সপ্তাহে 2 দিন ছুটি কবে থেকে? কর্মীদের ধর্মঘটে টানা 5 দিন ব্যাঙ্ক বন্ধের আশঙ্কা
ব্যাঙ্ক কর্মচারী ইউনিয়নগুলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের দাবি পূরণ না হলে সারা দেশের ব্যাঙ্কগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে। ব্যাঙ্ককর্মীদের কী কী দাবি রয়েছে?

Published : January 5, 2026 at 4:18 PM IST
নয়াদিল্লি/কলকাতা, 5 জানুয়ারি: সারা দেশের সকল সরকারি ব্যাঙ্কে ধর্মঘট আসন্ন। ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি একদিনের ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে। ব্যাঙ্ক কর্মচারী ইউনিয়ন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের দাবি পূরণ না হলে সারা দেশের ব্যাঙ্কগুলি বন্ধ থাকবে। বছরের প্রথম মাসেই দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক ইউএফবিইউ-র ডাকে। সপ্তাহে 5 দিন কাজ করার দাবিতেই এই ধর্মঘটের ডাক বলে জানিয়েছে আহ্বায়করা। চলতি মাসে আগামী 27 তারিখ এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এদিকে 23 জানুয়ারি থেকে 26 জানুয়ারি পর্যন্ত 4 দিন এমনতেই বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্কের দরজা। ফলে লাগাতার 5 দিন ব্যাঙ্কের কাজকর্ম বন্ধ থাকার জেরে ব্যাপক ভাবে গ্রাহক ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়ছে।
ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (UFBU) ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি জানিয়েছে যে তাদের দাবি পূরণ না হলে তারা 27 জানুয়ারি ধর্মঘট করবে। ইউনিয়নগুলি পাঁচ দিনের কর্ম সপ্তাহ বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে। দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে 27 জানুয়ারি দেশব্যাপী ধর্মঘটের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ব্যাঙ্কিং কার্যক্রম পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে
27 জানুয়ারি যদি ব্যাঙ্ক ধর্মঘট হয়, তাহলে টানা পাঁচ দিন সরকারি ব্যাঙ্কগুলির কার্যক্রম প্রভাবিত হবে। আসলে, 23 জানুয়ারি থেকে 26 জানুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে ৷ এর মধ্যে 24 জানুয়ারি চতুর্থ শনিবার। 25 তারিখ রবিবার, তাই সারা দেশের ব্যাঙ্কগুলিতে সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। 26 জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস, তাই সারা দেশের ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে। যদি 27 জানুয়ারি ধর্মঘট হয়, তাহলে সেই দিনও ব্যাঙ্কগুলিতে কোনও কাজ হবে না। ফলে, টানা পাঁচ দিনের জন্য ব্যাঙ্কের কাজ বন্ধ থাকবে। অর্থাৎ, 23 জানুয়ারির পর ব্যাঙ্কগুলি সরাসরি 28 জানুয়ারিতে খুলবে।
ব্যাঙ্ককর্মীদের কী কী দাবি রয়েছে?
