ইরানে মার্কিন হামলার জের, অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে বাড়ল 6 শতাংশের বেশি
ইরানের ওপর মার্কিন হামলার পাল্টা হরমুজ প্রণালীর কাছে তিনটি জাহাজের ওপর হামলার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম 6 শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছে।

Published : July 8, 2026 at 1:24 PM IST
হংকং, 8 জুলাই: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সৃষ্ট উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে ফের প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইরানের ওপর মার্কিন হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর কাছে তিনটি জাহাজে হামলার পর অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুড উভয়ের দামই 6 শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘটনাটি বিশ্ব বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে ৷ কারণ, হরমুজ প্রণালীকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ল 6 শতাংশের বেশি
সাম্প্রতিক লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় 78.80 ডলারে পৌঁছেছে ৷ অন্যদিকে, মার্কিন ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেল ব্যারেলপ্রতি 75 ডলারে লেনদেন হয়েছে। উভয় বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেলের দর প্রায় 6.4 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলিতে তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্তরে নেমে এসেছিল ৷ কিন্তু, নতুন করে শুরু হওয়া হামলা বিশ্ব বাজারে অনিশ্চয়তা ফের বাড়িয়ে তুলেছে।
ওমানের কাছাকাছি তিনটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। ওমান তার উপকূল ঘেঁষে একটি অস্থায়ী ট্রানজিট করিডোরের প্রস্তাব দিয়েছিল। তেহরান এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে৷ কারণ, তারা এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলির ওপর শুল্ক আরোপ করতে চায়। ইরানের বিদেশ মন্ত্রক দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করেছে এবং নিজস্ব স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের তেলের ওপর থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার পরপরই এই হামলাগুলি চালানো হয়।
হামলার পর উদ্বেগ কেন বাড়ল?
হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ ব্যাহত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এই অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে, বিশ্বজুড়ে অনেক দেশে তেল সরবরাহ প্রভাবিত হতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের ক্রয় বাড়িয়ে দিয়েছে, যার পরিণতিতে তেলের দামে তীব্র বৃদ্ধি ঘটেছে।
এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
ক্রমবর্ধমান তেলের দাম এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও এশিয়ার শেয়ার বাজারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। জাপানের নিক্কেই এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচকের দরপতন হয়েছে। তবে, হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকের সামান্য উত্থান ঘটেছে। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনাবলির ওপর নজর রাখছেন। বিশেষ করে, সকলের নজর রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির উপর ৷
ভারতের উপর এর প্রভাব কী হবে?
ভারত তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে। তাই, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে তা দেশের আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং পেট্রোল ও ডিজেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কীভাবে বাড়ে এবং তেলের বাজার কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখনও দেখার বিষয়।

