ভারত-সহ 54 দেশের উপর ফের অতিরিক্ত শুল্ক চাপাতে চলেছে আমেরিকা
ভারতের উপর আরও শুল্ক চাপানোর ভাবনা মোদির 'বন্ধু' ট্রাম্পের ৷ ফের 54টি দেশের উপর বাড়তি অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের ।

By PTI
Published : June 3, 2026 at 1:42 PM IST
ওয়াশিংটন, 3 জুন: ভারত-সহ 54টি দেশের ওপর 12.5 শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (USTR)। সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির হাতিয়ার এবার 'বলপূর্বক শ্রম' !
54টি দেশের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া তদন্তের ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে ৷ ইউএসটিআর (USTR) অভিযোগ করেছিল যে, এই দেশগুলো বলপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে ৷
এক বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, "বলপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি রোধে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা অগ্রহণযোগ্য। এটি এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, যেখানে আমেরিকান শ্রমিকরা বিশ্বমঞ্চে একটি অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে বাধ্য হন।" তিনি আরও বলেন, "আমরা আর এই বৈষম্য সহ্য করব না।"
জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারত ৷ শুধু থাই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তদন্ত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে মোদি সরকার ৷ ভারতের যুক্তি হল, এ ধরনের বিষয়গুলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
For nearly a century, the United States has prohibited the importation of goods made with forced labor. It is time for our trading partners to follow suit.
— United States Trade Representative (@USTradeRep) June 3, 2026
Today, Ambassador Greer determined that the acts, policies, and practices of 60 economies related to the failure to… pic.twitter.com/JWyRCDyXHL
গ্রিয়ার জানান, যদিও কিছু বাণিজ্য অংশীদার—যেমন USMCA-এর আওতায় বা 'পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি'-র (Agreements on Reciprocal Trade) মাধ্যমে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে—জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি বন্ধে প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ৷ তবুও আমাদের প্রতিটি বাণিজ্য অংশীদারকেই আরও বেশি কিছু করতে হবে, যাতে বাণিজ্যের ফলে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক শ্রমের চর্চা কোনওভাবেই পরোক্ষভাবে সুদৃঢ় না-হয়ে ওঠে।
ইউএসটিআর (USTR)-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত, চিন, জাপান, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন এবং সৌদি আরব-সহ 54টি দেশ বলপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে ৷
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো এবং পাকিস্তান—এই 6টি অর্থনীতি জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানির উপর বলবৎ থাকা নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। যেসব অর্থনীতি আংশিক বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু জোরপূর্বক শ্রমজাত পণ্যের আমদানি রোধের ব্যবস্থা নিয়েছে—সেইসব অর্থনীতির ক্ষেত্রে ইউএসটিআর 10 শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ৷
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "বাকি সব অর্থনীতির ক্ষেত্রে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি অতিরিক্ত শুল্কের হার হিসেবে 12.5 শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন।" এই 12.5 শতাংশ শুল্কের হার উল্লিখিত 54টি দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

