ETV Bharat / business

ফের মহার্ঘ LPG সিলিন্ডার, আজ থেকে কার্যকর নতুন দাম

দিল্লিতে 19 কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম 42 টাকা এবং কলকাতায় 53.50 টাকা বাড়ানো হয়েছে । বিস্তারিত জানতে পড়ুন প্রতিবেদন ৷

GAS CYLINDER
সিলিন্ডার সরাচ্ছেন এক ব্যক্তি (ফাইল ছবি - পিটিআই)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : June 1, 2026 at 9:00 AM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 1 জুন: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটের মধ্যে ফের দাম বাড়ল গ্যাসের ৷ সোমবার থেকে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার মহার্ঘ । বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে 19 কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডারের দাম 42 টাকা এবং কলকাতায় 53.50 টাকা বাড়ানো হয়েছে । তবে পেট্রল, ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ।

এএনআই (ANI) সংবাদ সংস্থা সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রাজধানীতে 19 কেজি ওজনের বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের সংশোধিত মূল্য এখন দাঁড়িয়েছে 3,113.50 টাকা ৷ অন্যদিকে কলকাতায় প্রতি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে 3,255.50 টাকা । বাড়ির রান্নাঘরে ব্যবহৃত 14.2 কেজি ওজনের গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অবশ্য অপরিবর্তিতই রয়েছে ৷ যা 913 টাকা ।

5 কেজি ওজনের 'ফ্রি ট্রেড এলপিজি' (FTL) সিলিন্ডারের দামও 11 টাকা বাড়ানো হয়েছে । দিল্লিতে এই সিলিন্ডারগুলোর দাম এখন পড়বে 821.50 টাকা । এই বর্ধিত 1 জুন থেকে কার্যকর হয়েছে ।

সর্বশেষ গত 1 মে এলপিজির দাম সংশোধন করা হয়েছিল ৷ সে সময় সারা দেশজুড়ে 19 কেজি ওজনের বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম একলাফে 993 টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ।

পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও এলপিজির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি, কৌশলগত মজুতের মাধ্যমে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে ৷ এমন ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন পরেই এলপিজি-র এই সর্বশেষ মূল্য সংশোধন করা হল ।

শুক্রবার একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বক্তব্য রাখার সময় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, সরকার তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা অন্তত 30 দিনের চাহিদার সমপরিমাণ এলপিজি মজুত রাখে ।

তিনি বলেন, "কৌশলগত মজুতের বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি । তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলোকে বলেছি যেন তারা নিশ্চিত করে যে, তাদের কাছে এলপিজি-র মজুত যেন কোনওভাবেই 30 দিনের চাহিদার কম না হয় ৷ তারা বর্তমানে সেই লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছে । একইভাবে, অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) ক্ষেত্রেও আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি ।"

তবে তিনি এ-ও জানান যে, বর্তমানে দেশে জ্বালানির কোনও সংকট নেই । এই বিষয়ে তিনি বলেন, "আমাদের কাছে পেট্রল, ডিজেল এবং এলপিজি-র পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে ৷ এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানির মজুতও নিশ্চিত করা আছে । আমাদের সবকটি শোধনাগারই বর্তমানে পূর্ণ সক্ষমতায় (optimum level) পরিচালিত হচ্ছে এবং এলপিজির উৎপাদন এখন সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে ৷ যা দৈনিক প্রায় 90 ডিএমটি (DMT)। কোনও এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর বা সরবরাহ কেন্দ্রে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার (dry out) মতো কোনও ঘটনার খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি ।"

কিছু খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে বিক্রির অস্বাভাবিক ধরন লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, "খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে দেখা যাচ্ছে যে, অনেক জায়গায় বিক্রির পরিমাণ অস্বাভাবিক রূপ ধারণ করেছে । এর কিছুটা কৃষি খাতের চাহিদার কারণে এবং কিছুটা পাইকারি বিক্রির কারণে ঘটছে ।"

তাঁর মতে, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি বিক্রিতে 30 শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে । 14টি জেলায় পেট্রল বিক্রিতে 100 শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে ৷ অন্যদিকে, 6টি জেলায় তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর বিক্রিতে 38 শতাংশের মতো পতন দেখা গিয়েছে ।

জ্বালানির অবৈধ পাচার ও মজুতদারি রোধে নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে । পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানান, গত চার দিনে এলপিজি (LPG) সংক্রান্ত কার্যক্রমে 6500টি অভিযান চালানো হয়েছে, যার ফলে পাঁচটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে এবং দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।

জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে কর্তৃপক্ষ গত দু'দিনে 900টি অভিযান পরিচালনা করেছে । এই অভিযান চলাকালীন 417 লিটার পেট্রল এবং 75,715 লিটার ডিজেল বাজেয়াপ্ত করা হয় । এই ঘটনায় 12টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং 15 জন গ্রেফতার হয়েছে।

এলপিজি-র প্রাপ্যতা প্রসঙ্গে সুজাতা শর্মা জানান, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ শোধনাগারগুলোতে প্রতিদিন প্রায় 50-52 হাজার মেট্রিক টন (TMT) এলপিজি উৎপাদিত হচ্ছে, যার বিপরীতে মোট চাহিদা রয়েছে প্রায় 72 হাজার মেট্রিক টন । এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে জমে থাকা বকেয়া বা ঘাটতির পরিমাণ কমে এখন 4.5 দিনের পর্যায়ে নেমে এসেছে ।