ETV Bharat / bharat

I-PAC তল্লাশি: রাজ্যের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে ইডি, পাল্টা ক্যাভিয়েট রাজ্যের

আইপ্যাকের ঘটনায় ইডি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে ৷ তার আগেই তল্লাশি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

CM Mamata Banerjee on ED Raids in IPAC Office
সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 10, 2026 at 3:21 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 10 জানুয়ারি: আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার সল্টলেকের দফতরে ইডির তল্লাশির মামলা গড়াল সুপ্রিম কোর্টে ৷ শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন নাকচ হয়েছে ৷ এই অবস্থায় শনিবার এই তল্লাশির ঘটনায় সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷ তার আগে এদিন সকালে শীর্ষ আদালতে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে রাজ্য ৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদন, রাজ্যের বক্তব্য না শুনে দেশের শীর্ষ আদালত যেন একতরফা কোনও রায় ঘোষণা না করে ৷

সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের ক্যাভিয়েট দখলের এই পদক্ষেপে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কটাক্ষ করে বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা আছে ৷ এতে নতুন কিছু নেই ৷ তাঁর (মুখ্যমন্ত্রীর) যদি মনে হয় বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে ৷ তাহলে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যান ৷"

গত 8 জানুয়ারি তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি ও সংস্থার সল্টলেকের দফতরে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি ৷ কয়লা পাচার মামলায় আর্থিক তছরুপের তদন্তে পশ্চিমবঙ্গের ছ'টি ও দিল্লির চারটি জায়গায় এই তল্লাশি চলছিল ৷ এই কয়লা পাচারের কালো টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে প্রতীক জৈনের আইপ্যাকে বিনিয়োগ করা হয়েছিল বলে দাবি ইডির ৷ সেই প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁর বাড়ি এবং আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল বলে জানায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷

বৃহস্পতিবার তল্লাশির মধ্যে সকাল 11টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছান ৷ ইডির তল্লাশি চলাকালীন তিনি সেখান থেকে একটি সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ এবং হার্ডডিস্ক নিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং সাংবাদিকদের দেখান ৷ সেই সময় সেখানে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা এবং অন্য পুলিশ কর্তারা ৷

CM Mamata Banerjee on ED IPAC Raids
আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে সবুজ ফাইল নিয়ে বেরিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ইটিভি ভারত)

এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছন সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে ৷ সেখানেও ইডির তল্লাশি চলাকালীন তিনি বেশ কিছু ফাইল, হার্ডডিস্ক ও নথি বের করে নিয়ে এসে তাঁর গাড়িতে তোলেন ৷ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আসন্ন বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল হাতিয়ে নিতে চায় ইডি ৷ তারা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হয়ে কাজ করছে ৷ দলের গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ নথি করায়ত্ত করতে এই তল্লাশি চালাচ্ছিল ইডি ৷ মুখ্যমন্ত্রীর এই ফাইল, ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক নিয়ে আসার ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয় ৷

এই তল্লাশি নিয়ে সেদিনই ইডি একটি বিবৃতি জারি করে জানায়, "কয়লা মাফিয়া অনুপ মাজির নেতৃত্বে কয়লা চুরির মামলায় পশ্চিমবঙ্গের 6টি এবং দিল্লির 4টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল ইডি ৷ অনুপ মাজি বেআইনি উপায়ে ইসিএল-এর লিজ নেওয়া এলাকাগুলি থেকে কয়লা তুলতেন ৷ এই মামলায় শান্তিপূর্ণভাবে তল্লাশি অভিযান চলছিল ৷ সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসে পৌঁছন ৷ তিনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা পুলিশ কর্তা ও সরকারের উচ্চাধিকারিকরা দু'টি জায়গায় পৌঁছন এবং জবরদস্তি বেশ কিছু নথি এবং ইলেক্ট্রনিক নথি সরিয়ে নিয়ে যান ৷"

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা পরিষ্কার জানায়, "প্রমাণ হাতে পেয়ে সেই ভিত্তিতে এই তল্লাশি অভিযান চলছিল ৷ এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই ৷ কোনও পার্টি অফিসে তল্লাশি হয়নি ৷ নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই ৷ আর্থিক প্রতারণার মামলায় এটা নিয়মমাফিক তল্লাশি ৷ আইনি রক্ষাকবচ নিয়ে এই তল্লাশি অভিযান চলছিল ৷"

ওইদিন বিকেলে ইডি রাজ্যের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে শুনানির আবেদন জানায় ৷ এরপর আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের তরফেও দু'টি মামলা দায়ের হয় ওই এক বেঞ্চে ৷ একটি মামলা করেন প্রতীক ৷ আরেকটি মামলা হয় তাঁর পরিবারের তরফে ৷

আদালতে আবেদনে আইপ্যাক ইডি তল্লাশিতে স্থগিতাদেশ চায় ৷ পরদিন অর্থাৎ 9 জানুয়ারি দুপুর 2.30 টার সময় বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয় ৷ হাইভোল্টেজ মামলার শুনানিতে প্রচণ্ড ভিড় হয় তাঁর এজলাসে ৷ সঙ্গে চলতে থাকে হইহট্টগোল ৷ বিচারপতি মামলায় যুক্ত আইনজীবী ছাড়া বাকিদের বাইরে বেরিয়ে যেতে নির্দেশ দেন ৷ কিন্তু তাতেও শোরগোল থামেনি ৷ তখন তিনি উঠে যান এবং আগামী 14 জানুয়ারি মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করেন ৷

এই অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের দ্বারস্থ হয় ইডি ৷ তিনি এই মামলায় হস্তক্ষেপ করবেন না বলে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেন এবং বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের 14 জানুয়ারি মামলার শুনানির দিন বহাল রাখেন ৷ এই অবস্থায় ইডি আইপ্যাকে ইডি তল্লাশির ঘটনায় রাজ্যের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করল ৷ এই সম্ভাবনা আগে থাকতে আঁচ করে রাজ্যও দেশের শীর্ষ আদালতে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে ৷

কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই তদন্তের আবেদন ইডির

ইডি এই ঘটনায় রাজ্যের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়েছে ৷ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আবেদন, সিবিআই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করুক ৷ সেই নির্দেশ দিক আদালত ৷ ইডির থেকে ছিনিয়ে নেওয়া বাজেয়াপ্ত নথি ও ডিজিটাল ডিভাইস এবং সংবাদমাধ্যমের ভিডিয়ো বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিকে পাঠানো হোক ৷ ইডির তল্লাশির কাজে বাধা দেওয়া অসাংবিধানিক ৷ ইডির হাত থেকে হাতিয়ে নেওয়া নথি হস্তান্তরের নির্দেশ দিক আদালত ৷ সিসি ফুটেজ আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিক আদালত ৷