003 সালে তরুণ মজুমদারের 'আলো' সিনেমা দিয়ে যাত্রা শুরু । এরপর লম্বা ব্রেক । লেখাপড়াতেই জীবন সঁপে দিয়েছিলেন লাজবন্তী-কন্যা অঙ্গনা রায় ।
এরপর আবার শুরু । একাধিক সিনেমা যেমন 'হোমকামিং', 'লুকোচুরি', 'পারিয়া' থেকে শুরু করে ওয়েব সিরিজ 'পাপ', 'তানসেনের তানপুরা', 'মোহমায়া', 'ইন্দুবালা ভাতের হোটেল', 'কুহেলি'-তে অভিনয় করেছেন ৷ আর এবার সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় 'উইঙ্কল টুইঙ্কল' ছবিতে অভিনয় করলেন তিনি । আগামী চার সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই ছবি । এই ছবিতে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা ইটিভি ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন অঙ্গনা ৷
ইটিভি ভারত: 'উইঙ্কল টুইঙ্কল' সিনেমাতে দর্শক কী দেখবে ? পুরোটাই নাট্যনির্ভর ?
অঙ্গনা: মূলত নাট্যনির্ভর । তবে, সিনেমার জন্য সিনেমার মতো করে কিছু জায়গা একটু অন্যরকম । আমি যতদূর বুঝি, ওই নাটকটা বলুন বা সিনেমাটা আজও সমান প্রাসঙ্গিক । পশ্চিমবঙ্গ এমনিতেই খুব রাজনৈতিক সচেতন একটা রাজ্য । প্রত্যেকের রাজনৈতিক মতামত আছে এখানে । যে সময়ে রিলিজ করছে তাতে পলিটিকাল সিনারিয়োটা এক না-হলেও পলিটিকাল মতামত যে সবার আলাদা হতে পারে সেটা দেখা যাবে এই ছবিতে । তাই এই ছবিটার সঙ্গে মানুষ আজকের দিনেও নিজেদের রিলেট করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস । ব্রাত্য বসুর লেখা এই নাটকটা শেষ মঞ্চস্থ হয় 2014 সালে । তখনও আমি কলেজে উঠিনি । তাই আমার দেখা হয়নি । তবে, ফাইনালি এটা ছবি হিসেবেও তৈরি হল, আর আমি তার অংশ । এটা ভেবেই ভালো লাগছে খুব । ইউটিউবে নাটকটার একটা ভার্সন আছে, আমি সেটা দেখেছি । নাটকের পাঁচ নম্বর খণ্ডটা আমি পড়েছি । ট্রেলারটা আসার পর বুঝতে পারছি মানুষের আগ্রহ আছে ছবিটা নিয়ে । 'উইঙ্কল টুইঙ্কল' বাবা-ছেলের গল্প । এখানে আমি সব্যসাচী সেনের মেয়ে ইন্দ্রাণীর চরিত্রে । সব্যসাচী সেন ভীষণরকমের বামপন্থী মানুষ । অনেক বছর পর সব্যসাচী সেন বাড়ি ফেরে । এসে দেখে মেয়ে বড় হয়ে গেছে । সবকিছুই প্রায় পালটে গেছে। পৃথিবীটাও অন্যরকম । কিন্তু সে একই আছে । ছেলের সঙ্গে রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে মতানৈক্য হয় তার । বাকিটা তো দেখতে হবে ।
ইটিভি ভারত: সৃজিত দা'র সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগল ? উনি নাকি বকেন মাঝেমাঝে ?
অঙ্গনা: কথাটা আমিও শুনেছি। কিন্তু না, আমি একবারও বকা খাইনি সৃজিত দা'র কাছে । আমি সৃজিত দা'কে এই নিয়ে প্রশ্ন করায় আমাকে বলেন, "আরে যারা স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করে আসে, যারা রেডি থাকে তাদের আমি বকব কেন?" তো আমার আর অনুসূয়া (মজুমদার) দি'র একটা জোক চলত ৷ আমাদের সৃজিতদা বকেননি । আর অনুসূয়া দি'কে নিয়ে তো বলতেই হয়, খুব ভালো মানুষ উনি । কত গুণী ! নাচ, নাটক, গান, অভিনয় সবেতে পারদর্শী মানুষ । অনেক কিছু শিখলাম ওঁর কাছ থেকে । আমি খুব খুশি ওঁর সঙ্গে এবং বাকিদের সঙ্গে এই ছবিতে কাজ করে ।

ইটিভি ভারত: 'আলো'র কথা মনে আছে ? আপনার প্রথম কাজ ছিল ওটা ।
অঙ্গনা: ওই সময়ে ওই একটিই কাজ করেছিলাম । তারপর তো লম্বা ব্রেক । তখন আমি পাঁচ বছরের । তরুণ মজুমদার তখন সম্ভবত আমার বয়সেরই বাচ্চা খুঁজছিলেন আলোর মেয়ের জন্য । যার লম্বা চুল থাকবে, খিলখিল করে হাসে । আমি একদিন এমনিই স্টুডিয়োতে গিয়েছি মায়ের সঙ্গে । মা আমাকে এসব থেকে দূরেই রাখত । আমার আগে অনেক চুল ছিল । আর সেদিনই মা আমার বাটি ছাট করে দিয়েছিল । মাকে বলেছিলাম, কেন চুল কেটে দিলে ? তারপর আমি চান্স পাই ওই ছবিতে। কিছুই বুঝি না তখন । আমি যে 'দ্য তরুণ মজুমদার'-এর সঙ্গে কাজ করছি সেটা বোঝারই ক্ষমতা হয়নি আমার । আমাকে বললেন, চকলেট খাবে ? একটু হেসে দেখাও তো । এটুকুই মনে আছে । আর হ্যাঁ, বোলপুরে শুটিং করতে গিয়েছিলাম । একটা মোটা দড়ি দিয়ে দোলনা লাগানো ছিল । আমাকে দোলনার ওই দড়িটা ধরে দুলতে হচ্ছিল । আমি ধরতেই পারছিলাম না দড়িটা । হাত তো ছোট । তরুণ স্যার এসে আমার হাতে ক্রিম লাগিয়ে দিয়েছেন একাধিকবার । এতটাই কেয়ারিং ছিলেন উনি ।
ইটিভি ভারত: 'বিগ বস'-এ ডাক পেয়েছিলেন নাকি ?
