ETV Bharat / bharat

মাছ-মাংসে না, মিড-ডে মিলে ডিমের বদলে ফল ! রইল নিরামিষাশী গ্রামের ঠিকানা

প্রাপ্তবয়স্ক থেকে শুরু করে শিশু, গ্রামের সকলেই নিরামিষভোজী ৷ এমনকী স্কুলের মিড-ডে মিলেও শিশুদের ডিমের বদলে দেওয়া হয় ফল ৷ সাত্ত্বিক আহারে বিশ্বাসী গ্রামবাসী ৷

VEGETARIAN VILLAGE OF JHARKHAND
নিরামিষাশী গ্রাম (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 3, 2025 at 2:48 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

লাতেহার (ঝাড়খণ্ড), 3 নভেম্বর: খাদ্যাভ্যাস অর্থাৎ খাবার খাওয়ার অভ্য়াস ৷ অভ্যাসটি একেবারই স্থিতিশীল নয় ৷ দেশের এক একটি রাজ্যের বাসিন্দাদের খাবারের অভ্য়াস এক এক রকমের ৷ কোথাও খাবারে ঝাল ও টকের পরিমাণ বেশি, কোথাও আবার খাবারে রয়েছে মিষ্টির আধিক্য ৷

তবে খাবারের পাতে আমিষ প্রায় প্রতিটি রাজ্যের মানুষেরই পছন্দের তালিকায় রয়েছে ৷ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাছ, মাংসের ব্যবহারও বেড়েছে কয়েকগুণ ৷ কিন্তু, কয়েক যুগ ধরে নিরামিষ খাবার খাচ্ছেন দেশের এই গ্রাম ৷ মাছ, মাংস তো বটেই এমনকী স্কুলের মিড-ডে মিলে শিশুদের ডিমের বদলে দেওয়া হয় ফল ৷ প্রাপ্তবয়স্ক থেকে শুরু করে শিশু সকলের পছন্দ সাত্ত্বিক আহার ৷ কোথায় রয়েছে সেই গ্রাম ?

মাছ, মাংসের কোনও বালাই নেই এই গ্রামে, দেখুন ভিডিয়ো (ইটিভি ভারত)

নিরামিষ খাবারের গ্রাম

ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার ভরবাগড়া গ্রাম ৷ জলাশয়, বনাঞ্চল এবং পাহাড়ে ঘেরা এই গ্রামে তানাভগত সম্প্রদায়ের মানুষের বাস ৷ মহাত্মা গান্ধির মতাদর্শ, শিক্ষা এবং নীতি অনুসরণ করেই তাঁরা দিনযাপন করেন ৷ সম্প্রদায়ের একজন ব্যক্তিও মাংস খান না ৷ তাঁদের খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ এবং নিরামিষ ৷ বছরের পর বছর ধরে কেবলমাত্র সবুজ শাক সবজি, ডাল, রুটি, ভাত খেয়েই বেঁচে রয়েছেন ৷

মাংস, মাছ, ডিমকে আমিষ হিসাবেই বিবেচনা করা হয় এই গ্রামে ৷ প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি গ্রামের শিশুরাও মাংস খেতে পছন্দ করে না ৷ বছরের বছরের ধরে নিরামিষ খেয়েই শক্তি এবং স্বাস্থ্য বজায় রেখেছে ভরবাগড়ের বাসিন্দারা ৷ জেলার বাকি গ্রামগুলির মতো তাঁরা যথেষ্ট কর্মঠ ৷ চাষাবাদ, পশু প্রতিপালন করে জীবন কাটান বহু মানুষ ৷ তবে মাঠে লাঙল চষার উপর তাঁদের এই খাদ্যাভ্যাসের কোনও বিরূপ প্রভাব পড়ে না বলে মত গ্রামবাসীদের ৷

সাত্ত্বিক আহার সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি

গ্রামের বাসিন্দাদের মতে, খাবারের তালিকায় আমিষ বাদ থাকায় তাঁরা সুস্থ জীবনযাপন করেন ৷ ছোটখাটো ছাড়া বড় কোনও রোগ তাঁদের কাহিল করতে পারে না ৷ স্থানীয় বাসিন্দা কার্তিক তানাভগত, মঙ্গারা তানাভগত, মনীষা দেবীদের মতে, সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ এবং সাত্ত্বিক খাবার তাঁদের ঐতিহ্য ৷ কয়েক যুগ ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছেন তাঁরা ৷ আগামী দিনেও এই খাদ্যাভাস অব্যাহত থাকবে ৷

মঙ্গারা তানাভগতের কথায়, "মাছ, মাংস, ডিম আমরা একদম খাই না ৷ কেবলমাত্র ডাল, সবজি, রুটি আমাদের একমাত্র খাবার ৷ কাউকে আমরা আমিষ ছুঁতেও দিই না ৷ নিরামিষ খাদ্যাভ্যাস শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ৷ এমনকী এখানকার বাচ্চারাও রেস্তোরাঁর খাবার এড়িয়ে চলে । সেই কারণেই ছোটখাটো মরশুমি অসুস্থতা ছাড়া কোনও গ্রামবাসী কখনও গুরুতর রোগে ভোগেন না ।"

মিড-ডে মিলে ডিমের পরিবর্তে ফল

ভরবাগড়ার গ্রামবাসীরা সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী হওয়ায় আমিষ খাবার থেকে দূরে থাকে তাঁদের সন্তানরাও । স্কুলের মিড-ডে মিলে তাই বাচ্চাদের ডিমের পরিবর্তে ফল দেওয়া হয় ৷ স্কুল শিক্ষিকা অভিশিখা খাখা বলেন, "গ্রামের বেশিরভাগ শিশু তানাভগত সম্প্রদায়ের । এই সম্প্রদায়ের মানুষ সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী । সরকারের তরফেও নির্দেশ রয়েছে, নিরামিষভোজী শিশুদের ডিমের বিনিময়ে ফল দিতে হবে । সেই কারণে স্কুলের বাচ্চাদের ডিমের বিনিময়ে ফল দেওয়া হয় । তানাভগত সম্প্রদায়ের মানুষ আমিষ খাবার থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকে ।"

সাত্ত্বিক আহারেই জোর চিকিৎসকের

লাতেহার হাসপাতালের ডেপুটি সুপার চিকিৎসক অখিলেশ্বর প্রসাদ বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরামিষভোজী হল সর্বোত্তম খাবার । নিরামিষ খাবার সহজে হজম হয় ৷ শরীরে এর উপকারিতাও রয়েছে প্রচুর ৷ কিন্তু, আমিষ খাবার হজম হতে অনেক সময় লাগে ৷ এর ফলে গ্যাসট্রিক, লিভার এবং কিডনির সমস্যা দেখা দেয় ৷ এক কথায় আমিষ খাবার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিকর ।" তিনি আরও বলেন, "এই কারণে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নিরামিষভোজীকে প্রচার করা হচ্ছে । কথাই আছে, আমরা যে খাবার খাই তা আমাদের মনকে নির্ধারণ করবে ।"

পড়ুন: 600 বছর ধরে ভারতের এই গ্রামে কেউ সেবন করেন না মদ ও তামাকজাত দ্রব্য