তিন বছরের শিশুকে অপরহরণ, 3 ঘণ্টার মধ্যে মেয়েকে বাবা-মার হাতে তুলে দিল পুলিশ
রেলস্টেশনের বাইরে লাগেজ গোছাতে ব্য়স্ত ছিল দম্পতি ৷ তখনই নজর যায় তাঁদের তিন বছরের বড় মেয়েকে নিয়ে পালাচ্ছে এক যুবক ৷

Published : December 7, 2025 at 8:56 PM IST
কন্যাকুমারী, 7 ডিসেম্বর: অপহরণের অভিযোগ পেতেই হন্যে হয়ে তিন বছরের শিশুর খোঁজ শুরু করে পুলিশ ৷ 3 ঘণ্টার মধ্যেই মিলল সাফল্য ৷ শনিবার সন্ধ্যায় কন্যাকুমারীর নাগেরকয়েল স্টেশন থেকে ওই 3 বছরের মেয়েটিকে অপহরণ করা হয় ৷ সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্থানীয় কোট্টার থানার আধিকারিকদের দ্রুত পদক্ষেপে মেয়েটিকে ফিরে পেল পরিবার ৷
পুলিশের তরফে রবিবার জানানো হয়েছে, 3 ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে খুঁজে বার করা গিয়েছে ৷ মেয়েটিও তার সঙ্গেই ছিল ৷ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ কোট্টার থানার এক আধিকারিক জানান, অভিযুক্তের নাম যোগেশ কুমার ৷ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃত ব্যক্তি কোনও শিশু পাচারকারী দলের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে ৷
পুলিশ সূত্রে খবর, তিন বছরের মেয়েটির বাবার নাম রঞ্জন ৷ মায়ের নাম মুসকা ৷ তাঁরা মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা। ওই দম্পতির তিন মেয়ে রয়েছে ৷ দম্পতির বড় মেয়েকে অপহরণ করা হয় ৷ কোট্টারের সেন্ট জেভিয়ার্স চার্চের সামনে বেলুন বিক্রি করে রঞ্জন ও মুসকার দিন গুজরান হয় ৷ শনিবার সন্ধ্যায়, পুরো পরিবার মধ্যপ্রদেশে যাবে বলে নাগেরকয়েল স্টেশনে পৌঁছয়। রঞ্জন ও মুসকা স্টেশনের সামনে তাঁদের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন ৷
তখন স্টেশনের বাইরে বসে থাকা এক ব্যক্তি হঠাৎ করে এসে তাঁদের বড় মেয়েকে তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়। মেয়েকে কাছে দেখতে না-পেয়ে চারিদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তাঁরা ৷ স্টেশনের সামনে এসে দেখেন এক যুবক মেয়েকে কাঁধে করে তুলে নিয়ে পালাচ্ছে ৷ এক মুহূর্ত দেরি না-করে রঞ্জন ওই ছেলেটিকে তাড়া করে ৷ কিন্তু কোনও লাভ হয়নি ৷ তাঁর বড় মেয়েকে নিয়ে ততক্ষণে অনেক দূরে চলে গিয়েছে যোগেশ। রঞ্জন তখনই রেলপুলিশকে বিষয়টি জানান ৷ নাগেরকয়েল রেলস্টেশন থেকে কোট্টা থানার দূরত্বও খুব বেশি না ৷ সেখান থেকে কোট্টার থানায় পৌঁছে মেয়ের অপহরণেের অভিযোগ দায়ের করেন রঞ্জন ৷
রেলপুলিশ ও কোট্টার পুলিশ যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান শুরু করে ৷ স্টেশনে থাকা বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে কোট্টার থানার পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় এক যুবক কাঁধে করে একটি শিশুকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তারপরই আশপাশের সমস্ত এলাকায় তল্লাশি চালায় পুলিশ ৷ অভিযুক্তকে ভাদাসেরি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে পুলিশের কাছে খবর পৌঁছয় ৷
যোগেশ কুমারের সঙ্গে শিশুটিকেও দেখতে পাওয়া যায় ৷ ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে অপহরণকারী যোগেশ কুমারকে খুঁজে পায় সঙ্গে মেয়েটিকেও উদ্ধার করে পুলিশ ৷ শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আসারিপল্লাম সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় ৷ সেখানে তার শারীরিক পরীক্ষা হয়েছে ৷ যোগেশকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করা হয়। পরে মেয়েটিকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় ৷

