শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর হাতে গ্রেফতার তামিলনাড়ুর 35 মৎস্যজীবী
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর হাতে ফের গ্রেফতার মৎস্যজীবী ৷ এর জেরে তামিলনাড়ুর উপকূলীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে ৷

Published : November 3, 2025 at 4:08 PM IST
রামানাথপুরম, 3 নভেম্বর: আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা (আইএমবিএল) অতিক্রম করে সীমান্ত পেরিয়ে মাছ ধরার অভিযোগে তামিলনাড়ুর 35 জন মৎস্যজীবীকে গ্রেফতার করেছে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ৷ মৎস্যজীবীদের একটি দেশীয় নৌকা এবং তিনটি যান্ত্রচালিত নৌকাও বাজেয়াপ্ত করেছে নৌবাহিনী।
গ্রেফতার করা হয়েছে যাদের, তাদের মধ্যে রবিবার তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি বন্দর থেকে আসা চার মৎস্যজীবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে ৷ শ্রীলঙ্কার সমুদ্রে ঢুকে মাছ ধরার জন্য তাদের দেশীয় নৌকাটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এরপর একই অভিযোগে 31 জন মৎস্যজীবীকেও পরে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা তিনটি মোটর বোটে ছিলেন ৷ দুটিতে 10 জন করে এবং একটিতে 11 জন মৎস্যজীবী ছিলেন। তিনটি মোটর বোটও বাজেয়াপ্ত করেছে সে দেশের নৌবাহিনী।
গ্রেফতারের পর, এই 35 জন মৎস্যজীবীকে কাঙ্কেশান্তুরাই নৌবাহিনী ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর ৷ তদন্তের পর জাফনা মৎস্য বিভাগের আধিকারিকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানা গিয়েছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এদের সকলকেই আদালতে হাজির করে জেল হেফাজতে পাঠানোর আবেদন করা হবে। জাফনা মৎস্য বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গ্রেফতার হওয়া মৎস্যজীবীরা তামিলনাড়ুর নাগাপট্টিনাম এবং করাইকাল এলাকার হতে পারে।
এই ঘটনা ফের তামিলনাড়ুর উপকূলীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ৷ গত দেড় মাসে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী 40 জনেরও বেশি মৎস্যজীবীকে সীমা অতিক্রম করার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে। মৎস্যজীবীদের পরিবার বারবার গ্রেফতার এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সামুদ্রিক বিরোধের সমাধানের জন্য ক্রমাগত দাবি জানিয়ে আসছে। তারা ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ এবং তামিলনাড়ুর মৎস্যজীবীদের উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে ৷ যারা আগে গ্রেফতার হয়ে বন্দি ছিলেন, তাদেরও ছাড়া হয়নি ৷ তাদের বর্তমানে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।
এর আগেও একাধিকবার শ্রীলঙ্কায় গ্রেফতার হওয়া মৎসজীবীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্ট্যালিন ৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে এমনই আর্জি করেছিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন ৷ বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে লেখা চিঠিতে স্ট্যালিন বলেছেন, "ভারতীয় মৎসজীবী সর্বোপরি তামিলনাড়ুর মৎসজীবীদের নিরাপত্তা এবং জীবিকার প্রসঙ্গে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ৷ এই বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি ৷"

