ভারতের সঙ্গে জ্বালানি খাতে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী রাশিয়া: রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী
ভারত আর রুশ তেল কিনবে না, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবির পর রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বৃহস্পতিবার একথা বলেছেন ৷

By PTI
Published : October 16, 2025 at 7:39 PM IST
মস্কো, 16 অক্টোবর: ভারতের সঙ্গে জ্বালানি খাতে বাণিজ্য-সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে রাশিয়া আত্মবিশ্বাসী ৷ ভারত আর রুশ তেল কিনবে না, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবির পর রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বৃহস্পতিবার একথা বলেছেন ৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, নয়াদিল্লি তাঁকে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করার আশ্বাস দিয়েছে।
ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থা রাশিয়ার জ্বালানি খাতের দেখভালকারী আলেকজান্ডার নোভাককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, "আমরা আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখছি। আমাদের জ্বালানি সম্পদের চাহিদা রয়েছে। এটি অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর । আমি নিশ্চিত যে আমাদের অংশীদাররা আমাদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে, যোগাযোগ করবে এবং জ্বালানি খাতে বাণিজ্য-সহযোগিতা আরও বিকশিত করবে।"
ভারত-রুশ অপরিশোধিত তেলের বাণিজ্য সম্পর্কে ট্রাম্পের দাবির জবাবে নোভাক এই মন্তব্য করেছেন ৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারত তাৎক্ষণিকভাবে তেলের ক্রয় কমাতে নাও পারে, তবে সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।
রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বলেন, "আমাদের অংশীদাররা ঘোষণা করছে যে, কেউ তাদের উপর হুকুম দিতে পারবে না এবং তারা তাদের নিজস্ব পথ বেছে নেবে ৷ আমরা আজ সংবাদমাধ্যমে শুধুমাত্র এই প্রতিক্রিয়াই দেখতে পাচ্ছি ৷" ভারতে অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারীদের মধ্যে রাশিয়া শীর্ষে রয়েছে। ইন্টারফ্যাক্সের তথ্য অনুযায়ী, 2025 সালের প্রথম সাত মাসে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রফতানির পরিমাণ ছিল 87.5 মিলিয়ন টন, যা ভারতের মোট আমদানির 36.4 শতাংশ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, তিনি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমাতে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি খাতে বাণিজ্য সংক্রান্ত দাবির জবাব দিল ভারত ৷ নয়াদিল্লি তার স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া বলেছে যে, অস্থিতিশীল জ্বালানি পরিস্থিতিতে ভারতীয় গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা সর্বদা আমাদের অগ্রাধিকার। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভারত তেল ও গ্যাসের একটি প্রধান আমদানিকারক। অস্থির জ্বালানি পরিস্থিতিতে ভারতীয় গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা সর্বদা আমাদের অগ্রাধিকার। আমাদের আমদানি নীতি সম্পূর্ণরূপে এই উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তিনি জানান, আমাদের জ্বালানি নীতির দুটি উদ্দেশ্য রয়েছে: জ্বালানির স্থিতিশীল দাম এবং নিরাপদ সরবরাহ। এর মধ্যে রয়েছে আমাদের জ্বালানি উৎস সম্প্রসারণ এবং বাজারের পরিস্থিতি অনুযায়ী সরবরাহ করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "আমেরিকার কথা বলতে গেলে, আমরা বহু বছর ধরে আমাদের জ্বালানি ক্রয় বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছি। গত দশকে আমরা ধারাবাহিকভাবে অগ্রগতি করেছি। বর্তমান প্রশাসন ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আলোচনা চলছে।"
সম্প্রতি, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ভারত শুধুমাত্র তার নাগরিকদের জন্য সর্বোত্তম চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তিনি পশ্চিমা দেশগুলির দ্বৈত নীতির দিকেও ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, "ইউরোপের সমস্যাগুলি বিশ্বের সমস্যা, কিন্তু বিশ্বের সমস্যাগুলি ইউরোপের সমস্যা নয়— এই মানসিকতা থেকে তাদের বেরিয়ে আসা উচিত।"

