ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুতে গ্রেফতার শাশুড়ি তথা প্রাক্তন বিচারক গিরিবালা সিং
শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার ত্বিষা শর্মার শাশুড়ি ৷ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পণের দাবিতে ত্বিষার উপর অত্যাচার করতেন ৷

Published : May 28, 2026 at 7:03 PM IST
ভোপাল, 28 মে: মডেল-অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মা খুনের ঘটনায় অবশেষে সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হলেন তাঁর শাশুড়ি প্রাক্তন বিচারক গিরিবালা সিং ৷ গতকাল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ৷
বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রদেশের ভোপালে বাগ মুঘালিয়ায় তাঁর বাসভবনে শাশুড়ি গিরিবালা সিংকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই ৷ এরপর তাঁকে হেফাজতে নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷ ইতিমধ্যে ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং আত্মসমর্পণ করেছে এবং সে এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে ৷
গত 12 মে 33 বছর বয়সি মডেল তথা অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার মৃত্যু হয় ৷ তাঁর মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে ৷ অভিযোগ, পণের দাবিতে তাঁকে খুন করা হয়েছে ৷ বিপুল পণের দাবিতে তাঁর উপর অত্যাচার করতেন প্রাক্তন বিচারক শাশুড়ি ও আইনজীবী স্বামী ৷
সরকারি সূত্রে খবর, ত্বিষা শর্মার রহস্য মৃত্যু নিয়ে মা ও ছেলেকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করবে সিবিআই ৷ গ্রেফতারির পর গিরিবালা সিংকে সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করে তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে সিবিআই ৷ এদিন বাগ মুঘালিয়া এক্সটেনশন এলাকায় গিরিবালা সিংয়ের বাড়িতে সিবিআই-এর তদন্তকারী দলের আধিকারিকদের ঢুকতে দেখা যায় ৷ সূত্রের খবর, আদালতের অনুমতি নিয়ে গিরিবালা সিংকে জেরা করে সিবিআই ৷
Twisha Sharma death case | Twisha's mother-in-law, Giribala Singh, has been arrested by CBI.
— ANI (@ANI) May 28, 2026
Giribala Singh's anticipatory bail was quashed by the Jabalpur High Court late last night.
(file pic) pic.twitter.com/Als3fyi3lC
গিরিবালা সিংয়ের বাসভবনে পৌঁছনোর পর, সিবিআই (CBI) পুরো বাড়ির একটি বিস্তারিত থ্রিডি ম্যাপিং করে ৷ ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা আরও বিস্তারিত ও নির্ভুল পুনর্গঠনের সুবিধার্থে বাড়ির ভিতরে বিভিন্ন স্থানে ত্রিমাত্রিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয় ৷ এই থ্রিডি ম্যাপিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধস্থলের একটি ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করা হয়, যা তদন্তের কাজে আরও সাহায্য করবে ৷ এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, অপরাধস্থলে উপস্থিত প্রতিটি বস্তুকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, যার ফলে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে আরও নির্ভুল ও স্পষ্ট ধারণা লাভ করা সম্ভব হবে ৷
এই প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট জেনারেল প্রশান্ত সিং বলেন, "আদালতে এফআইআর (FIR) দায়েরের আগেই আগাম জামিনের আবেদন করা হয়েছিল ৷ একটি এফআইআর করলেই তদন্ত শুরু করা যায় ৷ এফআইআর দায়ের হওয়ার পরই কেবল তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয় ৷ যেহেতু সাধারণত তদন্ত শুরু হওয়ার পরে সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু হয়, তাই আগাম জামিন মঞ্জুর করার সময় পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি তখনও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি ৷ এখন যেহেতু সিবিআই তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তাই তারা এই ঘটনার প্রতিটি দিক অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে ৷"

