উত্তরপ্রদেশে SIR খসড়া তালিকা থেকে বাদ প্রায় 3 কোটি ভোটার
উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় 15 কোটি 44 লক্ষ ভোটারের নাম ছিল ৷ এনুমারেশন ফর্ম যাচাই-বাছাইয়ের পর তালিকা থেকে 2 কোটি 89 লক্ষ নাম বাদ পড়েছে ৷

By PTI
Published : January 6, 2026 at 9:04 PM IST
লখনউ, 6 জানুয়ারি: বাংলার পর উত্তরপ্রদেশ ৷ তিন দফায় সময়সীমা বাড়ানোর পর এসআইআর পর্বের শেষে যোগী রাজ্যে মঙ্গলবার প্রকাশিত হল খসড়া ভোটার তালিকা ৷ এনুমারেশন ফর্ম যাচাইয়ের পর তালিকা থেকে বাদ পড়ল 2 কোটি 89 লক্ষ ভোটারের নাম ৷
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নবদ্বীপ রিনওয়া জানান, উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় 15 কোটি 44 লক্ষ ভোটারের নাম ছিল ৷ এনুমারেশন ফর্ম যাচাই ও বাছাইয়ের পর সেই তালিকায় 12 কোটি 55 লক্ষ ভোটার নথিভুক্ত করা হয়েছে ৷ বাদ পড়েছেন 2 কোটি 89 লক্ষ, যা মোট ভোটারের প্রায় 18.40 শতাংশ ৷ তাঁদের মধ্যে কেউ মৃত, কেউ-বা পাকাপাকিভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন ৷ আগামী 6 মার্চ প্রকাশিত হবে রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৷
উত্তরপ্রদেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারক বিস্তারিতভাবে জানান, বাদ যাওয়া ভোটের মধ্যে 46 লক্ষ 23 হাজার মৃত ভোটার রয়েছেন । পাশাপাশি, দু’জায়গায় নাম রয়েছে এমন ভোটারের সংখ্যা হল 25 লক্ষ 47 হাজার, স্থানান্তরিত ও অনুপস্থিত ভোটার 2 কোটি 57 লক্ষ । খসড়া তালিকা থেকে তাঁদেরও বাদ দেওয়া হয়েছে । তিনি বলেন, "75টি জেলা এবং 403টি বিধানসভা কেন্দ্রে এসআইআর প্রক্রিয়া চালানোর পর খসড়া তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন 12 কোটি 55 লক্ষ ভোটার ৷"

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, মোট 1 কোটি 72 লক্ষ বুথে এসআইআরের প্রক্রিয়া চলে ৷ এই কাজে বিএলওদের অনেকাংশে সাহায্য করেছেন স্বেচ্ছাসেবকরা ৷ এমনকী রাজনৈতিক দলগুলিরও সমর্থন পাওয়া গিয়েছে বলে জানান তিনি ৷ রিনওয়া জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের 5 লক্ষ 76 হাজার এজেন্ট এই প্রক্রিয়ায় তাঁদের সাহায্য করেছেন ৷
তবে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় 6 জানুয়ারি থেকে 6 ফেব্রুয়ারির মধ্যে অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোটাররা ৷ নির্বাচনী আধিকারিক জানান, ফর্ম-6 জমা দিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন যোগ্য ভোটাররা ৷ এমনকী, একাধিক স্থানে যাঁদের নাম নথিভুক্ত রয়েছে, তাঁরাও এই ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন ৷ আবেদনপত্র বিএলও বা তহসিল কার্যালয়ের ভোটার নিবন্ধন কেন্দ্রগুলিতে অফলাইনে অথবা ইসিআইনেট অ্যাপ এবং ইসিআই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে।
এরপর সেগুলি যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করা হবে ৷ খসড়া তালিকা নাম রয়েছে কি না, তা জানার জন্য নির্বাচন কমিশনের মোবাইল অ্যাপ, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইট ceouttarpradesh.nic.in এবং নির্বাচন কমিশনের পোর্টাল voters.eci.gov.in-এ ভোটারদের দেখার জন্য আবেদন জানান নবদ্বীপ রিনওয়া ৷ যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ না-করে ভোটার তালিকা থেকে কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হবে না বলে এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি ৷
উল্লেখ্য, প্রথমে 11 ডিসেম্বরের মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করে খসড়া তালিকা প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে ৷ তবে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করার জন্য রাজ্যের তরফে আরও 15 দিনের সময় চাওয়া হয় ৷ এরপর সময়সীমা বাড়িয়ে করা হয় 26 ডিসেম্বর ৷ কিন্তু কাজ এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার কাজ শেষ না-হওয়ায় সময়সীমা বাড়িয়ে 31 ডিসেম্বর করা হয় ৷ তবে বুথ স্তরের বেশকিছু কাজের জন্য অবশেষে 6 জানুয়ারি প্রকাশিত হয় এসআইআর-এর খসড়া তালিকা ৷
খসড়া তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা
এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশিত খসড়া তালিকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ বিরোধী দলগুলির ৷ উত্তরপ্রদেশের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই জানান, জনসংখ্যার বিচারে দেশের বৃহত্তম রাজ্যে খুব কম সময়ে এসআইআর প্রক্রিয়াটি শেষ করা হয়েছে ৷
তিনি বলেন, "নির্বাচন কমিশনের একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত এটি ৷ উত্তরপ্রদেশের মতো একটি বড় রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য মাত্র এক মাস সময় দেওয়া হয়, যা সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক ৷ কেরলের মতো ছোট একটি রাজ্যের জন্য এক মাস সময় ধার্য করা হয় ৷ এই রাজ্যের জন্য অন্তত 5 থেকে 6 মাস সময় দেওয়া উচিত ছিল নির্বাচন কমিশনের ৷ 2002-2003 সালে যেভাবে এসআইআর প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়, এবারও তাই করা উচিত ছিল ৷" কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, রাজ্যবাসীর অধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে ৷
इससे पहले कि मतदाताओं का रोष आक्रोश बनकर आंदोलन का रूप ले ले, चुनाव आयोग मैनपुरी में SIR से कटे वैध नामों के लिए संज्ञान लेकर मतदाता सूची दुरुस्त कराए। pic.twitter.com/9agU4162ga
— Akhilesh Yadav (@yadavakhilesh) January 6, 2026
এক্স হ্যান্ডেলে স্ত্রী ডিম্পল যাদবের লোকসভা কেন্দ্র মইনপুরীর খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি দেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো তথা কনৌজের সাংসদ অখিলেশ যাদব ৷ তিনি লেখেন, "সাধারণ ভোটারের ক্ষোভ আন্দোলনে পরিণত হওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের উচিত মইনপুরীর ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া যোগ্য ভোটারদের বিষয়টি বিবেচনা করা ৷"

