ETV Bharat / business

ইন্ডিগোর প্রাথমিক লক্ষ্য পরিষেবা স্বাভাবিক করা, যা সহজ নয়: সিইও এলবার্স

কর্মীদের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় ইন্ডিগোর সিইও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বিমান সংস্থা তার গ্রাহকদের ভাল অভিজ্ঞতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি।

IndiGo CEO Pieter Elbers
ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স (ছবি: আইএএনএস)
author img

By PTI

Published : December 4, 2025 at 7:39 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 4 ডিসেম্বর: দেশের অন্যতম বৃহৎ বিমান পরিবহণ পরিষেবা সংস্থা ইন্ডিগো বর্তমানে এক বিরাট সঙ্কটের মুখোমুখি। দেশজুড়ে কোম্পানির শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে, বিলম্বিত বহু উড়ান। দেশীয় বাজারের 60 শতাংশেরও বেশি দখলে রাখা এই কোম্পানিটি বর্তমানে একটি পরিচালন সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছে, যা সংস্থার সুনাম নষ্ট করছে এবং এর ফলে বিপুল অর্থের লোকসান হচ্ছে। মঙ্গলবার এবং বুধবার ইন্ডিগোর 200টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে বিমান পরিবহণ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতির মধ্যে, ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স বৃহস্পতিবার বলেছেন যে, বিমান সংস্থার প্রাথমিক লক্ষ্য হল পরিষেবা স্বাভাবিক করা এবং সময়ানুবর্তিতাকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা, 'যা সহজ লক্ষ্য নয়'। কর্মীদের উদ্দেশ্যে এক বার্তায় ইন্ডিগোর সিইও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বিমান সংস্থা তার গ্রাহকদের ভাল অভিজ্ঞতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি।

দেশের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো গত কয়েকদিন ধরে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিষেবা বিভ্রাটের মুখোমুখি হচ্ছে এবং বৃহস্পতিবার 300টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ফ্লাইট মারাত্মকভাবে বিলম্বিত হয়েছে। ইন্ডিগোর পরিষেবা বিভ্রাটের জেরে দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং লখনউ-সহ দেশের অনেক বড় বিমানবন্দরে যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছেন।

এই পরিস্থিতিতে, বিমান পরিবহণ পরিষেবা সংস্থার সিইও পিটার এলবার্স জানান, গত কয়েকদিন ইন্ডিগোর অনেক গ্রাহক এবং কর্মীর জন্য খুব কঠিন সময় ছিল। তিনি বলেন, "আমরা প্রতিদিন প্রায় 3 লক্ষ 80 হাজার গ্রাহককে পরিষেবা দিয়ে থাকি এবং তাঁদের প্রত্যেকেরই অভিজ্ঞতা ভালো হোক, সেটাই চাই। গত কয়েকদিনে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারিনি এবং এর জন্য আমরা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইছি৷"

ইন্ডিগো সিইওর মতে, ছোটখাটো প্রযুক্তিগত ত্রুটি, সময়সূচী পরিবর্তন, প্রতিকূল আবহাওয়া, বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে বর্ধিত যানজট এবং সদ্য প্রকাশিত FDTL (ফ্লাইট ডিউটি ​​টাইম লিমিটেশন) নিয়ম বাস্তবায়ন-সহ বেশ কয়েকটি ব্যবস্থাপনাগত চ্যালেঞ্জের সমষ্টিগত চাপে বিমান সংস্থার পরিষেবার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ইন্ডিগো প্রতিদিন প্রায় 2,300টি ফ্লাইট পরিচালনা করে এবং 3 ডিসেম্বর এর অন-টাইম পারফরম্যান্স (ওটিপি) 19.7 শতাংশে নেমে আসে।

"আমাদের নেটওয়ার্কের আকার, স্কেল এবং জটিলতার কারণে, এই ব্যাঘাতগুলি তাৎক্ষণিকভাবে বড় হয়ে উঠেছে এবং বিভিন্ন স্তর এবং মাত্রায় হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এর জন্য এখনই প্রচুর কাজ করা হচ্ছে। আমাদের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হল আমাদের পরিষেবা স্বাভাবিক করা এবং আগামী দিনে সময়ানুবর্তিতাকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা, যা সহজ লক্ষ্য নয়।"

এই পরিস্থিতির নিরিখে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী AAI, ATC, DGCA এবং IndiGo কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন। ইন্ডিগোর বর্তমান সঙ্কটের আসল কারণ হল নতুন ফ্লাইট ডিউটি ​​টাইম লিমিট (FDTL) নীতির প্রতি তাদের অসাবধানতা। ডিজিসিএ 2025 সালের জানুয়ারিতে ইন্ডিগো-সহ সমস্ত বিমান সংস্থাকে এই নীতি সম্পর্কে অবহিত করেছিল। এতে বলা হয়েছিল যে, FDTL-এর দ্বিতীয় পর্যায় 1 নভেম্বর থেকে কার্যকর করা হবে। কিন্তু, ইন্ডিগোর সেই মতো প্রস্তুতি ছিল না৷

  1. ইন্ডিগোর ফ্লাইটের দেরি-বাতিলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা ডিজিসিএর; ব্যাখ্যা দিতে হবে সংস্থাকে
  2. নিয়ম উপেক্ষা করার জেরেই ব্যাহত ইন্ডিগোর উড়ান পরিষেবা, দাবি পাইলট সংস্থার