কাদের হাতে থাকবে ঘাসফুল ! কমিশনে দাবি জানাল কালীঘাট-তৃণমূল
কমিশনে নিজেদের দাবি পেশ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, 2000 সালে দলটি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়েছিল ৷

By ANI
Published : July 6, 2026 at 3:53 PM IST
নয়াদিল্লি, 6 জুলাই: দলের প্রতীক নিয়ে দিল্লিতে দরবার কালীঘাট-তৃণমূলের ৷ সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংক্রান্ত বিবাদের ফয়সালা এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে ৷ সোমবার নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানিয়েছে কালীঘাট-তৃণমূল ৷
নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি তৃণমূল সাংসাদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, কমিশনে জমা দেওয়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছিল যে AITC কমিটি এবং জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ ছিল তিন বছরের এবং তা 2025 সালেই শেষ হয়ে গিয়েছে ৷ তিনি বলেন, "ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন আমাদের কাছে জবাব চেয়েছিল ৷ আজ আমরা সেই জবাব দাখিল করেছি। এ বিষয়ে আমরা বিস্তারিত উত্তর দিয়েছি।" তিনি আরও বলেন, "দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি 2027 সাল পর্যন্ত বৈধ।
কমিশনে এদিন কালীঘাট-তৃণমূলের তরফে দেখা করেন প্রবীণ তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ৷ কমিশনের কাছে নিজেদের দাবি পেশ করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, 2000 সালে দলটি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়েছিল ৷ এর ফলে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে চার বছর করা হয় এবং পরবর্তীতে 2006 সালে তা আরও বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয় ৷
তিনি বলেন, "শেষবার দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হয়েছিল 2022 সালে ৷ সুতরাং, স্বাভাবিক নিয়মেই AITC এবং জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর বহাল থাকছে ৷ ফলে মেয়াদ হচ্ছে 2027 সাল ৷ সুতরাং, কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ভুল এবং সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের গঠনতান্ত্রিক বিধানের পরিপন্থী।" সেই সঙ্গে তাঁর কল্যাণের প্রশ্ন, কমিটি অস্তিত্বহীন—এমন দাবি করা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁরা দলের প্রতীক ব্যবহার করে এবং দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে 2026 সালে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেন ৷
তিনি বলেন, "আপনারা যদি বলেন 2025 সালের পর তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও অস্তিত্ব ছিল না, তবে কেন আপনারা নির্বাচনে লড়লেন ? আপনাদের পদত্যাগ করা উচিত। একই সঙ্গে কোনও বিষয়কে স্বীকার করা এবং অস্বীকার করা (approbate and reprobate) চলতে পারে না। আপনারা যদি বলেন যে এর কোনও অস্তিত্ব নেই, তবে সেক্ষেত্রে আপনাদের নির্বাচনী ফলাফল একটি প্রতারণা। আপনাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।"
প্রবীণ তৃণমূল নেতা কল্যাণের অভিযোগ, একটি পৃথক কমিটি গঠনের জন্য যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে তা দলের সংবিধানের পরিপন্থী ৷ তিনি বলেন, "একটি প্রতারণামূলক পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে ৷ যে প্রস্তাবটি আনা হয়েছে, তা এই প্রতারণামূলক প্রক্রিয়ারই ফল। তাই এটি অত্যন্ত খারাপ ও সম্পূর্ণ অসৎ একটি কাজ ৷ তারা এআইটিসি'র স্বার্থের সম্পূর্ণ পরিপন্থী কাজ করছে ৷
এর আগে 2 জুলাই, নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের, উভয় শিবিরকে 6 জুলাই অর্থাৎ সোমবার বিকেল সাড়ে 5টার মধ্যে তাদের মতামত বা জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

