'আমায় ছেড়ে দাও', রিলস বানানোয় নারাজ পরিযায়ী শ্রমিককে ক্ষতবিক্ষত করল 4 নাবালক
ট্রেনে উঠে জোর করে পরিযায়ী শ্রমিককে দলের মধ্যে নিয়ে রিলস বানাতে শুরু করে 4 জন ৷ ভিডিয়ো করতে রাজি না-হওয়ায় তাঁর হাত-পা-মাথায় কোপানো হয় ৷

Published : December 29, 2025 at 9:46 PM IST
তিরুভাল্লুর (তামিলনাড়ু), 29 ডিসেম্বর: পরিযায়ী শ্রমিকের উপর অকথ্য অত্যাচার তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুরে ! রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে তিরুত্তানি রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ৷ মহারাষ্ট্রের ওই যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা ৷ তাঁর হাত-পা-মাথা এবং সারা শরীরে ছুরির অসংখ্য আঘাতের দাগ দেখে স্থানীয়রা তড়িঘড়ি পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ও স্থানীয় তিরুত্তানি হাসপাতালে ভর্তি করে।
বর্তমানে ওই পরিযায়ী অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে আইসিইউয়ে ভর্তি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করেছে ৷ পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই যুবক মহারাষ্ট্রের কোলাপুরের বাসিন্দা ৷ তাঁর নাম সূরাজ, বছর 34 । তিনি পেশায় দিনমজুর ৷ চেন্নাই থেকে ট্রেনে করে তিরুত্তানি যাচ্ছিলেন। তিরুভাল্লুর স্টেশনে 4 নাবালক ট্রেনে ওঠে ৷ তারপরই হঠাৎ একটি ছুরি নিয়ে সূরাজের কাছে এসে সোশাল মিডিয়ার জন্য ভিডিয়ো করতে শুরু করে। তাঁকে নিজেদের দলের মধ্যে নিয়ে রিলস ভিডিয়ো তৈরি করে ৷
ভিডিয়োর মাঝেই 34 বছরের সূরাজ বলে ওঠেন তিনি পরিযায়ী শ্রমিক ৷ তাঁকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয় ৷ ততক্ষণে তাঁকে জাপটে ধরেছিল ওই 4 জন ৷ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নাবালকরা ৷ তাঁকে পরের স্টেশনে ট্রেন থেকে নামতে বাধ্য করে ও একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় ৷ এরপরই সূরাজের উপর 4 জন মিলে চড়াও হয় ৷ ছুরি দিয়ে কোপাতে শুরু করে। সূরাজের শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ৷ তিনি প্রাণভিক্ষা করতে থাকেন ৷ নাবালকরা ওই দৃশ্যটিও ক্যামেরাবন্দি করে ৷ পরে তারা সেখানে থেকে পালিয়ে যায় ৷ আরও পরে সোশাল মিডিয়ায় নৃশংশ আক্রমণের ভিডিয়ো পোস্ট করে ৷
ভিডিয়োটি ভাইরাল হতে বেশি সময় লাগেনি ৷ এরপরই নেটিজেনরা ক্ষোভ উগরে দেন ৷ ভাইরাল ভিডিয়োটি পৌঁছয় তিরুত্তানি পুলিশের কাছে ৷ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয় ৷ রক্তাক্ত অবস্থায় যুবককে পড়ে থাকতে দেখে এলাকার স্থানীয়রাও এদিকে পুলিশে খবর দেয় ৷ হামলাকাণ্ডে জড়িতদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন তদন্তকারী অফিসাররা ৷
জানা যায়, অভিযুক্তদের সকলেরই বাড়ি তিরুভাল্লুরের কাছে ৷ তাছাড়া এই চারজনেরই বয়স 17 ৷ পরে তাদের সন্ধান পায় পুলিশ ৷ তাদের পরিচয় প্রকাশ্যে আনা হয়েছে ৷ এই চারজনের মধ্যে আছে হরিচন্দ্রপুরমের বাসিন্দা নন্দগোপাল, আরাক্কোনমের সন্তোষ ও ভিকি (17) এবং তিরুত্তানির নেমিলির সন্তোষ। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে পরবর্তী তদন্ত চালাচ্ছে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে ৷ ওই চারজন পুলিশকে জানিয়েছে তারা তিরুভাল্লুর থেকে ট্রেনে ওঠে ৷ প্রথমে আক্রান্তের গলায় কাস্তে এবং ছুরি ধরে রিল রেকর্ড করে ৷ ওই পরিযায়ী শ্রমিক ভিডিয়োতে আপত্তি জানাতেই তাঁকে পরবর্তী স্টেশনে টেনে-হিঁচড়ে ট্রেন থেকে নামায় ৷ সেখানে তারা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে ও ভিডিয়ো করে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই চারজনকেই জেলার একটি বোর্স্টাল স্কুলে পাঠানো হয়েছে ৷ উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুতে 1925 সাল থেকে এই বোর্স্টাল স্কুল চলছে ৷ এই স্কুলে অপ্রাপ্তবয়স্ক যুবকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ও নৈতিক আচরণের উন্নতির পাঠ দেওয়া হয় ৷

