ETV Bharat / bharat

SIR: বিচার বিভাগের উপর প্রভাব খাটানো হচ্ছে ! রাজ্যের আপত্তি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

এসআইআর নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীদের ৷ কিন্তু রাজ্যের আবেদনে সাড়া দিল না শীর্ষ আদালত ৷

SIR in WB 2026
SIR নিয়ে রাজ্যের আপত্তি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 27, 2026 at 1:06 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 27 ফেব্রুয়ারি: এসআইআর (SIR) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মামলায় কর্ণপাতই করল না সুপ্রিম কোর্ট ৷ SIR প্রক্রিয়ার কাজে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে শুক্রবার রাজ্যের তরফে আপত্তি জানানো হয় সুপ্রিম কোর্টে ৷ বিচার বিভাগের উপরও প্রভাব খাটানো হচ্ছে বলে রাজ্য আপত্তি করলেও প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ সেই মামলা পত্রপাঠ খারিজ করে দেয় ৷

সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দেয়, আদালত তাদের বিচার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের জানে ৷ তাঁরা কোনও কিছুর দ্বারা প্রভাবিত হবেন না বলেও জানান প্রধান বিচারপতি ৷ এরপরই মামলাটি আর গ্রহণ করেনি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ ৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে আদালতে দাখিল করা হয় যে, নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ মডিউল জারি করেছে ৷ রাজ্যের তরফে আইনজীবী কপিল সিব্বল বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সিব্বল বলেন, "কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে ৷ যদিও আপনারা আদেশ দিয়েছেন, সমস্ত পদ্ধতি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং কমিটি দ্বারা নিষ্পত্তি করা হবে ৷ কিন্তু সবটাই হচ্ছে পিছন থেকে ৷ আধিকারিকদের জন্য নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে এবং ট্রেনিং মডিউল জারি করা হয়েছে ৷ যেখানে বলা হয়েছে কোনটা তাঁদের গ্রহণ করা উচিত, আর কোনটা উচিত নয় ৷" যদিও সিব্বলের এদিনের সওয়ালে আমল দেয়নি শীর্ষ আদালত ৷ পাল্টা প্রধান বিচারপতি জানান, রাজ্যে SIR অনুশীলনের জন্য মোতায়েন করা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবেন ৷ প্রধান বিচারপতি বলেন, "আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোন নথিগুলি খতিয়ে দেখা উচিত বা খতিয়ে দেখতে হবে ৷ আমরা এভাবে কোনও শুনব না। এই বিতর্কের অবসান ঘটাতেই হবে। আমরা আমাদের বিচার বিভাগের আধিকারিকদের ভালো করে জানি ৷ তাদের কোনও কিছুর দ্বারা প্রভাবিত করা যাবে না ৷"

অন্যদিকে, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, "আমাদের আদেশ দিবালোকের মতো স্পষ্ট ৷" বেঞ্চ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন বা রাজ্য সরকার কেউই এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশের বাইরে যেতে পারবে না ৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে চলা দ্বন্দ্বে হতাশ হয়ে, শীর্ষ আদালত গত 20 ফেব্রুয়ারি রাজ্যে বিতর্কিত ভোটার তালিকার এসআইআর-এ নির্বাচন প্যানেলকে সহায়তা করার জন্য কর্মরত এবং প্রাক্তন জেলা বিচারকদের মোতায়েনের নির্দেশ জারি করে। 24 ফেব্রুয়ারি, শীর্ষ আদালত পশ্চিমবঙ্গের সিভিল বিচারক, 250 জেলা বিচারক ছাড়াও, রাজ্যে এসআইআর-এ ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখতে এবং আপত্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন ৷ এর জন্য ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার বিচার বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে আসারও অনুমতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

এদিকে, 'গোপনে নির্দেশ' দেওয়া সংক্রান্ত রাজ্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল ৷ তিনি বলেন, "কখন এমন নির্দেশ দিয়েছি সেটা আমাকে জানাতে হবে। আমার কাছে কেউ কোনও অভিযোগ জানায়নি"