ETV Bharat / bharat

SIR শেষ করতে ভিন রাজ্যের বিচারকদের কাজে লাগান, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর-এর জরুরি শুনানি হল মঙ্গলবার । শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, পার্শ্ববর্তী রাজ্য থেকে বিচারকদের এনে বাংলায় SIR-এর কাজ দ্রুত শেষ করা হোক ৷

SIR IN BEGAL
সুপ্রিম কোর্ট (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 24, 2026 at 11:45 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 24 ফেব্রুয়ারি: SIR-এর লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির কাজ শেষ করার জন্য এবার ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে বিচারকদের কাজে লাগাতে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের । পরিস্থিতি বিস্তারিত জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল সুপ্রিম কোর্টে গত 22 ফেব্রুয়ারি চিঠি দিয়েছিলেন ৷ সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন প্রায় 80 লক্ষ নথি খতিয়ে দেখার কাজ এখনও বাকি ।

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের 294 জন কর্মরত ও প্রাক্তন বিচারকদের নিয়োগ করা হয়েছে । তাঁরা প্রতিদিন 250 জনের নথি যাচাই করলেও 80 দিন লেগে যাবে এই কাজ সম্পন্ন করতে । এদিকে আজ, মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানি করা হয় ।

তথ্য যাচাই বাকি

প্রায় 80 লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি এবং আনম্যাপড তালিকা রয়েছে । এর মধ্যে জেলা বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা বিচারক পদমর্যাদার 250 জন বিচার বিভাগীয় অফিসারকে প্রায় 50 লক্ষ দাবি যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, পার্শ্ববর্তী রাজ্যের বিচারক যারা বাংলা ভাষা বোঝেন, তাঁদের নিযুক্ত করতে পারেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ৷

রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বল ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে বিচারক নিয়োগের বিরোধী ৷ তাঁরা বলেন, "ওই বিচারকরা (ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের) বাংলা ভাষা বুঝতে পারবেন না, ফলে সমস্যা হবে ।" এর জবাবে সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ জানিয়েছে, যেহেতু ভৌগোলিকভাবে এই রাজ্যগুলি পাশাপাশি রয়েছে ফলে কিছু অংশের লোকজন পশ্চিমবঙ্গের ভাষা বোঝেন । এ ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্ত নেবেন ।

একইসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র পকসো ও এনডিপিএস আদালতের বিচারকদের নিয়োগ করা হয়েছে । শীর্ষ আদালত এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দেয়নি ৷ আগামী 28 ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন বাংলায় SIR পরবর্তী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে । পরে কাজ যেভাবে এগোবে সেইভাবেই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করবে ।

এই পরিস্থিতির উপর বিচার করে প্রধান বিচারপতি জানান, নথি যাচাইয়ের এই কাজে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি 3 বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন (সিনিয়র ও জুনিয়র ডিভিশনের) জজ পদমর্যাদার অফিসারদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন । কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তরফে কোনও আবেদন এলে সে বিষয়ে সাহায্য করার জন্য প্রধান বিচারপতি ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিদের অনুরোধ করেন ৷

ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং সময়ের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনা করে, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বাংলায় এসআইআরের বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভিন রাজ্যের বিচারকদের নিয়োগের অনুমতি দিয়েছে । ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নিয়োগের খরচ বহন করবে নির্বাচন কমিশন, এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট ৷

রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, “কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি শীর্ষ আদালতে রিপোর্ট পাঠিয়ে জানিয়েছেন রাজ্যে পর্যাপ্ত জুডিশিয়াল অফিসার নেই । তারপরই সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ হিসাবে এই মামলাটি শোনে । প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, 250 জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । কিন্তু আরও প্রয়োজন । সেই কারণে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, সিনিয়র এবং জুনিয়র ডিভিশনের সকল বিচারককে নেওয়া যেতে পারে ৷ কাদের নিয়োগ করা হবে, তা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ঠিক করবেন ৷ এছাড়া আগের নির্দেশই বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদেরও নেওয়া যেতে পারে ৷ এর পরেও পর্যাপ্ত না-হলে ঝাড়খণ্ড এবং ওড়িশা থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের চেয়ে রিকুইজিশন করতে পারেন প্রধান বিচারপতি।”

তিনি আরও বলেন, “বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ৷ তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে কাজ করছেন। অন্য কেউ কোনও নির্দেশ দিতে পারবেন না । 28 তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার পরে বেশ কিছু অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হবে । সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের কোনও নির্দেশ দেওয়া যাবে না ৷ তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে কাজ করবেন।"