'পিঁপড়েদের সঙ্গে থাকতে পারব না', নিজেকে শেষ করলেন পুত্রবধূ
পিঁপড়ের ভয়ে চরম পদক্ষেপ বছর পঁচিশের মহিলার ৷ নিজের জীবন নেওয়ার আগে ওই গৃহবধূ একটি নোট লিখে গিয়েছেন স্বামীর জন্য ৷

Published : November 7, 2025 at 3:53 PM IST
সাঙ্গারেড্ডি (তেলেঙ্গানা), 7 নভেম্বর: সাপ, আরশোলা, উচ্চতা বা অন্ধকার...এমন জিনিসে ভয় কমবেশি অনেকেই পান ৷ কিন্তু ভয় যখন যুক্তির সীমানা পেরিয়ে এক তীব্র ও অমূলক আতঙ্কে পরিণত হয়, তখন মনোবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে 'ফোবিয়া' বলা হয় ৷ মানুষের মন এতটাই জটিল যে এমন বিচিত্র ফোবিয়া রয়েছে, যা শুনলে অবাক হতে হয়। তেমনই এক দৃষ্টান্ত পিঁপড়ে দেখলে মারাত্মক ভয় পাওয়া ৷ আর সেই ভয় থেকে এক লহমায় নিজের জীবন নিলেন এক গৃহবধূ ৷ ঘটনাটি ঘটেছে তেলেঙ্গানার সাঙ্গারেড্ডি জেলার পাটানচেরু মণ্ডলের আমিনপুর এলাকায় ৷
স্বামীর কাছে ক্ষমা চেয়ে মেয়ের যত্ন নেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। মৃত্যুর আগে নিখে গিয়েছেন একটি নোট ৷ আমিনপুর থানার সিআই নরেশ জানান, 2022 মানচেরিয়াল এলাকার সফটওয়্যার কর্মচারী দয়াবানপল্লি শ্রীকান্ত ওই শহরের মনীষাকে (25) বিয়ে করেন। তাঁদের তিন বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। গত 4 তারিখ তাঁর স্বামী কাজে বেরিয়ে যান ৷ সেদিন ওই মহিলা এক আত্মীয়ের বাড়িতে মেয়েকে রেখে এসেছিলেন তিনি। বাড়ি পরিষ্কার করার পরেই মেয়েকে আবার তিনি নিয়ে যাবেন বলে তাঁদেরকে জানিয়েছিলেন। সিআই নরেশের আরও সংযোজন, "ঘর পরিষ্কারের সময় পিঁপড়ে দেখে হয়তো থাকতে পারেননি তিনি ৷"

সন্ধ্যায় তাঁর স্বামী বাড়ি ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ৷ বেশ কিছুক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পর দরজা ভেঙে ফেলা হয় ৷ প্রতিবেশীরাও এগিয়ে আসেন সাহায্যের জন্য ৷ বন্ধ ঘরের ভিতর থেকে পুত্রবধূর দেহ উদ্ধার হয় ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পিঁপড়ে দেখে মারাত্মক রকমের আতঙ্ক কাজ করত মনীষার ৷ সেই ভয় থেকেই নিজের জীবন নিয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই মনীষা মিরমিকোফোবিয়া (পিঁপড়ার ভয়) রোগে ভুগছিলেন। তিনি এনিয়ে স্থানীয় এক মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শও নিয়েছিলেন।
পাশাপাশি, তাঁর বাপের বাড়ির এলাকার একটি হাসপাতালে কাউন্সেলিং করিয়েছিলেন তিনি। তবু পিঁপড়ে নিয়ে তাঁর ভয় কাটেনি। মনীষার মৃতদেহের পাশ থেকে যে নোটটি পাওয়া গিয়েছে ৷ তাতে লেখা, "আমি আর পিঁপড়ের সঙ্গে বাস করতে পারব না।" স্বামীর কাছে ক্ষমা চেয়ে মেয়ের যত্ন নেওয়ার আবেদনও করেছেন তিনি। এই সঙ্গেই তিরুপতিতে টাকা দিয়ে 'অন্নভরম' (চাল বা ভাত দেওয়া) করতে স্বামী যেন ভুলে না যান, সেই কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে এবং মৃতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এনিয়ে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, পিঁপড়ে দেখলেই মিরমিকোফোবিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিরা চরম আতঙ্ক অনুভব করেন।
মিরমিকোফোবিয়া কী ? মিরমিকোফোবিয়া হল পিঁপড়ার প্রতি তীব্র ভয়। এর ফলে শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে আতঙ্কের আক্রমণ, শরীরে কাঁপুনি, বমি বমি ভাব এবং পালিয়ে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছে। পিঁপড়ের কথা ভাবলে বা দেখলেই উদ্বেগ এবং আতঙ্কে ভুগতে থাকেন রোগী। বারবার এই ভয়ঙ্কর ছবিগুলি রোগীর মনে করতে থাকলে তাঁদের মনে হয় পিঁপড়ের ঝাঁক এই বুঝি আক্রমণ করতে চলেছে । এর ফলে দ্রুত হৃদস্পন্দন, ঘাম এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়।

