NCERT পাঠ্যবইয়ে বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতি: স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের; ক্ষুব্ধ দেশের প্রধান বিচারপতি
NCERT-র নয়া পাঠ্যবইয়ে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতি নিয়ে পড়ানো হবে ৷ তারা দেশের আদালগুলিতে জমে থাকা নিষ্পত্তি না-হওয়া মামলার বিষয়ে জানবে ৷

Published : February 25, 2026 at 2:22 PM IST
নয়াদিল্লি, 25 ফেব্রুয়ারি: অষ্টম শ্রেণির এনসিইআরটি'র পাঠ্যবইয়ে বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতি ! পড়ুয়ারা এই দুর্নীতির কথা পড়বে ৷ এর প্রেক্ষিতে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট ৷ বুধবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, "কেউ আদালতের সম্মানহানি করবে, এটা হতে দেব না ৷"
অষ্টম শ্রেণির পাঠ্য বইয়ের 'এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড' অধ্যায়ের অন্তর্গত 'দ্য রোল অফ দ্য জুডিশিয়ারি ইন আওয়ার সোসাইটি' শীর্ষক আরেকটি অধ্যায় রয়েছে ৷ সেখানে দু'টি বিভাগ রয়েছে- 'জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনায়েড' অর্থাৎ বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার অর্থ বিচার না পাওয়া ৷ আরেকটি 'করাপশন ইন দ্য জুডিশিয়ারি' অর্থাৎ বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি ৷ এর সঙ্গে দেশের আদালতগুলিতে বিপুল সংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির জন্য জমে আছে, তাও পড়ানো হবে ছাত্রছাত্রীদের ৷
বুধবার প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল ও অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ৷ তাঁরা বলেন, অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতি নিয়ে পড়ানো হবে ৷ এটা অত্যন্ত দুশ্চিন্তার ৷ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তখন জানান, তিনি বিষয়টি জানেন ৷ তিনি বলেন, "কেউ এই প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করবে, এটা আমি হতে দেব না ৷ এটা কীভাবে সামলাতে হবে ৷ সেটা আমি জানি ৷"
এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে 'বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতি'র প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা গ্রহণে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ৷ তাঁর পর্যবেক্ষণ, "এটা সুপরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত করা হয়েছে ৷ এর বেশি কিছু আমি বলতে চাই না ৷"
NCERT অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের সমাজ বিজ্ঞানের বইয়ের পাঠ্যসূচিতে কিছু পরিবর্তন করেছে ৷ সেখানে বিচার ব্যবস্থার কাঠামোর বিষয় বাদ দিয়ে দুর্নীতির বিষয়টি সংযোজন করা হয়েছে ৷ এর আগে পড়ুয়ারা বিচার ব্যবস্থার কাঠামো এবং দেশে আদালতের ভূমিকা নিয়ে পড়ত ৷ এবার দুর্নীতির কথা জানবে ৷
অষ্টম শ্রেণির টেক্সট বইয়ের 'এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড' অধ্যায়ের অন্তর্গত 'দ্য রোল অফ দ্য জুডিশিয়ারি ইন আওয়ার সোসাইটি' শীর্ষক আরেকটি অধ্যায় রয়েছে ৷ সেখানে দু'টি বিভাগ রয়েছে- 'জাস্টিস ডিলেড ইজ জাস্টিস ডিনায়েড' অর্থাৎ বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার অর্থ বিচার না পাওয়া ৷ আরেকটি 'করাপশন ইন দ্য জুডিশিয়ারি' অর্থাৎ বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি ৷
এই দু'টি বিভাগে বিচার ব্যবস্থার ব্যাখ্যা এবং আদালতের শ্রেণিবিন্যাস, বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে বিচার ব্যবস্থার কী কী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় সেগুলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে ৷ এর মধ্যে দুর্নীতি এবং নিষ্পত্তি না-হওয়া মামলার সংখ্যার বিষয়টিও রয়েছে ৷ পুরনো টেক্সট বইয়ে শুধু বিচার ব্যবস্থার ভূমিকা এবং আদালতের কাঠামো নিয়ে লেখা হয়েছিল ৷ সেখানে দুর্নীতি বা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা মামলার সংখ্যার কথা উল্লেখ ছিল না ৷
নতুন টেক্সট বইয়ের 'বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতি' শীর্ষক বিভাগের একটি অংশে লেখা রয়েছে, "বিচারপতিরা আইনের দ্বারা শৃঙ্খলাবদ্ধ ৷ শুধু আদালতের মধ্য়ে নয়, বাইরেও তাঁরা বিধিবদ্ধ আচরণে বাধ্য ৷ যখন বিচারপতিরা এই আচার পালনে ব্যর্থ হন, তখন বিচার ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা অনুযায়ী তাঁরা জবাবদিহি করতে বাধ্য হন এবং বিচার বিভাগীয় জীবনের মূল্যবোধ তাঁদের নিশ্চিত করতে হবে ৷"

