রাজ্যে ফিরুক মেধা, এলঅ্যান্ডটি-র মঞ্চ থেকে ডাক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর; মঞ্জুর আরও 10 একর জমি
বাংলায় কর্মসংস্থানে জোর! ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া বাংলার দক্ষ ও প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীদের এবার নিজেদের শহর কলকাতায় ফিরে আসার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর। সুরজিৎ দত্তের প্রতিবেদন ৷

Published : August 27, 2026 at 2:39 PM IST
কলকাতা, 27 অগস্ট: ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া বাংলার মেধাকে ফের নিজেদের ঘরে ফেরার ডাক দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালি হাবে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)-র নতুন ক্যাম্পাস 'আনন্দ নিকেতন'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। এই মঞ্চ থেকেই রাজ্যের বর্তমান শিল্প অনুকূল পরিবেশের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী ।
পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যে উপযুক্ত পরিকাঠামো না-থাকার কারণেই যে বাংলার মেধা ভিনরাজ্যে চলে গিয়েছিল, এদিন সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। তবে বর্তমান সরকারের আমলে পরিস্থিতি যে আমূল বদলেছে, লার্সেন অ্যান্ড টুব্রোর মতো সংস্থার এই বিপুল বিনিয়োগই তার প্রমাণ বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিনের অনুষ্ঠানে সবথেকে বড় চমক ছিল জমি বরাদ্দের তাৎক্ষণিক ঘোষণা। এলঅ্যান্ডটি-র নতুন ডেটা সেন্টারের জন্য আরও 10 একর জমি বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, মাত্র দু'মাস আগে সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিডকোর কাছে ডেটা সেন্টারের জন্য জমির আবেদন জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সেই আবেদনের ভিত্তিতে এদিন প্রকাশ্য মঞ্চ থেকেই জমি মঞ্জুরের কথা জানিয়ে দেন তিনি। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা সরিয়ে এমন দ্রুত পদক্ষেপ রাজ্যের শিল্পায়নের পথে বড় ইতিবাচক ইঙ্গিত।

এদিন নিজের বক্তব্যে লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো সংস্থার নামের একটি অভিনব ব্যাখ্যাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান তৈরির জন্য সংস্থাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, "'এল' মানে লোক কল্যাণ, আর 'টি' মানে ট্রান্সফরমেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল"। এরপরই ভিনরাজ্যে কর্মরত বাংলার তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বলেন, "যাঁরা বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, পুনে বা নাগপুরে চলে গিয়েছিলেন, তাঁরা ফিরে আসুন।" রাজ্যে এখন কাজের অভাব নেই এবং মেধার উপযুক্ত সম্মান দেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

এলঅ্যান্ডটি-র এই নতুন ক্যাম্পাসটি নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালিতে অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ। প্রথম পর্যায়ে তৈরি হওয়া দু'টি টাওয়ারের উদ্বোধন হয় এদিন। প্রায় আট লক্ষ বর্গফুট এলাকাজুড়ে তৈরি এই ক্যাম্পাসে একইসঙ্গে প্রায় পাঁচ হাজার 800 তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর কর্মসংস্থান হবে। বিশ্বব্যাপী ব্যাঙ্কিং, ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস, এনার্জি এবং ডিজিটাল ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মতো ক্ষেত্রগুলিতে কাজ করবে কলকাতার এই ক্যাম্পাস। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কাজে এটি একটি গ্লোবাল হাব হয়ে উঠতে চলেছে ৷
সংস্থার চেয়ারম্যান এসএন সুব্রহ্মণ্যন এদিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, আগামিদিনে এখানে আরও চারটি টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব গ্রিন বিল্ডিং এবং জল সংরক্ষণের মতো বিষয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পে। নির্মাণকাজ চলাকালীন প্রায় 3 হাজার শ্রমিক দিনরাত এক করে কাজ করেছেন। 8.5 মিলিয়ন সুরক্ষিত ম্যান-আওয়ারের এই রেকর্ড নির্মাণ খাতের শৃঙ্খলার এক অনন্য নজির বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
রাজ্যের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি যুব সমাজকে স্বাবলম্বী করার বিষয়েও এদিন জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুপ্রেরণায় রাজ্য সরকার একাধিক প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। পিএম মুদ্রা, পিএম বিশ্বকর্মা এবং পিএমইজিপি-র মতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির মাধ্যমে ছোট ব্যবসা এবং উদ্যোগপতিদের সরাসরি সাহায্য করা হচ্ছে। সাইবার সিকিউরিটি থেকে শুরু করে ক্লাউড ডেটা ম্যানেজমেন্টের মতো বিষয়ে রাজ্যের তরুণদের দক্ষ করে তোলার কাজ চলছে।
এর ফলে আগামিদিনে আরও অনেক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আগামিকাল রাখি পূর্ণিমা। সেই উৎসবের আবহে রাজ্যের পুনর্গঠনে সকলকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "স্বামী বিবেকানন্দের 'চরৈবেতি চরৈবেতি' মন্ত্রকে পাথেয় করে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বেকার যুবক-যুবতীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়াই যে বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য, তা এদিন বারবার স্পষ্ট করে দেন তিনি। মেদহীন এবং দ্রুত প্রশাসন চালানোর যে প্রতিশ্রুতি বর্তমান সরকার দিয়েছে, এলঅ্যান্ডটি-র এই মেগা প্রজেক্টের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মঞ্চ থেকেই ডেটা সেন্টারের জন্য জমির চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেওয়া তারই একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
এলটিএম
এলটিএম হল- লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো গ্রুপের একটি কোম্পানি ৷ যা এআই-কেন্দ্রিক বিশ্বের প্রযুক্তি পরিষেবা সংস্থা এবং বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠানগুলির ব্যবসায়িক সৃজনশীলতার অংশীদার। কাজের নতুন উপায়, উৎপাদনশীলতার নতুন দৃষ্টান্ত এবং মূল্য অর্জনের নতুন পথ তৈরি করে। 40টি দেশে 87 হাজারেরও বেশি কর্মী এবং আমাদের অংশীদারদের বিশ্বের নেটওয়ার্কের সঙ্গে মিলে, এলটিএম ক্লায়েন্টদের জন্য ফলাফল নিশ্চিত করে ৷