ব্যাঙ্ক কর্মচারীরা পাঁচ দিনের কর্মদিবসের নিয়ম বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন। তারা মাসে দুটি শনিবার ছুটি পান। তারা দাবি করছেন যে এটি সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন পর্যন্ত বাড়ানো হোক। আরবিআই, এলআইসি এবং জিআইসি ইতিমধ্যেই সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ করে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি অফিসগুলিও শনিবার বন্ধ থাকে। তাই, তারা দাবি করছেন যে তাদের জন্যও পাঁচ দিনের কর্মদিবসের নিয়ম বাস্তবায়ন করা হোক। এই দাবিতে, ইউএফবিইউ 27 জানুয়ারি, 2026 তারিখে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
ইউএফবিইউ একটি বিবৃতিতে বলেছে, "এটা দুর্ভাগ্যজনক যে সরকার আমাদের ন্যায্য দাবিতে সাড়া দিচ্ছে না। এতে কর্মঘণ্টার কোনও ক্ষতি হবে না৷ কারণ, আমরা সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন অতিরিক্ত 40 মিনিট কাজ করতে রাজি আছি।"

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইতিমধ্যেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, এলআইসি, জিআইসি ইত্যাদি সপ্তাহে 5 দিন কাজ করছে। এছাড়াও, বৈদেশিক মুদ্রা বাজার, মুদ্রাবাজার, স্টক এক্সচেঞ্জ ইত্যাদিও শনিবারে কাজ করে না। একইভাবে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি অফিসগুলিও শনিবারে কাজ করে না। তাই, ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের জন্যেও পাঁচ দিনের কর্মদিবসের নিয়ম বাস্তবায়নের দাবি ন্যায্য।
এই বিষয় অল ইন্ডিয়া ন্যাশনালাইজ ব্যাঙ্ক অফিসার্স ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাস বলেন, "কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত রক্ষায় আমরা সরকারি ব্যাঙ্ক বেসরকারি করণের বিরুদ্ধে পথে থেকেছি। ব্যাঙ্ক শূন্যপদ নিয়োগের দাবি করে এসছি পরিষেবা সুষ্ঠু করতে। তবে আমাদের নিজেদের এত বছরের কর্মী আধিকারিকরা যারা কাজ করে চলেছে তারা দীর্ঘ দিন কেন বৈষম্যের শিকার হবেন? তাই দীর্ঘ দিন দাবি করেছি, কেন্দ্রের বিভিন্ন বিভাগের মতো আমাদেরও সপ্তাহে 5 দিন কাজ করানোর জন্য। এতদিন সরকার দাবি শোনেনি তাই ফের বাধ্য হয় এই ধর্মঘটের পথে যাওয়া।"
ব্যাঙ্ক কর্মীদের সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দেওয়ার প্রসঙ্গে 2023 সালের ডিসেম্বরে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন (IBA) এবং ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির মধ্যে একটি চুক্তি স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দেওয়ার চুক্তিতে দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটির প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল যা কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অনুমোদন সাপেক্ষ। এই চুক্তির পরবর্তিতে, 8 মার্চ, 2024-এ ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশন এবং ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি একত্রিত হয়ে যে প্রস্তাব স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেটিতে শনিবার ও রবিবার ছুটি-সহ সপ্তাহে পাঁচ দিন ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। যদিও বিষয়টি এখনও কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিচারাধীন ৷
এসবিআই স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের (বেঙ্গল সার্কেল) প্রাক্তন ডেপুটি চিফ সেক্রেটারি তথা ব্যাঙ্ক বাঁচাও দেশ বাঁচাও মঞ্চের মুখপাত্র অশোক মুখোপাধ্যায় জানান, এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকারের তরফে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। সরকার এবং কর্মচারী ইউনিয়নের মধ্যে ক্রমাগত আলোচনা চলছে । তবে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ব্যাঙ্ক ধর্মঘট হলে তার কী প্রভাব পড়বে?
যদি ধর্মঘট হয়, তাহলে সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলি সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হবে। নগদ জমা, উত্তোলন, চেক ক্লিয়ারেন্স, ড্রাফট, পাসবুক এন্ট্রি এবং ঋণ সম্পর্কিত কাজ সবই প্রভাবিত হতে পারে। যাদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্কিং কাজ মাসের শেষ সপ্তাহে সম্পন্ন হয় তারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হবেন। যদিও ইউপিআই, মোবাইল ব্যাঙ্কিং এবং ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের মতো ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবাগুলি সাধারণত চালু থাকে, শাখা-সম্পর্কিত কাজ - যেমন নগদ লেনদেন বা নথি প্রক্রিয়াকরণ - ব্যাহত হতে পারে। বয়স্ক গ্রাহক এবং গ্রামীণ এলাকার গ্রাহকরা, যারা এখনও শাখার উপর খুব বেশি নির্ভর করেন, তারা আরও বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
ইউনিয়নগুলি বলছে, আলোচনার মাধ্যমে যদি কোনও সমাধান হয়, তাহলে ধর্মঘট এড়ানো যেতে পারে। কিন্তু যদি দাবিগুলি অমীমাংসিত থাকে, তাহলে গ্রাহকদের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে করার মতো জরুরি কাজ আটকে যেতে পারে৷

