প্রেমিকার পরিবারকে খুশি করতে দুর্ঘটনার ছক, জখম হয়ে হাসপাতালে তরুণী
রিল টু রিয়েল ৷ সিনেমায় যেমনটা হয় ৷ পথ দুর্ঘটনার ছক, তারপর প্রেমিকাকে বাঁচানো ৷ কিন্তু তারপর...৷

Published : January 8, 2026 at 7:06 PM IST
পাঠানমথিত্তা(কেরল), 8 জানুয়ারি: প্রেমিকা ও তার পরিবারকে মুগ্ধ করতে প্রেমিকরা কতই না পথ বেছে থাকেন ৷ কিন্তু, তা বলে পথ দুর্ঘটনা ! যে কোনও সময়ে কোনও বড়সড় বিপদ হতে পারে ৷ হলও তাই ! যাকে পাওয়ার ইচ্ছে, সেই প্রেমিকা এখন গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৷ বাইকের ধাক্কায় স্কুটি থেকে পড়ে ডান কনুই ও কড়ে আঙুল ভাঙে তরুণীর ৷ ঠিক কী হয়েছে পাঠানমথিত্তায় ?
অভিযুক্ত প্রেমিক ও তার বন্ধুকে পুলিশ জেরা করতেই আসল ঘটনা সামনে আসে ৷ পাঠানামথিত্তা থানার সাব-ইন্সপেক্টর অ্যালেক্স কুট্টি ঘটনার তদন্তে দায়িত্বে ছিলেন ৷ তিনি বলেন, "অভিযুক্তরা তরুণীর পরিবারের প্রশংসা পাওয়ার জন্য এমন ঘটনার ছক করেছিল। প্রেমিকার সন্দেহ হওয়াতেই তদন্ত শুরু করি আমরা ৷ পরে বিষয়টি সামনে আসে।" পাঠানমথিত্তার পুলিশ প্রেমিক ও তার বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে ৷ পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্ক ছিল ৷ সে মেয়েটির পরিবারের কাছে 'হিরো' হওয়ার জন্য পথ দুর্ঘটনার ছক কষে।
ঘটনার সূত্রপাত 23 ডিসেম্বর (2025) ৷ মেয়েটি কোচিং ক্লাস শেষ করে স্কুটারে করে আদুর থেকে ফিরছিল। তার বেশ ক'য়েকদিন আগেই প্রেমিক রঞ্জিত রাজন ও তার বন্ধু আজাজ পথ দুর্ঘটনার পরিকল্পনা করে ৷ প্ল্যানমাফিক গাড়িতে করে মেয়েটির পিছু নিয়েছিল আজাজ ৷ তার ঠিক খানিক দূরত্বে রঞ্জিতও অন্য একটি গাড়িতে করে আজাজের পিছু নিচ্ছিল। তারা যখন ভাজামুত্তম ইস্ট এলাকায় পৌঁছয়, তখন বছর উনিশের আজাজ বাইকে করে এসে তরুণীর স্কুটির পিছনে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার প্রেমিকা পড়ে যান।

আজাজ পিছন ফিরে না-তাকিয়েই গাড়ি চালিয়ে চলে যায়। এদিকে, প্রেমিক রঞ্জিত তার প্রেমিকাকে বাঁচাতে ছুটে আসে ৷ সেভাবে মেয়েকে বাঁচানোর পর পরিবার তাঁদের সম্পর্ক মেনে ৷ কিন্তু ঘটল সম্পূর্ণ উল্টো ৷ প্রেমিকা যখন স্কুটি থেকে পড়ে গিয়ে রাস্তায় কাতরাচ্ছেন তখনই রঞ্জিত ছুটে আসে ৷ মনে মনে ভাবতে থাকে 'হিরো' হয়ে মেয়েকে দুর্ঘটনা থেকে বাঁচালেই তাঁর পরিবার রঞ্জিতের প্রতি সহানুভূতি তৈরি হবে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে করবে ৷ কিন্তু রঞ্জিতের পরিকল্পনার কথা প্রেমিকা জানত না ৷
রঞ্জিত এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় ৷ মেয়েটির ডান কনুই ও ডানহাতের কড়ে আঙুল ভেঙে যা ৷ এছাড়াও শরীরের বেশকিছু জায়গায় চোট লাগে ৷ হাসপাতালে পৌঁছনোর পর পুলিশ ওই তরুণীর জবানবন্দি রেকর্ড করে এবং পথ দুর্ঘটনার মামলা দায়ের করে। শুরু হয় তদন্ত। মেয়েটি দুর্ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ৷ তারপরই আসল সত্য উদঘাটন হয় ৷
দুর্ঘটনার পরপরই রঞ্জিত ঘটনাস্থলে আসা পুলিশেরও সন্দেহ হয় । দুর্ঘটনা থেকে পালিয়ে যাওয়া বাইকটির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ । গাড়িচালক আজাজের ফোনের বিস্তারিত তথ্যও সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা ৷ জানা যায়, রঞ্জিত ও আজাজ দু'জন বন্ধু। প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর আসল ঘটনা সামনে আসে ৷ পুলিশ খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করে এবং তাদের দু'জনকে গ্রেফতার করে।

