ETV Bharat / business

ছোট ব্যক্তিগত ঋণের চাহিদা বাড়ছে, তুলনায় কমেছে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার

বিভিন্ন ইতিবাচক পরিস্থিতি সত্ত্বেও উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশগুলির তুলনায় ভারতে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বা বিস্তারের হার কম।

Credit cards
কমেছে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার (প্রতীকী ছবি: ইটিভি ভারত)
author img

By PTI

Published : July 8, 2026 at 2:50 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

মুম্বই, 8 জুলাই: ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার হার কমে আসার মতো বিভিন্ন ইতিবাচক পরিস্থিতি সত্ত্বেও উন্নয়নশীল দেশগুলির তুলনায় এই দেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বা বিস্তারের হার কম। বুধবার একথা জানিয়েছেন ট্রান্সইউনিয়ন সিবিল-এর একজন শীর্ষকর্তা ৷

কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ একজিকিউটিভ ভাবেশ জৈন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, বৃহত্তর ঋণ ব্যবস্থায় এই পণ্যটির অবদান হ্রাস পেয়েছে; কারণ নতুন গ্রাহকদের মধ্যে মাত্র 8 শতাংশের আগে কোনো ঋণ নেওয়ার ইতিহাস ছিল না, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এই হার ছিল 26 শতাংশ।

তিনি জানান, ভারতে 5 কোটি 20 লাখ মানুষের কাছে ক্রেডিট কার্ড রয়েছে, যা ঋণ-সক্রিয় মোট জনগোষ্ঠীর (প্রায় 25 কোটি) মাত্র 25 শতাংশ ৷ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী মানুষের অনুপাত অনেক বেশি। ক্রেডিট তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে যে, কলম্বিয়ায় এই হার 62 শতাংশ, হংকংয়ে 98 শতাংশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 81 শতাংশ এবং ব্রিটেনে 70 শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকদের কাছে থাকা জামানতবিহীন ঋণের পণ্যগুলির মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের যে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তা এখন আর নেই; কারণ ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI) ও ব্যক্তিগত ঋণের মতো বিকল্প ব্যবস্থাগুলির সঙ্গে এখন এদের প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, বর্তমানে প্রতিটি ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ 2 শতাংশ পর্যন্ত 'মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট' (MDR) ধার্য করা হয় ৷ পাশাপাশি, লেনদেনের বিপরীতে ব্যবহারকারীরা 'রিওয়ার্ড পয়েন্ট'-এর মতো বিভিন্ন সুবিধাও পেয়ে থাকেন। এছাড়া, বর্তমানে ব্যবহারকারীরা ইউপিআই (UPI) অ্যাপগুলিতে ভিসা (Visa) বা মাস্টারকার্ড (Mastercard)-এর মতো অন্যান্য নেটওয়ার্কের ক্রেডিট কার্ড যুক্ত করতে পারেন না, যার ফলে এর ব্যবহার কেবল সরকারি উদ্যোগে চালিত RuPay নেটওয়ার্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

গত 10 বছরে, গ্রাহক সংখ্যা এবং বকেয়া ব্যালেন্স উভয় দিক থেকেই ভারতের ক্রেডিট কার্ড বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। 2016 সালের মার্চ থেকে 2026 সালের মার্চের মধ্যে, ক্রেডিট কার্ডধারীর সংখ্যা 1 কোটি 40 লক্ষ থেকে বেড়ে 5 কোটি 20 লক্ষ হয়েছে। এই সময়ে, কার্ডের মোট বকেয়া ব্যালেন্সও 0.4 ট্রিলিয়ন টাকা থেকে বেড়ে 3.1 ট্রিলিয়ন টাকা হয়েছে। দেশে সক্রিয় ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যাও পাঁচগুণ বেড়ে 2 কোটি 10 লক্ষ থেকে 10 কোটি 70 লক্ষে দাঁড়িয়েছে।

এই দশ বছরের তথ্য থেকে এটাও পরিষ্কারভাবে দেখা যায় যে, গ্রাহকরা আগের চেয়ে অনেক বেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছেন। এই কারণেই গ্রাহক প্রতি গড় কার্ড ব্যালেন্স 31,000 টাকা থেকে বেড়ে 65,000 টাকা হয়েছে। এই সময়ে, ক্রেডিট কার্ড বাজারের প্রসারের ফলে গ্রাহকদের জন্য উপলব্ধ ঋণের বিকল্পের সংখ্যাও বেড়েছে। 2016 সালের মার্চ মাসে দৈনন্দিন খরচের জন্য নেওয়া মোট ঋণের 56 শতাংশ ছিল কারেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে, যা 2026 সালের মার্চ নাগাদ কমে 38 শতাংশে দাঁড়ায়। ট্রান্সইউনিয়ন সিবিল-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, 91 থেকে 179 দিন ধরে বকেয়া থাকা ক্রেডিট কার্ডের পরিমাণ আগের বছরের 2 শতাংশ থেকে কমে 2026 সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে 1.7 শতাংশে নেমে এসেছে।

একইভাবে, এই সময়ে মোট ঋণের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ব্যালেন্সের অংশ 36 শতাংশ থেকে কমে 26 শতাংশ হয়েছে। উপভোক্তাদের ব্যয়ের ধরণেও পরিবর্তন এসেছে। 2016 সালের মার্চ মাসে প্রায় 50 শতাংশ গ্রাহক শুধুমাত্র ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতেন৷ কিন্তু, 2026 সালের মার্চ মাসে এই সংখ্যা কমে 33 শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, অন্যান্য ঋণের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যা 16 শতাংশ থেকে বেড়ে 32 শতাংশ হয়েছে। তিনটি বা তার বেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী গ্রাহকের সংখ্যাও 12 শতাংশ থেকে বেড়ে 22 শতাংশ হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে মানুষ এখন একাধিক কার্ড রাখতে পছন্দ করছেন।