ETV Bharat / bharat

মহিলা জইশ সংগঠনের নেত্রী ডাঃ শাহিন লখনউয়ের মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক

ফরিদাবাদ থেকে গ্রেফতার হওয়া ডাঃ শাহিনের বিরুদ্ধে জঙ্গি যোগের অভিযোগ উঠেছে ৷ এদিকে একসময় সে লখনউয়ের মেডিক্যাল কলেজে লেকচারার হিসাবে কাজ করতেন ৷

Delhi Car Blast
দিল্লি বিস্ফোরণের পর রাস্তায় নিরাপত্তা বাহিনী (ছবি: পিটিআই)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 11, 2025 at 9:02 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কানপুর, 11 নভেম্বর: নিষিদ্ধ জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের মহিলা শাখার নেত্রী একসময় লখনউয়ের মেডিক্যাল কলেজে লেকচারার হিসাবে কাজ করেছেন ! দিল্লিতে গাড়ি বিস্ফোরণের আগে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে যে ডাক্তারদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে একজন জইশের মহিলা শাখার নেতৃত্বে থাকা চিকিৎসক শাহিন শাহিদ ৷

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ভারতে জইশ জঙ্গি সংগঠনের মহিলা শাখা জামাত-উল-মোমিনাতে মহিলাদের নিয়োগ করার দায়িত্বে ছিল ৷ তাকে এই ভার দিয়েছে অপারেশন সিঁদুর-এ মৃত ইউসূফ আজহারের স্ত্রী সাদিয়া আজহার ৷ 7 মে পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালিয়ে ন'টি জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা ৷ তার মধ্যে অন্যতম মাসুদ আজহারের জইশ জঙ্গি সংগঠনের বাহাওয়ালপুরে সদর কার্যালয় মারকাজ শুভানাল্লাহ ৷

Jaish-e-Mohammed
জইশ-ই-মহম্মদের মহিলাদের জন্য তৈরি শাখা জামাত-উল-মোমিনাতের নিয়োগের দায়িত্ব ডাঃ শাহিন (ছবি: পিটিআই)

এরপর জইশ-এর মহিলা শাখা জামাত-উল-মোমিনাত গঠনের ঘোষণা হয় চলতি বছরের অক্টোবরে ৷ এই মর্মে জেইএম প্রধান মাসুদ আজহারের নামে একটি চিঠি প্রকাশিত হয় ৷ এই জঙ্গি সংগঠনের প্রধান করা হয় মাসুদের নিকট-আত্মীয় সাদিয়া আজহারকে ৷ ভারতে জইশ-এর এই মহিলা সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছিল ডাঃ শাহিন ৷

সে হরিয়ানার ফরিদাবাদে অবস্থিত আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তার ছিল ৷ দিল্লি থেকে মাত্র 45 কিমি দূরে অবস্থিত ধৌজ-এ অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বেসরকারি এবং ইউজিসি স্বীকৃত ৷

এদিকে এই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ফরিদাবাদের জিএসবিএম মেডিক্যাল কলেজে লেকচারার হিসাবে কাজ করেছে ৷ মঙ্গলবার সকালে এটিএস-এর একটি দল মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নেয় ৷ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ সঞ্জয় কালা ৷ 2006 থেকে 2013 সাল পর্যন্ত জিএসবিএম মেডিক্যাল কলেজে কাজ করেছে সে ৷ পরে হঠাৎ সে বেপাত্তা হয়ে যায় ৷

গতকাল হরিয়ানার ফরিদাবাদের একটি বাড়ি থেকে 2 হাজার 900 কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয় ৷ জম্মু-কাশ্মীর ও ফরিদাবাদের পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে এই বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার করে ৷ এর মধ্যে 360 গ্রাম অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ছিল ৷ এই ঘটনার সূত্রে আট জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ তার মধ্যে অন্যতম ডাঃ শাহিন সৈয়দ ৷ সোমবারই শাহিনকে শ্রীনগরে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৷ তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছে ৷ তার গাড়ি থেকে একে-47 রাইফেল পাওয়া গিয়েছে ৷

সরকারি সূত্রে খবর, মধ্য তিরিশের শাহিন আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল ৷ অন্যদিকে পাকিস্তানে হ্যান্ডলারের সঙ্গেও তার যোগযোগ ছিল ৷ সেখান থেকে পাওয়া নির্দেশ মেনে সে নিষিদ্ধ জইশ সংগঠনের মহিলা শাখার জন্য মহিলাদের নিয়োগ করত ৷ তাদের দিয়ে জঙ্গি হামলা চালানোই পরিকল্পনা ছিল ৷ ডাঃ শাহিনের বাবা অবশ্য জানিয়েছেন, মেয়ের এই জঙ্গি-যোগ নিয়ে তিনি কিছুই জানেন না ৷ সংবাদমাধ্যম থেকে তিনি মেয়ের গ্রেফতারির খবর জানতে পারেন ৷

অভিযোগ, ডাঃ সৈয়দ আইএসআই-এর নীতি মেনে মহিলা হামলাকারীদের নিয়োগ করছিল ৷ ইসলামিক স্টেট অফ ইরাক এবং সিরিয়া (আইএসআইএস)-এর মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিতে যেভাবে মহিলাদের সন্ত্রাসবাদী হামলা, আত্মঘাতী হামলার মতো কাজকর্মে নিয়োগ করা হয়, সেই পথ অনুসরণ করছিল শাহিন ৷

সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরে মহিলা জঙ্গিদের নিয়োগ নিয়ে জামাত-উল-মোমিনাতের পোস্টার পড়ে ৷ এরপর জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, সেনা যৌথ অভিযান চালিয়ে জানতে পারে, উপত্যকায় মহিলাদের জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার জন্য উসকানি দিচ্ছে আইএসআই ৷ জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশেষত বেসরকারি স্কুলগুলিতে নজরদারি চালায় ৷

সরকারি সূত্রে খবর, বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল থেকে খবর পাওয়া যায়, মেয়েরা জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে ৷ তারা চরমপন্থী ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হচ্ছে ৷ এরপরই তল্লাশি চালিয়ে ডাঃ শাহিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ এদিকে এই চিকিৎসকই দীর্ঘদিন ধরে লখনউয়ের মেডিক্যাল কলেজে লেকচারার হিসাবে কাজ করেছেন ৷