ডিসেম্বরের শুরুতেই সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের সূচনা, ঘোষণা রিজিজুর
শীতকালীন অধিবেশনের দিন ঘোষণা হল ৷ ভোট চুরি ইস্যুতে সরকারকে চাপে ফেলতে চায় বিরোধীরা ৷ অন্যদিকে সংবিধান সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে চায় কেন্দ্র ৷

By PTI
Published : November 8, 2025 at 1:45 PM IST
|Updated : November 8, 2025 at 3:11 PM IST
নয়াদিল্লি, 8 নভেম্বর: সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হবে আগামী 1 ডিসেম্বর ৷ চলবে 19 ডিসেম্বর পর্যন্ত ৷ শনিবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে দিন ঘোষণা করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ৷ ছুটি বাদ দিয়ে এবার অধিবেশন বসবে 15 দিন ৷
মোদি মন্ত্রিসভার এই সদস্য লেখেন, "সম্মানীয় রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মু কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন ৷ 1 ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন ৷ চলবে 19 ডিসেম্বর পর্যন্ত ৷ আশা করছি এই অধিবেশন সদর্থক ও অর্থপূর্ণ হবে, যা আমাদের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে ৷ দেশের নাগরিকদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে ৷"
The Hon’ble President of India Smt. Droupadi Murmu ji has approved the proposal of the Government to convene the #WinterSession of #Parliament from 1st December 2025 to 19th December, 2025 (subject to exigencies of Parliamentary business).
— Kiren Rijiju (@KirenRijiju) November 8, 2025
Looking forward to a constructive &… pic.twitter.com/QtGZn3elvT
গত 9 সেপ্টেম্বর উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন এনডিএ প্রার্থী সিপি রাধাকৃষ্ণন ৷ এই অধিবেশনে তিনি প্রথমবার রাজ্যসভার অধিবেশন পরিচালনা করবেন ৷ উল্লেখ্য, বাদল অধিবেশনের প্রথমদিন আচমকাই উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন জগদীপ ধনকড় ৷ রাষ্ট্রপতিকে লেখা পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, তাঁর শরীর ভালো নয় ৷ এমতাবস্থায় এত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয় ৷ তবে বিরোধীদের দাবি, মোদি সরকারের সঙ্গে কয়েকটি বিষয় মতের মিল হচ্ছিল না ধনকড়ের ৷ বিশেষ করে রাজ্যসভা তিনি যেভাবে পরিচালন করেছিলেন তা নিয়ে আপত্তি ছিল মোদি সরকারের ৷ এমনই আবহে তাঁকে পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয় ৷
কেমন হতে পারে অধিবেশন ?
বিহারের দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচন 11 নভেম্বর ৷ ফল ঘোষণা 14 নভেম্বর ৷ তার আগে শীতকালীন অধিবেশনের দিন ঘোষণা হল ৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে এই অধিবেশনে ৷ এছাড়া দেশজুড়ে ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন এসআইআর ইস্যু নিয়ে বিরোধীরা ফের প্রতিবাদ করতে পারে ৷ তাই আবারও বিরোধী শিবিরের শোরগোলে ধুন্ধুমার হতে পারে শীতকালীন অধিবেশন ৷
এছাড়া সম্প্রতি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় ভোট চুরি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন ৷ কংগ্রেসের দাবি, বিজেপিকে জেতাতে ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি করেছে নির্বাচন কমিশন ৷ সরাসরি দুই প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অভিযুক্ত করেছেন রাহুল ৷ কাজেই এই ইস্যুতেও বিজেপি সরকারকে একঘরে করার চেষ্টা করবে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া শিবিরের অন্য দলগুলি ৷
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, 129 ও 130 তম সংবিধান সংশোধনী বিল, পাবলিক ট্রাস্ট বিল, জম্মু-কাশ্মীর রিঅর্গানাইজেশন বিল এবং ব্য়াঙ্করাপসি বিল-এর মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল এই অধিবেশনে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠতে পারে ৷ সংসদের বাদল অধিবেশন হয়েছিল গত 21 জুলাই থেকে 21 অগস্ট পর্যন্ত ৷ 32 দিনের বেশি সময় ধরে চলেছিল অধিবেশন ৷ 21দিন অধিবেশন বসেছিল ৷ সেই সময় 15টি বিল সংসদের দুই কক্ষে পাশ হয় ৷ কিন্তু সেবার বিরোধীদের শোরগোলে বারবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সংসদের অধিবেশন ৷ এবারের অধিবেশন কতটা ফলপ্রসূ হয় সেটাই এখন দেখার ৷

