মাদ্রাজ রেজিমেন্ট থেকে চুরি রাইফেল-ম্যাগাজিন, তদন্তে সেনা-গোয়েন্দা
হায়দরাবাদের বাহালারাম-সেকেন্দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্টের মাদ্রাজ রেজিমেন্ট থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, গোলাগুলি চুরি গিয়েছে ৷ এই চুরি কোনও একজনের বা একদিনের পরিকল্পনায় সম্ভব নয় ৷

Published : September 2, 2026 at 10:03 PM IST
হায়দরাবাদ, 2 সেপ্টেম্বর: চুরি গেল অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং গুলি ! গত 30 অগস্ট এই হাইপ্রোফাইল চুরির ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার বাহালারাম-সেকেন্দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্টের মাদ্রাজ রেজিমেন্টে ৷ অন্তত 12টি অত্যাধুনিক অস্ত্র চুরি করা হয়েছে ৷ সঙ্গে আছে কয়েকশো রাউন্ড গুলি ৷ এমন একটি নিরাপত্তায় ঘেরা এলাকায় এই চুরির ঘটনায় একই সঙ্গে হতবাক ও উদ্বিগ্ন করেছে সেনার শীর্ষ কর্তাদের ৷
স্থানীয় থানা প্রোটোকল মেনে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ৷ পাশাপাশি সেনার গোয়েন্দা বিভাগও সমান্তরাল তদন্তে নেমেছে ৷ দিল্লি থেকে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সেনার আধিকারিক মাদ্রাজ রেজিমেন্টে এসে পৌঁছেছেন ৷ সেনা সূত্রে পুলিশ জানতে পেরেছে, 12টি রাইফেল, 21টি ম্যাগাজিন, রাতে দেখতে পাওয়া যায় এমন কয়েকটি বাইনোকুলার এবং 1 হাজার 912 রাউন্ড গুলি চুরি গিয়েছে ৷
গত 30 অগস্ট রাতে এই চুরির ঘটনায় পুলিশ ও প্রতিরক্ষা- দু'তরফেরই বিশ্বাস, অস্ত্রাগার 'কোটে'র তালা ভেঙে এই বিশালা মাপের চুরি কোনও একজন ব্যক্তির কাজ নয় ৷ এমনকী গোলাবারুদ যেখানে রাখা থাকে, সেই বাক্সটিও ভাঙতে হয়েছে ৷ এই চুরি হঠাৎ একদিনের পরিকল্পনাও নয় ৷
সূত্রের খবর, মাদ্রাজ রেজিমেন্টের পিছন দিকের প্রাচীরের দেওয়ালটি দুর্বল ৷ দেওয়ালের উল্টোদিকে বাড়িঘর আছে ৷ প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর মনে করা হচ্ছে, অস্ত্রগুলি চুরি করে দেওয়ালের উপর দিয়ে ছুড়ে দেওয়া হয়েছে ৷ তারপর বিপুল অস্ত্র, গোলাগুলি নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে চোরের দল ৷
মাদ্রাজ রেজিমেন্টে পৌঁছতে গেলে পথে হনুমান মন্দির, আম্মুগুড়া, টুমুকুন্টা এবং বাহালারাম রুট ধরে যেতে হয় ৷ এই রাস্তাগুলিতে কড়া প্রহরার বন্দোবস্ত রয়েছে ৷ তদন্তের অংশ হিসেবে আধিকারিকরা এই রাস্তায় থাকা প্রবেশদ্বার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেছেন ৷ এই প্রতিটি গেটে ঢুকতে গেলে পরিচয় পত্র দেখাতে হয় ৷ কিন্তু বেরনোর সময় সেসব কিছু লাগে না ৷
ইতিমধ্যে কর্নেল মায়াঙ্ক গোভিতিরকরের অভিযোগের ভিত্তিতে বাহালারাম থানার পুলিশ একটি মামলা রুজু করেছে ৷ এর জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে ৷ এর সঙ্গে কোনও দাগি অপরাধী জড়িত নাকি, রেজিমেন্টের কোনও কর্মীর কাণ্ড, তা তদন্ত করা হচ্ছে ৷ প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কয়েকজন কর্মীর ভূমিকা সন্দেহজনক বলে মনে করা হচ্ছে ৷
এই তল্লাশি অভিযনে ডগ স্কোয়াড আনা হয়েছে ৷ স্নিফার ডগ অর্থাৎ গন্ধ শুঁকে সূত্রের কাছে পৌঁছে দিতে পারে এমন বিশেষ কুকুর মাদ্রাজ রেজিমেন্টের এক আধিকারিকের কাছে গিয়ে থেমে গিয়েছে ৷ এরপর পুলিশ এবং আধিকারিকরা ওই ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ৷ তল্লাশির সময় প্রাচীরের দেওয়ালের কাছে ঘাসে একটি ম্যাগাজিন পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে ৷ প্রাথমিক অনুমান, ঊর্ধ্বতন কর্তার প্রতি রাগের বশে প্রতিশোধ নিতে কোনও কর্মী এই ধরনের কাজ করেছে ৷
তদন্তকারীদের অনুমান, অন্তত 4 জন এই চুরির সঙ্গে জড়িত ৷ কারণ, প্রতিটি AK-203 রাইফেলের ওজন 3.8 কিলোগ্রাম এবং প্রায় এক মিটার দীর্ঘ ৷ এই ধরনের চারটি রাইফেল চুরি গিয়েছে ৷ 4.3 কিলোগ্রাম ওজনের একটি ইনসাস রাইফেলও প্রায় এক মিটার দীর্ঘ ৷ এরকম চারটি রাইফেল চুরি হয়েছে ৷ এই রাইফেলগুলি চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় কারও চোখে পড়বে না ? এটা বিশ্বাস করতে পারছেন না তদন্তকারী আধিকারিকরা ৷ এর উপর যে গোলাগুলি চুরি করা হয়েছে, তার ওজন প্রায় 15 কিলোগ্রাম ৷
এই সব তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তকারী আধিকারিকরা সম্ভাব্য দু'টি দিক বিবেচনা করে দেখেছেন ৷ তাঁদের অনুমান, চুরি করে সেগুলি প্রাচীরের ওপারে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে ৷ অথবা মাদ্রাজ রেজিমেন্টের চত্বরে কোথাও মাটির তলায় সযত্নে পুঁতে রাখা আছে ৷ সুযোগ বুঝে সেগুলি বাইরে পাচার করা হবে ৷
তাই বাহালারাম-সেকেন্দ্রাবাদ ক্যান্টনমেন্টের মাদ্রাজ রেজিমেন্টে প্রতি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে ৷ মিলখা সিং গ্রাউন্ড রেজিমেন্টের একেবারে গা ঘেঁষে অবস্থিত ৷ একই প্রাচীরের এদিক আর ওদিক ৷ একটি বেসরকারি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে চুরির দিন ভোররাত 3.48 মিনিটে মিলখা সিং গ্রাউন্ডের কাছে একটি মোটর বাইক দেখা গিয়েছে ৷ বাইকটি ঘটনাস্থলে এল এবং দ্রুতগতিতে চলে গেল ৷ একে অন্ধকার, তার উপর বাইকের হেডলাইটের আলোয় গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না ৷ এবার এই বাইকটির সঙ্গে অস্ত্র চুরির কোনও সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা ৷

