ETV Bharat / bharat

বাবাকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে নীল ড্রামে ভরল ছেলে

পড়াশোনা নিয়ে বিরোধ চলছিল বাবা-ছেলের। অক্ষত তদন্তকারীদের জানিয়েছে, বাবা প্রায়শই তাকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চাপ দিতেন ৷

YOUTH KILL FATHER AND CUT BODY
দেহ টুকরো টুকরো করো নীল ড্রামে ভরল ছেলে (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 25, 2026 at 4:21 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

লখনউ, 25 ফেব্রুয়ারি: ফের নীল ড্রামে মিলল দেহ ৷ এবার লখনউয়ে বাবাকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরল ছেলে ৷ পড়াশোনার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে দাবি 19 বছর বয়সি ওই যুবকের ৷ সেই চাপ সহ্য করতে না-পেরে বাবাকে গুলি করে খুন করে ওই যুবক ৷ তারপর অপরাধ লুকানোর জন্য দেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে নীল ড্রামে রেখে দেয় ছেলে।

সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ টুকরো টুকরো দেহ উদ্ধার করে ৷ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জেরার পর বিষয়টি সামনে আসে। মৃত ব্যক্তির নাম মানবেন্দ্র সিং (49) ৷ প্যাথলজি ল্যাবের পাশাপাশি মদের ব্যবসাও ছিল তাঁর। ছেলে অক্ষত প্রতাপ সিং ওরফে রাজা (19) এবং মেয়ের সঙ্গেই থাকতেন মানবেন্দ্র সিং। প্রায় নয় বছর আগে মৃত্যু হয় স্ত্রী'র ৷ 20 তারিখ ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তাঁকে খুন করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর ৷

ডিসিপি সেন্ট্রাল বিক্রম বীর সিং জানান, 20 তারিখ ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ অক্ষত, বাবাকে গুলি করে খুন করে। এরপর করাত দিয়ে বাবার দেহ কাটে সে ৷ দেহের অর্ধেক অংশ নীল ড্রামে ভরে বাড়ির নিয়ে বাড়ির একতলায় রেখে দেয় ৷ আর বাকি অংশ গাড়ি করে নিয়ে অন্যত্র ফেলে দেয় ৷ জিজ্ঞাসাবাদের সময় অক্ষত অপরাধ স্বীকার করেছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর ৷

পুলিশ জানিয়েছে, পড়াশোনা নিয়ে বিরোধ চলছিল বাবা-ছেলের। অক্ষত তদন্তকারীদের জানিয়েছে, বাবা প্রায়শই তাকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চাপ দিতেন ৷ তাকে বকাঝকা করতেন। 20 ফেব্রুয়ারি সকালে তর্কাতর্কি হয় দু'জনের ৷ এরপরই সে বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ৷ ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মানবেন্দ্র সিংয়ের। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, "অক্ষত জানিয়েছে, বাবা তাকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে চাপ দিতেন ৷ প্রায়শই বকাঝকাও করতেন। ঘটনার দিন সকালে এই বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় ৷ এর পরই অক্ষত তার বাবাকে গুলি করে ৷"

খুনের পর করাত দিয়ে দেহ কাটে ছেলে ৷ পুলিশ জানিয়েছে, 20 থেকে 23 তারিখের মধ্যে অক্ষত দেহ লোপাটের পরিকল্পনা করেছিল। করাত দিয়ে প্রথমে দুই হাত কাটে ৷ ধড়টি বাড়ির নীচতলায় একটি নীল ড্রামের ভিতরে রাখা হয়েছিল । কাটা হাতগুলি একটি গাড়ি করে পাড়া থানার অধীন সদরুনার কাছে ফেলে দেয় সে। সোমবার বিকেল থেকে বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে ৷ প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেয় ৷ পুলিশি তল্লাশিতে বাড়ির একতলা থেকে একটি ড্রামের ভেতরে অর্ধেক দেহ পাওয়া যায়। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

তবে এর আগে ছেলে অক্ষত 20 ফেব্রুয়ারি আশিয়ানা থানায় বাবার নামে নিখোঁজ ডায়েরি করে ৷ প্রতিবেশীদের মতে, টিএস মিশ্র কলেজের বি.কমের ছাত্র অক্ষত । তার বোন এলপিএস স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে । মানবেন্দ্র আশিয়ানার সালেহ নগর এবং বুধেশ্বর রোডে প্যাথলজি ল্যাবের মালিক ছিলেন ৷ এছাড়াও তাঁর দু'টি মদের দোকান ছিল ।

প্রতিবেশী ধর্মেন্দ্র সিং জানান, অক্ষত প্রথমে তার বাবার বন্ধু সোনু গুপ্তকে বলেছিলেন যে মানবেন্দ্র আত্মহত্যা করেছেন ৷ ছেলের কাছে বাবার আত্মহত্যার কথা শুনে সোনুর সন্দেহ হয় ৷ তিনি অন্যান্য বন্ধুদের এ কথা জানান । তারা বারবার অক্ষতকে জিজ্ঞাসা করার পর, সে ভেঙে পড়ে এবং অপরাধ স্বীকার করে ৷