রাজ্য সরকারি পেনশনভোগীদের স্বস্তি, ডিয়ারনেস রিলিফের 50% বকেয়া মেটানোর বিজ্ঞপ্তি নবান্নর
মহার্ঘ ত্রাণ মেটাতে এবার ইতিবাচক পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নের অর্থ দফতরের পেনশন শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

Published : July 7, 2026 at 8:55 PM IST
কলকাতা, 7 জুলাই: রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য এল বড়সড় সুখবর। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বকেয়া ডিয়ারনেস রিলিফ (DR) বা মহার্ঘ ত্রাণ মেটাতে এবার ইতিবাচক পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নের অর্থ দফতরের পেনশন শাখা থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে উপভোক্তাদের বকেয়া ডিআর-এর 50 শতাংশ অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। মূলত প্রবীণ মানুষদের আর্থিক সুরাহা দিতেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভা এলাকার যে সমস্ত রাজ্য সরকারি ও পারিবারিক পেনশনভোগী বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত বা অন্যান্য ব্যাঙ্ক থেকে পেনশন পেয়ে থাকেন, তাঁরাই আপাতত এই সুবিধা পাবেন। 2008 থেকে 2019 সাল পর্যন্ত অর্থাৎ রোপা 2009-এর মেয়াদকালের বকেয়া মহার্ঘ ত্রাণ দীর্ঘদিন আটকে ছিল। সরকার বদলের পরেও এই বকেয়া নিয়ে বিস্তর জট পাকিয়েছিল। নবান্ন জানিয়েছে, ব্যাঙ্কগুলির কাছে অতীতে পেনশন দেওয়ার সম্পূর্ণ তথ্য বা ডিজিটাল রেকর্ড মজুত না থাকায় হিসাব কষতে সমস্যা হচ্ছিল। সেই কারণেই সম্পূর্ণ তথ্য যাচাই হয়ে আসার আগেই আনুমানিক হিসাব কষে অর্ধেক টাকা মিটিয়ে দেওয়ার এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (এজি) পশ্চিমবঙ্গ এবং অল ইন্ডিয়া কনজ়িউমার প্রাইস ইনডেক্স (এআইসিপিআই)-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই আনুমানিক বকেয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। গোটা প্রক্রিয়াটি যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, দ্রুত এবং নির্ভুল হয়, তার জন্য অর্থ দফতর ডবলুবিআইএফএমএস-এর অধীনে একটি ডেডিকেটেড ‘ব্যাঙ্ক পেনশন ম্যানেজমেন্ট পোর্টাল’ চালু করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কগুলিকে অবিলম্বে ওই পোর্টালে গিয়ে নিজেদের গ্রাহকদের তথ্য যাচাই এবং আপডেট করতে বলা হয়েছে। এর ফলে পোর্টাল থেকে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী কোনও বিলম্ব ছাড়াই বকেয়া টাকা সরাসরি বয়স্কদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, অবশিষ্ট 50 শতাংশ বকেয়া মেটানোর কাজও খুব দ্রুত শুরু হবে। ব্যাঙ্কগুলিকে 2008 থেকে 2019 সালের মধ্যবর্তী সময়ের পেনশনের যাবতীয় পুরনো নথিপত্র দ্রুত যাচাই করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা দেওয়ার নিয়মাবলি এবং পদ্ধতি পরবর্তী কালে আলাদা একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাজ্য সরকার জানিয়ে দেবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে কলকাতার হাজার হাজার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবার উপকৃত হবেন বলে মনে করা হলেও, বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছে কর্মী সংগঠনগুলি। এ বিষয়ে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, "নবান্ন থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তাতে শুধু কেএমসি এলাকার ব্যাঙ্ক থেকে যাঁরা পেনশন পান, তাঁদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাকিদের তা হলে কী হবে। তা ছাড়া গ্রান্ট ইন এইড কর্মীদের কথা সরকার এড়িয়ে যাচ্ছে কেন। তারা কি সরকারের কাছে সবসময় দুয়োরানি হয়েই থেকে যাবে?"
অন্যদিকে, এই বিজ্ঞপ্তির ফলে পেনশনভোগীদের একাংশের মধ্যে তৈরি হওয়া আর্থিক বৈষম্য নিয়ে সরব হয়েছেন সরকারি কর্মচারী পরিষদের রাজ্য সভাপতি দেবাশিস শীল। তিনি বলেন, "2008 সাল থেকে যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদের বকেয়ার অর্ধেক অর্থাৎ 50 শতাংশ দেওয়া হবে। অথচ কলকাতা পুরসভার বাইরে যাঁরা ট্রেজ়ারি থেকে পেনশন পান, তাঁদের 2016 থেকে 2019 সালের পুরো টাকাটাই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। 2008 সালের পর যাঁরা চাকরিতে ছিলেন এবং মাঝপথে অবসরে গিয়েছেন, তাঁদের 2019 সাল পর্যন্ত 50 শতাংশ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা আর্থিক ভাবে অনেক কম টাকা পাচ্ছেন এবং অন্যদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এই বৈষম্য দূর করতে এবং 2016 থেকে 2019 সালের পুরো টাকাটা যেন দেওয়া হয়, সেই দাবিতে খুব শীঘ্রই অর্থসচিবের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে।"

