ETV Bharat / bharat

আইপ্যাক তল্লাশির বিরুদ্ধে শাহের দফতরে বিক্ষোভ, তৃণমূল সাংসদদের টেনে প্রিজন ভ্যানে তুলল দিল্লি পুলিশ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দফতরের সামনে তুলকালাম ৷ আইপ্যাক-অভিযানের প্রতিবাদে চলছিল ধর্না-বিক্ষোভ ৷ তৃণমূলের 8 সাংসদকে আটক করল দিল্লি পুলিশ ৷

TMC MPS DETAINED BY DELHI POLICE
তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি (পিটিআই ও এএনআই)
author img

By ANI

Published : January 9, 2026 at 10:57 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 9 জানুয়ারি: তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কলকাতা অফিসে বৃহস্পতিবার ইডির অভিযানকে ঘিরে শুক্রে তুলকালাম দিল্লির রাজপথ ৷ এদিন সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের সামনে তৃণমূলের 8 সাংসদ ধর্নায় বসেন ৷ প্ল্যাকার্ড হাতে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান 40 মিনিট ধরে ৷

খবর পেয়েই দিল্লি পুলিশ সেখানে পৌঁছয় ৷ তাঁদের জোর করে তোলার চেষ্টা করলে শুরু হয় ধস্তাধস্তি । মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায় । ডেরেক ও'ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, বাপি হালদার, শতাব্দী রায়, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল, শর্মিলা সরকার-সহ তৃণমূলের আট সাংসদ হাজির ছিলেন প্রতিবাদ-বিক্ষোভে । তৃণমূল সাংসদের হাতে ছিল কেন্দ্র বিরোধী প্লাকার্ড। শান্তিপূর্ণ অবস্থান বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলেও তাঁরা কেন্দ্র বিরোধী, বিশেষ করে অমিত শাহ বিরোধী স্লোগান দিতে শুরু করেন।

পুলিশ তুলতে এলে অমিত শাহের দফতরের সামনে শুয়ে পড়েন সাংসদ (মথুরাপুর) বাপি হালদার ৷ মহুয়া মৈত্র ও শতাব্দী রায়কে টেনে হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় ৷ পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান ডেরেক ও'ব্রায়েন ৷ তাঁকেও চ্যাংদোলা করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ সাকেতকেও টেনে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ । আপাতত তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৷

তৃণমূল সাংসদদের টেনে প্রিজন ভ্যানে তুলল দিল্লি পুলিশ (পিটিআই ও এএনআই)

তৃণমূল সাংসদদের বক্তব্য

ধস্তাধস্তির সময় পুলিশের উদ্দেশে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন বলেন, "আমাদের সাংসদদের গায়ে হাত দেবেন না । এখানে সাংসদদের সঙ্গে কী ঘটছে, তা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন ।"

এদিন তৃণমূলের আরেক সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, "আমরা বিজেপিকে পরাজিত করব । দিল্লি পুলিশ একজন নির্বাচিত সাংসদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছে, তা দেশ দেখছে ।"

ইডি অভিযানের প্রতিবাদে বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচনে জেতার জন্য তাদের তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পাঠায় । তারা গতকাল ইডির দল পাঠিয়েছে ৷ ভোটে শুধু জেতার জন্য নির্বাচনের সময় ইডি, সিবিআই-এর দল পাঠায়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হবেই ৷"

তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, "ইডি ভুলভাবে অভিযান চালিয়েছে ৷ এটি অগণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনে জেতার একটি প্রচেষ্টা মাত্র । বিজেপি এই উপায়ে নির্বাচনে জিততে পারবে না ।"

এনিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্সে লিখেছেন, "গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচনকে কাজে লাগানো হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের জেলে ঢোকাও। ধর্ষকদের জামিন দাও। এটি বিজেপির নতুন ভারতের রূপ। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করব এবং তোমাদের পরাজিত করব, তোমরা যতই শক্তি প্রয়োগ করো না কেন।"

TMC MPS DETAINED BY DELHI POLICE
ডেরেক ও 'ব্রায়েন ও মহুয়াকে প্রিজন ভ্যানে তোলার মুহূর্ত (এএনআই)

বিজেপির বক্তব্য

এনিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "তৃণমূল নেতারা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সামনে বিক্ষোভ করতে পারবে না ৷ জনসাধারণ তৃণমূলকে চিনে ফেলেছে ৷ তৃণমূলের নেতারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মানুষ হাসবে ৷ একজন মুখ্যমন্ত্রী ইডি তদন্ত চালানোর সময় ফাইল ছিনিয়ে নিচ্ছেন, অথচ কোনও রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়নি ৷ তৃণমূল নেতারা কয়লা কেলেঙ্কারিতে জড়িত ৷ তৃণমূল এবং দুর্নীতি সমার্থক ৷"

ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বাংলায় সক্রিয় ইডি

চলতি বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই আইপ্যাকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনীতি । আইপ্যাক দফতরে ইডির অভিযানের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই রাস্তায় নেমে পড়েছে তৃণমূ ল। কার্যত পুরো দিনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে সরব ছিলেন । তিনি আইপ্যাকের অফিসে দীর্ঘ সময় ছিলেন । কেন্দ্রের তীব্র সমালোচনা করেন । তারপর আজ আইপ্যাক ইস্যুতে উত্তাল দিল্লির রাজনীতি ।