ETV Bharat / business

উলটপুরাণ ! রাশিয়াকে গ্যাসোলিন জোগাচ্ছে ভারত, রেকর্ড আমদানি যুদ্ধবিধ্বস্ত পুতিনের দেশের

রাশিয়ার তৈল পরিশোধনাগারগুলিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার ফলে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে ৷ এই অবস্থায় রাশিয়াকে গ্যাসোলিন রফতানি করছে ভারত ৷

People queue to refuel their cars at a Lukoil petrol station in Moscow on June 30, 2026
মস্কোর একটি পেট্রল পাম্পে গাড়ির লাইন (ছবি: এএফপি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 30, 2026 at 5:05 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 30 অগস্ট: যুদ্ধে ড্রোন হামলায় একাধিক তৈল পরিশোধনাগার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ৷ তাই এবার উল্টে ভারতই রাশিয়াকে গ্যাসোলিন সরবরাহ করছে এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রফতানিকারক দেশ হয়ে উঠেছে ৷ এমনটাই জানা গিয়েছে জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে ৷

2022 সালের 24 ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে ৷ ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার অধিকাংশ তৈল পরিশোধনাগার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে ৷ এই পরিস্থিতিতে অন্যান্য় দেশ থেকে গ্যাসোলিন আমদানি করতে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ৷ এই সুযোগে ভারত তার মিত্র দেশকে বিপুল পরিমাণ গ্যাসোলিন রফতানি করছে ৷

শক্তিসম্পদের তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থা ভর্টেক্সার তথ্য অনুযায়ী, অগস্ট মাসে রাশিয়া প্রতিদিন 1 লক্ষ 25 হাজার ব্যারেল গ্যাসোলিন আমদানি করেছে, যা এখনও পর্যন্ত রেকর্ড ৷ অর্থাৎ, মাসে 4 লক্ষ 70 হাজার টন গ্য়াসোলিন প্রয়োজন হচ্ছে ৷ ইউক্রেনের ঘনঘন ড্রোন হামলার জন্যই দেশে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে ৷

বিভিন্ন বাণিজ্য সংস্থার সূত্রে খবর, গত দু'মাসে ভারতের পরিশোধনাগারগুলি রাশিয়ায় 1 মিলিয়ন ব্যারেল গ্যাসোলিন সরবরাহ করেছে ৷ গুজরাতে ভাদিনার পরিশোধনাগার থেকে এই বিপুল গ্যাসোলিন রফতানি করা হয়েছে ৷ এই পরিশোধনাগারটির অর্ধেক মালিকানা রাশিয়ার রোসনেফ্ট সংস্থার নায়ারা এনার্জির ৷

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত ৷ বিশেষত উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত শুরুর পর অন্য দেশ থেকে তেল কেনায় জোর দিয়েছে ভারত ৷ তার মধ্যে অন্যতম রাশিয়া ৷ চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে রাশিয়া থেকে প্রতিদিন 2.6 মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত ৷ ফেব্রুয়ারিতে যে পরিমাণ ছিল 1 মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিন ৷ দেশের জ্বালানি চাহিদার অর্ধেক জোগান দিয়েছে রাশিয়া ৷ এবার উল্টোটা হচ্ছে ৷ তাই মনে করা হচ্ছে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল থেকে যে গ্যাসোলিন উৎপন্ন হয়েছে, সেটাই আবার মস্কোকে রফতানি করেছে নয়াদিল্লি ৷

ইউক্রেনের বারবার ড্রোন হামলায় রাশিয়ার শক্তিসম্পদের পরিকাঠামোগুলি এমনভাবে ধ্বংস হয়েছে, দেশে সরবরাহ 70 শতাংশ নেমে গিয়েছে ৷ এখন গ্যাসোলিনের জোগান স্বাভাবিক রাখতে মস্কো পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে ৷ পাশাপাশি, দেশের সর্বত্র জ্বালানি বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে হচ্ছে পুতিন সরকারকে ৷

দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহ এবং চাহিদার মধ্যে বিরাট ব্যবধান থেকে যাচ্ছে এবং দিনে দিনে তা বাড়ছে ৷ এই অবস্থায় অগস্টে ভারত ছাড়া তুরস্ক এবং মরক্কো থেকেও রাশিয়া গ্যাসোলিন রফতানি করেছে ৷

জুলাই মাসে রাশিয়া গ্যাসোলিন উৎপাদনকারী এবং উৎপাদনকারী নয় এমন সংস্থাগুলির উপর রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে, যা 2027 সালের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত জারি থাকবে ৷ এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, "অগস্টে ভারত থেকে রাশিয়া যে গ্যাসোলিন আমদানি করেছে, তা অনুমোদিত জাহাজের মাধ্যমে করা হয়েছিল ৷"

সব মিলিয়ে রাশিয়ার আমদানিকৃত গ্যাসোলিনের প্রায় 40 শতাংশ জাহাজ থেকে জাহাজে চালান হয়েছে ৷ অধিকাংশই হয়েছে রাতের অন্ধকারে ৷ গ্যাসোলিন সরবরাহকারী জাহাজগুলি তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থার সিগন্যাল (এআইএস) বন্ধ করে দিয়ে এই সরবরাহ চালিয়েছে ৷

গ্যাসোলিন আমদানি যখন বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সময় রাশিয়া ডিজেল রফতানিতেও রাশ টেনেছে এবং নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ৷ ভর্টেক্সা জানিয়েছে, জুলাই ও অগস্ট একদিন অন্তর রাশিয়ার তৈল পরিশোধনাগারগুলিতে 32 বার ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন ৷

ভর্টেক্সা (Vortexa)-র তথ্য অনুযায়ী, অগস্ট মাসের 25 তারিখ পর্যন্ত সমুদ্রপথে রাশিয়ার ডিজেল/গ্যাসোলিন রফতানির পরিমাণ ছিল দৈনিক প্রায় 1 লক্ষ 50 হাজার ব্যারেল ৷ আগের মাসের তুলনায় এই হার অপরিবর্তিত থাকলেও, তা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দৈনিক 6 লক্ষ 10 হাজার ব্যারেল কম ৷ সংস্থাটি আরও জানায়, ডিজেলের তুলনায় পেট্রল উৎপাদনের হার ঐতিহাসিকভাবে কম হওয়ার কারণে অদূর ভবিষ্যতেও রাশিয়া সম্ভবত কিছু পরিমাণ পেট্রল আমদানি অব্যাহত রাখবে ৷