ETV Bharat / bharat

দিল্লি হিংসা মামলায় উমর-শারজিলের জামিন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

এই দুই ছাত্রনেতা ছাড়া ঘটনায় অভিযুক্ত বাকিদের এদিন জামিন দেয় শীর্ষ আদালত ৷ তাঁদের থেকে অভিযোগের গুরুত্ব ভিন্ন বলে খালিদ ও শারজিলের জামিন অধরা ৷

Umar Khalid bail in Supreme Court
সুপ্রিম কোর্টে জামিন খারিজ উমর-শারজিলের (ফাইল ছবি)
author img

By Sumit Saxena

Published : January 5, 2026 at 11:30 AM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 5 জানুয়ারি: দিল্লি হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও শারজিল ইমামদের জামিন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট ৷ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিনা বিচারে জেল বন্দি খালিদরা ৷ সোমবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এনভি আনজারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চের রায় ঘোষণা করার কথা ছিল ৷

তাতেই খালিদ এবং ইমাম সম্পর্কে শীর্ষ আদালত বলেছে যে, খালিদ এবং ইমাম অন্যান্য অভিযুক্তদের তুলনায় গুণগতভাবে ভিন্ন অবস্থানে রয়েছেন ৷ তাই মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হলেও ওই দুই ছাত্রনেতাকে জামিন দেওয়া হল না ৷ যারা জামিন পেলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গলফিশা ফাতিমা, মীরা হায়দার, শিফা উর রেহমান, মহম্মদ সেলিম খান এবং শাদাব আহমেদ । তবে একবছর বা এই মামলায় সব সাক্ষীর বয়ান রেকর্ডের পর নতুন করে জামিনের আবেদন করতে পারেন খালিদ ও ইমাম । এই স্বাধীনতা মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট ৷

2020 সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি), নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ)-র প্রতিবাদে দিল্লিতে হিংসার ঘটনা ঘটে ৷ এই সংঘর্ষে 53 জনের মৃত্যু হয়েছিল ৷ আহতের সংখ্যা ছিল 700 জনেরও বেশি ৷ সংঘর্ষের নেপথ্যে বৃহত্তর চক্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছিল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র উমর খালিদ, শারজিল ইমামদের বিরুদ্ধে ৷

Sharjeel Imam Umar Khalid and
শারজিল ইমাম (বাঁদিকে) ও উমর খালিদের জামিন অধরা সুপ্রিম কোর্টে (এএনআই)

ওই বছরের সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার হন উমর খালিদ, শারজিল ইমাম, গুলফিশা ফতিমা, মীরন হায়দার, শাদাব আহমেদ এবং মহম্মদ সেলিম খান-সহ আরও অনেকে ৷ তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ইউএপিএ (আন-ল-ফুল অ্যাকটিভিটিজ (প্রিভেনশন) অ্যাক্ট, 1967)-সহ আরও বেশ কয়েকটি আইনের একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে দিল্লি পুলিশ ৷ ইউএপিএ-তে কাউকে গ্রেফতার করা হলে, বিনা বিচারে এবং দোষী সাব্যস্ত না-হলেও তাঁকে কারাবন্দি করে রেখে দেওয়া যায় ৷ খালিদ, শারজিল এবং অন্য ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগের ফলে সারা দেশের ছাত্রসমাজ মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করে ৷

প্রথম এফআইআর হয়েছিল 2020 সালের মার্চ মাসে ৷ শেষ এফআইআর হয়েছিল 2023 সালের জুনে ৷ এই ঘটনায় পাঁচটি চার্জশিট পেশ করে দিল্লি পুলিশ ৷ 2023 সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন জানালেও তা পিছিয়ে যায় ৷ বিচারপতি এএস বোপান্ন এবং বিচারপতি বেলা এম ত্রিবেদীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি ৷ বেঞ্চ দেশের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের কাছে তালিকাভুক্ত করার কথা জানায়, যাতে তিনি এই মামলাটি অন্য বেঞ্চে স্থানান্তরিত করেন ৷ পরে বিচারপতি পিকে মিশ্রের এজলাসে এই মামলার শুনানির জন্য যায় ৷ তিনি নিজেকে এই মামলার শুনানি থেকে প্রত্যাহার করে নেন ৷ এরপর খালিদ নিম্ন আদালতে জামিনের চেষ্টা করেন ৷ কিন্তু তিনি জামিন পাননি ৷

2024 সালের ডিসেম্বরে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নবীন চাওলা এবং শলিন্দর কৌর উমর খালিদের জামিনের আবেদন শোনেন ৷ 9 জুলাই, 2025 বেঞ্চ রায়দান স্থগিত রাখে ৷ 2 সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট খালিদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় ৷ বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, দিল্লির সংঘর্ষের ঘটনার নেপথ্যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল ৷ সংঘর্ষ ঘটানোর চক্রান্ত অনেক আগে থেকে এবং সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল ৷

এরপর 10 সেপ্টেম্বর খালিদ দিল্লি হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন ৷ 31 অক্টোবর দিল্লি হাইকোর্টে উমর খালিদ, শারজিল ইমাম, গুলফিশা ফতিমা এবং অন্য অভিযুক্তদের জামিনের শুনানি শুরু হয় ৷ তাঁদের পক্ষে কপিল সিবাল, অভিষেক মনু সিংভি, সিদ্ধার্থ দাভে, সলমন খুরশিদ, সিদ্ধার্থ আগরওয়ালের মতো প্রথিতযশা প্রবীণ আইনজীবীরা সওয়াল করেন ৷ অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং দিল্লি পুলিশের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু ৷

এই শুনানিতে এএসজি রাজু শারজিল ইমামের বক্তৃতাংশ একটি অংশ তুলে অভিযোগ করেন, খালিদ-ইমামরা সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করছিল ৷ 10 ডিসেম্বর সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি আনজারিয়ার বেঞ্চ রায়দান স্থগিত রাখে ৷ এর মধ্যে 11 ডিসেম্বর দিল্লির কারকারডুমা আদালত উমর খালিদকে 16 ডিসেম্বর থেকে 29 ডিসেম্বর পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করে ৷ তাঁর বোনের বিয়ে উপলক্ষ্যে ৷ জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর খালিদ আবার জেলে ফিরে যান ৷ 3 জানুয়ারি জানা যায়, দুই বিচারপতির বেঞ্চ আগামী 5 জানুয়ারি রায় ঘোষণা করবেন ৷ সেই মতো আজ রায় ঘোষণা করার সময় দুই ছাত্রনেতার জামিন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট ৷