ETV Bharat / bharat

কুকুর কামড়াবে কি কামড়াবে না, মন বুঝবে কে ? প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

পথকুকুরদের কামড়ানোর ঘটনায় গত বছর স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট ৷ সেই শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত রাস্তায় কুকুরদের উপস্থিতি নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ করে ৷

Supreme Court
সুপ্রিম কোর্ট (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : January 7, 2026 at 7:28 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 7 জানুয়ারি: কুকুররা কখন কোন মুডে থাকবে, মানুষকে কামড়াবে নাকি কামড়াবে না, এটা কে বুঝবে ? বুধবার পথকুকুরদের নিয়ে মামলার শুনানিতে এই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট ৷ এদিন বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আনজারিয়ার বেঞ্চ জানায়, পশুর মন কেউ বুঝতে পারে না ৷ একটি কুকুর কখন কোন মুডে আছে, তার কাউন্সেলিং করা উচিত কি না, কে বুঝবে ?

এদিন পথকুকুরদের কামড়ানোর পাশাপাশি চারচাকা বা দু'চাকার গাড়ি বা সাইকেল আরোহীদের কুকুরদের ধাওয়ার করার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিন বিচারপতির বেঞ্চ ৷ বিচারপতি সন্দীপ মেহতা উল্লেখ করেন, গত 20 দিনে পথকুকুরদের ধাওয়া করার ফলে রাজস্থান হাইকোর্টের একাধিক বিচারপতি বারবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন ৷ তাঁদের মধ্যে একজন বিচারপতির মেরুদণ্ডে চোট লেগেছে ৷ তিনি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, "এটা একটা গুরুতর ব্যাপার ৷" এই মামলার পরবর্তী শুনানি, আগামিকাল 8 জানুয়ারি ৷

গত বছরের 28 জুলাই পথকুকুরদের কামড়ানো নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট ৷ দেশের শীর্ষ আদালতে সেই মামলার শুনানি ছিল এদিন ৷ বিচারপতি বিক্রম নাথের পর্যবেক্ষণ, রাস্তাঘাটে ঘোরাফেরা করা কুকুরা কামড়ায় ৷ আবার স্কুটার-বাইক-সাইকেলে চড়ে যাওয়া পথচারীদের দিকে তেড়ে আসে, তাঁদের ধাওয়া করে ৷ ওই পথচারীরা ভয় পেয়ে যায় ৷ কখনও সখনও দুর্ঘটনা ঘটে ৷

বিচারপতি বিক্রম নাথ বলেন, "কুকুরগুলি যখন রাস্তায় ছুটে বেড়াচ্ছে, তখন তাদের পাশ দিয়ে যে কোনও যান চলাচলই বিপজ্জনক ৷ বিশেষত, দু'চাকার কোনও গাড়িতে বা সাইকেল আরোহীর পক্ষে ৷ আর আপনার জন্য়ও, আপনি দু'চাকার গাড়িতে থাকুন বা না-ই থাকুন ৷" শুধু কুকুরের কামড়ানোটা ইস্যু নয়, তারা রাস্তায় দু'চাকার যানের পিছনে ছুটতে থাকে ৷

মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী কপিল সিবাল পথকুকুরদের পক্ষে সওয়াল করেন, সব কুকুর এমন করে না ৷ তখন বিচারপতি বিক্রম নাথ তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করে, "আপনি কী করে জানবেন, সকালে কোন কুকুর কোন মুডে আছে ? আপনি তো সেটা জানেন না ৷"

এর উত্তরে আইনজীবী কপিল সিবাল ফের সওয়াল করেন, "তাহলে সব কুকুরকে শেল্টারে পাঠিয়ে দেওয়াটাই কি সমাধান ?" এর উত্তরে বেঞ্চ সাফ জানায়, রাস্তাঘাটে যাতে কোনও কুকুর না-থাকে, তা নিশ্চিত করতে কোনও একটা প্রক্রিয়া প্রয়োজন ৷

এর উত্তরে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল জানান, কুকুররা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে থাকে ৷ তারা একটা কম্পাউন্ডে থাকে ৷ তিনি বলেন, "আমি যখন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন সেখানে অনেক কুকুর ছিল ৷ কিন্তু কেউ আমায় কামড়ায়নি ৷" বিচারপতি সন্দীপ মেহতা প্রশ্ন করেন, "আপনি সত্যি বলছেন ? কিন্তু আপনার এই তথ্য পুরনো ৷ বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত 'ন্যাশনাল ল স্কুল অফ ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি'তে বহু কুকুরের আক্রমণের খবর মিলেছে ৷"

বিচারপতি বিক্রম নাথ জানান, কুকুরদের কামড়ানোর ঘটনা মোকাবিলায় কোনও একটি প্রক্রিয়া দরকার ৷ তিনি বলেন, "কেউ বলছে না যে কুকুরদের গুলি করে রাস্তা পরিষ্কার করে ফেলো ৷" এই সময় কপিল সিবাল বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে তৈরি কোনও পদ্ধতিতে এই সমস্যা সমাধানের বার্তা দেন ৷ তিনি জোর দেন, সব কুকুরদের শেল্টারে পুরে দেওয়াটা সমাধান নয় ৷