অঙ্গনা: হ্যাঁ ডেকেছিল তো । আমি যাইনি। আগামী দু'তিন মাসে আমার জন্য যা যা ঠিক হয়ে আছে তার সঙ্গে এটা ম্যাচ করত না । এতটা লম্বা সময় দিতে পারব না । এত বছর পরে বাংলার বিগ বস হচ্ছে, এক্সাইটেড আমিও । ভাবুন তো, একদিকে 'দাদাগিরি' অন্যদিকে 'বিগ বস', দুই দিকে দুই দাদা। একদিকে সৌরভ গাঙ্গুলী অন্যদিকে দেব দা । হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে এবার । ফাটাফাটি ব্যাপার বাংলা টেলিভিশনে ।
ইটিভি ভারত: আগামীর প্ল্যান কী ? মানে পরিচালনায় ইচ্ছা আছে?
অঙ্গনা: পরিচালনায় ইচ্ছা নেই । বম্বেতেও কাজের কথা চলছে । আমি সব ভাষাতেই কাজ করতে চাই । ওটা এক-দুই বছরে হবে না । সময় লাগবে পাঁচ-ছয় বছর । একটাই জীবন পেয়েছি । সব করব । যখন কাজ থাকে না হাতে, তখন নিজের উপরে কাজ করতে ভালোবাসি । নানা ধরনের জিনিস শিখি বা শেখা শুরু করি । গলার চর্চা করি, যেটা অভিনয়ের অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক । আমি কিছু না কিছুর মধ্যে থাকি সবসময় । বসে থাকি না । আমি আগামী মাস থেকে ড্রাইভিংটা শিখব ভালোভাবে । জানতাম, আরেকটু ঝালিয়ে নেব । এ বছর ওটিটিতে আমার কিছু কাজ রিলিজ করেছে ।ছবিও রিলিজ করছে । সব নিয়ে বছরটাও ভালো আমার ।
ইটিভি ভারত: যাদবপুর ইউনিভার্সিটি প্রসঙ্গে কী বলবেন ?
অঙ্গনা: আমি পরিবর্তনে বিশ্বাসী । অবশ্যই সেটা ভালোর দিকে । বারবার এই একটা ইউনিভার্সিটি সফট টার্গেট হয়ে যায়, যে কোনও কারণেই হোক । যে কোনও রাজ্যের নবীন প্রজন্ম আগামীর ভবিষ্যৎ । নিট কাণ্ড নিয়ে আমিও আমার মতো করে প্রতিবাদ করেছি । কারোর শিক্ষা নিয়ে ছেলেখেলা করা উচিত না।
ইটিভি ভারত: ছোটপর্দায় ফেরা হবে আবার ?
অঙ্গনা: আমি খুব কৃতজ্ঞ যে, আমি যে চ্যানেলে প্রথমবার কাজ করেছি কিছু না কিছু ভালো শুরু হলেই আমাকে বলে । ওরা বিশ্বাস করে আমি ভালো কিছু করতে পারি । কিন্তু আমি এখনই ছোটপর্দা করতে চাইছি না । তবে, অনেক ভালো ভালো কাজ হচ্ছে এখন টেলিভিশনে । আমার বন্ধু সুস্মিতা যে 'তিলোত্তমা' করছে, ওটার ট্রেলার আমার দারুণ লেগেছে । সেই দিন ফিরে আসছে যেটা দেখে বড় হয়েছি । আমি সিরিয়াল দেখে বড় হয়েছি । চেয়েছিলাম সিরিয়াল করব, করেওছি । তবে, এখন এই মুহূর্তে ইচ্ছে নেই ।
ইটিভি ভারত: বিয়ে কবে করছেন ? রোহণ কী বলছেন ?
অঙ্গনা: আমরা দুজনেই এই ব্যাপারে সহমত । এক্ষুণি না । বিয়ে তো করবই । তবে, দেরি আছে এখনও ।
ইটিভি ভারত: মা কাজের ব্যাপারে কোনও টিপস দেন?
অঙ্গনা: না কখনওই না । মা ভালো-খারাপ লাগলে বলে । আমার বড় সমালোচক । যখন কাজ শুরু করি তখনই বলে দিয়েছিল, যা করব আমাকে নিজেকেই করতে হবে । কোনও হেল্প মা করবে না । আমি যখন ক্লাস টেন-ইলেভেনে পড়ি অনেক সিরিয়াল থেকেও অফার এসেছে মায়ের কাছে আমাকে নেওয়ার জন্য। মা তাদের বলেছে ও এখন অনেক ছোট । বড় হয়ে করতে চাইলে করবে ।
ইটিভি ভারত: কখনও এমন হয়নি তো যে তোমার পাকা কাজ অন্যের কাছে চলে গেছে ?
অঙ্গনা: না এরকম সত্যিই হয়নি । তবে, কাজ পাকা আমি শারীরিক অসুস্থতার জন্য করতে পারিনি এমনটা হয়েছে ।

