আর্থিক জালিয়াতি মামলায় ইডির পদক্ষেপ, বাজেয়াপ্ত অনিল আম্বানির 3034 কোটির সম্পত্তি
অনিল আম্বানি গ্রুপের সঙ্গে জড়িত একটি আর্থিক জালিয়াতি মামলায় ED 3034 কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। এর মধ্যে RCOM, R-Infra-র সম্পত্তি ও শেয়ার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

By PTI
Published : April 28, 2026 at 7:56 PM IST
নয়াদিল্লি, 28 এপ্রিল: অর্থ পাচারের একটি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) অনিল আম্বানি গ্রুপের বিরুদ্ধে আরও একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি রিলায়েন্স অনিল আম্বানি গ্রুপের (RAAG) 3,034 কোটি টাকার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেছে। এই সর্বশেষ পদক্ষেপের ফলে গ্রুপটির কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা মোট সম্পদের পরিমাণ 19,000 কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
রিলায়েন্স অনিল আম্বানি গ্রুপের (RAAG) থেকে বাজেয়াপ্ত করা সম্পদগুলির মধ্যে রয়েছে মুম্বইয়ে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং খান্ডালার একটি ফার্ম হাউজ। আমেদাবাদের কাছে সানন্দে অবস্থিত বিস্তীর্ণ জমি এবং রাইজই ট্রাস্ট কাঠামোর অধীনে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের 7.71 কোটি টাকার শেয়ার। এই সম্পূর্ণ পদক্ষেপটি অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএল, 2002)-এর অধীনে নেওয়া হয়েছে।
অনিল আম্বানি গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি এবং তহবিল তছরুপের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ইডি দীর্ঘদিন ধরে এই সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেন তদন্ত করে আসছে। অনিল আম্বানির গ্রুপ কোম্পানি রিলায়েন্স কমিউনিকেশনসের সঙ্গে জড়িত একটি কথিত ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলার তদন্তের সরাসরি ফলাফল হিসেবে ইডির এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সর্বশেষ আদেশের মাধ্যমে, এই হাই-প্রোফাইল ব্যাঙ্ক জালিয়াতির মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদের মোট মূল্য এখন প্রায় 19,344 কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
এর আগে এই মামলায় মুম্বইয়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাসস্থানগুলির মধ্যে একটি, অনিল আম্বানির প্রাসাদোপম বাসভবন 'অ্যাবোড' বাজেয়াপ্ত করা হয়৷ ইডির বাজেয়াপ্ত করা এই বহুতল সম্পত্তিটি মুম্বইয়ের মর্যাদাপূর্ণ পালি হিল এলাকায় অবস্থিত। 'অ্যাবোড' নামে পরিচিত, এই বিলাসবহুল বাড়িটি 66 মিটার উঁচু এবং 17তল বিশিষ্ট। এই মামলাটি ভারতের কর্পোরেট ইতিহাসের বৃহত্তম আর্থিক দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তগুলির মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে। গত বছরের অগস্টে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার পর, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াও রিলায়েন্স কমিউনিকেশনসের ঋণ অ্যাকাউন্টকে ‘প্রতারক’ ঘোষণা করেছে এবং 2016 সালে তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সংস্থার প্রাক্তন ডিরেক্টর, শিল্পপতি অনিল আম্বানির নাম উল্লেখ করে।
তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)র অভিযোগ, রিলায়েন্স অনিল আম্বানি গ্রুপের (RAAG) কোম্পানিগুলি ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেনি। পরিবর্তে, তহবিলগুলি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা অর্থ পাচারের শামিল। বর্তমানে, ইডি সাময়িকভাবে এই সম্পত্তিগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছে।

