ETV Bharat / bharat

'আমাকে বাঁচাও', লেবার রুম থেকে বেরিয়ে আর্তনাদ প্রসূতির, প্রসবের পর মৃত্যু মা-সদ্যজাতের

টাকা দাবি করেন সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা ! না-দিলে প্রসূতিকে বিষ দেওয়ার হুমকির অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে ৷

Maternal Death
মা ও সদ্যজাতের মৃত্যুতে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ ৷ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 28, 2026 at 3:56 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

রেওয়া (মধ্যপ্রদেশ), 28 অগস্ট: লেবার রুম থেকে কাঁদতে-কাঁদতে বেরিয়ে আসছেন গর্ভবতী ৷ আর চিৎকার করে বলছেন, "বাবা আমাকে বাঁচাও, এরা আমাকে মেরে ফেলবে ৷" আর প্রসবে পর মুহূর্তেই মা ও সদ্যজাতের মৃত্যু হয় ৷ ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার গান্ধি মেমোরিয়াল নামে একটি সরকারি হাসপাতালের ৷ যে ঘটনায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে ৷ পাশাপাশি, চিকিৎসক-সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের বিরুদ্ধে তাঁদের মেয়ে এবং সদ্যজাতকে খুনের অভিযোগ তোলা হয়েছে ৷

এই ঘটনায় প্রসূতির পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের এক নার্স তাঁদের কাছে টাকা দাবি করেছিলেন ৷ আর টাকা না-দিলে প্রসূতিকে বিষ দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন ৷ ঘটনার পর থেকে সেই সময় লেবার রুমে উপস্থিত চিকিৎসক, নার্স এবং বাকি স্বাস্থ্যকর্মীরা পলাতক বলে অভিযোগ ৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও অভিযুক্তদের আড়াল করার অভিযোগ করেছে নিহত প্রসূতির পরিবার ৷

জানা গিয়েছে, রেওয়া জেলার বৈকুণ্ঠপুর থানা এলাকার হাটওয়া গ্রামের বাসিন্দা কল্পনা মিশ্র প্রসব বেদনা নিয়ে 25 অগস্ট মধ্যরাতে সরকারি গান্ধি মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন ৷ অভিযোগ, চিকিৎসক এবং নার্সরা প্রসবের জন্য 30 হাজার টাকা দাবি করেন ৷ আর তা না-হলে প্রসূতিকে নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসক ৷ কিন্তু, তারপর মহিলার প্রসব বেদনা শুরু হলে তাঁকে লেবার রুমে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ কিন্তু, কিছুক্ষণ পর কল্পনা কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে এসে তাঁর বাবাকে ডাকতে থাকেন ৷ তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, "বাবা আমাকে বাঁচাও, এই লোকগুলো আমাকে মেরে ফেলবে ৷"

এমনকি প্রসূতির হাতের চ্যানেল ও অক্সিজেন মাস্ক টেনে খুলে ফেলা হয় বলে অভিযোগ ৷ যদিও, এরপর ফের মহিলাকে লেবার রুমে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ কিন্তু, সেখানে প্রসবের পর মা ও সদ্যজাত দু’জনের মৃত্যু হয় ৷ এই ঘটনায় মৃত কল্পনার বাবা রাম শিরোমণি মিশ্র অভিযোগ করেছেন, "আমার মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন ওকে প্রসবের জন্য জিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করেছিল ৷ প্রসবের আগে, ও লেবার রুম থেকে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে বলতে থাকে, 'এই লোকগুলো আমাকে মেরে ফেলবে' ৷ ডাক্তার ও নার্সরা টাকার জন্য কল্পনাকে খুন করেছে ৷ ডাক্তাররা প্রসবের জন্য 30 হাজার টাকা দাবি করেছিল ৷ নার্স বলেছিলেন, 'ওঁর কিছুই নেই ৷ ওঁকে এখান থেকে বের করে দিন, নাহলে আমরা ওঁকে বিষ ইনজেকশন দেব'।"

মৃত কল্পনার বাবা অভিযোগ করেছেন ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক এবং নার্সরা উধাও হয়ে গিয়েছেন ৷ তিনি বলেন, "সোনল আগরওয়াল নামে একজন ডাক্তার আমার মেয়ের প্রসব করিয়ে ছিলেন ৷ অপারেশনের পর তিনি গায়েব হয়ে গিয়েছেন ৷ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়িত্বজ্ঞানহীন ওই ডাক্তার ও নার্সদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে ৷"

তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ৷ হাসপাতালের সুপার চিকিৎসক রাহুল মিশ্র বলেন, "ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক ৷ পরিবারটি চরম অবহেলা করেছে ৷ প্রোটোকল অনুযায়ী একজন গর্ভবতীকে অন্তত আটবার পরীক্ষা করানো উচিত ৷ সমস্ত নথি পর্যালোচনা করার পর দেখা গেছে, যে তাঁকে মাত্র দু’বার পরীক্ষা করানো হয়েছিল ৷ তাও একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৷ মহিলার মানসিক সমস্যা ছিল ৷ আর গর্ভাবস্থা যত এগোয়, তত মস্তিষ্কে তার প্রভাব পড়ে ৷ আর ঠিক তাই হয়েছিল, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের কারণে কল্পনা জ্ঞান হারিয়ে ছিলেন ৷"

হাসপাতাল সুপার বলেন, "মানসিক সমস্যার কারণে প্রসবের আগে তিনি অদ্ভুত আচরণ করছিলেন ৷ তিনি গোল হয়ে ঘুরছিলেন, ছোটাছুটি করছিলেন এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন ৷ আমরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য সবরকম চেষ্টা করেছিলাম ৷ কল্পনা মিশ্র রাত প্রায় একটা নাগাদ হাসপাতালে এসেছিলেন ৷ আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করি ৷ আমরা তাঁর বিস্তারিত কাউন্সেলিং করেছিলাম, কিন্তু সফল হইনি ৷ এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে আমাদের সকল চেষ্টার পর প্রসব সম্পন্ন হলেও, আমরা তাঁকে এবং সদ্যজাতকে বাঁচাতে পারিনি ৷