শেষ পর্যন্ত ভাঙল ঘাসফুলের সংসদীয় দল, 'আদালত ঠিক করবে কে আসল তৃণমূল': হুঙ্কার সুদীপের
প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে দীর্ঘ বৈঠক, পরে স্পিকারের দ্বারস্থ সুদীপ-কাকলিরা ৷ ত্রিপুরার আঞ্চলিক দল এনসিপিআইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার কথা জানালেন উত্তর কলকাতার সাংসদ ৷

Published : June 14, 2026 at 8:45 PM IST
নয়াদিল্লি, 14 জুন: রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে তৃণমূলের অন্দরে নাটকীয় ঘটনার ঘনঘটা ৷ এদিন দুপুর থেকে দীর্ঘক্ষণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়িতে বৈঠক শেষে জানা গেল ত্রিপুরার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন'স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন লোকসভায় তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' 20 জন সাংসদ ৷
এদিন সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকের পর এই সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে চিঠি দেন ৷ তাঁরা সংসদে এনডিএ শিবিরকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন ৷
পরে বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমে পরিষ্কার বলেন, "আমরা ত্রিপুরার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টির সঙ্গে যোগ দিয়েছি ৷ এটা একটা স্বীকৃত আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ৷" তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েই বলেন, "আদালত ঠিক করবে আসল তৃণমূল কে ৷"
Rebel TMC MPs met Lok Sabha Speaker Om Birla at his residence, in Delhi today
— ANI (@ANI) June 14, 2026
After meeting him, Rebel TMC MP Kakoli Ghosh Dastidar said, "We, the twenty MPs elected from the AITC, met the Speaker and submitted a letter requesting to sit separately; these twenty MPs constitute… pic.twitter.com/HTFttYCXdm
এদিন তিনি আরও বলেন, "বিধানসভা হোক বা লোকসভা, দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য দল থেকে বেরিয়ে গেলে তাঁরাই দলের প্রতীক পায় ৷" 1998 সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ সেই নেতা দল ছাড়ার সময় সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই আঙুল তুললেন ৷ তিনি বলেন, "আমাকে দলের নেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল ৷ তার আগে আমি গত 15 বছর ধরে লোকসভায় দলনেতার পদে ছিলাম ৷ শুধু একটা ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে এটা বলা হয়েছিল ৷"
তাঁর স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ও তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হয়ে চৌরঙ্গি বিধানসভা থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছেন ৷ সেই কথাও উল্লেখ করেন প্রবীণ সুদীপ ৷ তিনি বলেন, "আমি নিজে লোকসভা ও বিধানসভা মিলিয়ে মোট 10 বার ভোটে জয়ী হয়েছি ৷ আমার স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচ বার জিতেছেন ৷ সব মিলিয়ে 15 বার আমাদের পরিবার জয়ী হয়েছে ৷ এমন কোনও পরিবার নেই ৷"
তৃণমূলের প্রতীকের দাবি করা নিয়ে সুদীপ জানান, তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন ৷ তাঁর বক্তব্য, "আমরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছি ৷ এটা একটা আঞ্চলিক দল ৷ এটা একটা সিস্টেম ৷ আমরা যখন দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য দল ছাড়ছি, তখন অন্য কেউ দলের নামের দাবি করতে পারে না ৷ জুলাই মাসে আমরা তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের দাবি জানাব ৷ কারণ আমাদের কাছে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদরা রয়েছেন ৷ এরপর আদালত যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে ৷"
ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "20 জনের সই করা চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে ৷ লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা সবার সই যাচাই করে নিয়েছেন ৷" কীর্তি আজাদ ও শত্রুঘ্ন সিনহা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন ৷ এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে সুদীপ বলেন, "ওরা বিহারের মানুষ বাংলার দলকে বেশি সমর্থন করে ৷"
এদিন এই 'বিদ্রোহী' দলে ছিলেন- কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, আবু তাহের, খলিলুর রহমান, অরূপ চক্রবর্তী, মালা রায়, শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষ, জুন মালিয়া, ডা. শর্মিলা সরকার, অভিনেতা দেব, জগদীশ বাসুনিয়া, মিতালি বাগ, ইউসুফ পাঠান, পার্থ ভৌমিক, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাপি হালদার, অসিত মাল, কালীপদ সোরেন ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

