থারুর রহস্য ! খাড়গে-সোনিয়ার পর রাহুলের বৈঠকেও নেই শশী
লোকসভায় দলের রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠকে বসলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-সহ অন্য সাংসদরা ৷ তাঁদের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা ৷

By ANI
Published : December 12, 2025 at 2:14 PM IST
নয়াদিল্লি, 12 ডিসেম্বর: কংগ্রেস সাংসদদের বৈঠকে অংশ নিলেন না শশী থারুর ৷ শীতকালীন অধিবেশনের বাকি দিনগুলোয় কংগ্রেস সাংসদরা কী কী ইস্যুতে সরব হবেন তা নিয়ে শুক্রবার সকালে বৈঠক করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি ৷ এই বৈঠকে হাজির ছিলেন না শশী ৷ তাঁর পাশাপাশি দলের আরেক প্রবীণ সাংসদ মণীশ তিওয়ারিও ছিলেন না বৈঠকে ৷
রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধি-সহ দলের লোকসভার সাংসদদের উপস্থিতিতে হওয়া বৈঠকে কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে ৷ সম্প্রতি বন্দে মাতরম নিয়ে সংসদের দুটি কক্ষে আলোচনা হয়েছে ৷ জাতীয় গানকে খণ্ডিত করার জন্য দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ৷ এ নিয়ে পাল্টা বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি থেকে শুরু করে হাত শিবিরের সাংসদরা ৷ অধিবেশনের বাকি দিনগুলোতেও এই ইস্যুতেই সরকারকে চেপে ধরতে চায় কংগ্রেস ৷ এর পাশাপাশি নির্বাচনী সংস্কার নিয়েও সুর চড়াবেন কংগ্রেস সাংসদরা ৷

সূত্রের খবর, দলের সাংসদদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন রাহুল ৷ তিনি জানিয়েছেন, যেভাবে কংগ্রেস সাংসদরা সরকারের উপর চাপ তৈরি করেছেন তাতে তারা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে ৷ আগামিদিনেও সেই কাজটাই করে যেতে হবে ৷ অন্যদিকে, কংগ্রেস সংসীয় দলের উপ-দলনেতা গৌরর গগৈ জানান, বন্দে মাতরম নিয়ে সরকার পক্ষ মিথ্যা তথ্য তুলে ধরছিল ৷ কিন্তু লোকসভায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধি এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সেই মিথ্যার মুখোশ খুলে দিয়ে জনসাধারণে সামনে সত্যটা তুলে ধরেছেন ৷

এই প্রথম নয়, এর আগে দলের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন শশী ৷ শীতকালীন অধিবেশন শুরুর আগে দলের সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসেন সোনিয়া গান্ধি ৷ সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সনের সেই বৈঠকেও অংশ নেননি তিরুবন্তপুরমের সাংসদ ৷ তবে এই বৈঠকে অংশ না নেওয়ার কারণ হিসেবে কংগ্রেস নেতা জানান, তাঁর 90 বছর বয়সি মা-কে বিমানে কেরল থেকে দিল্লি আসছিলেন ৷ ঠিক সে সময় বৈঠক হওয়ায় তিনি থাকতে পারেননি ৷ দলের আরেক সাংসদ তথা মহাসচিব কেসি বেণুগোপালও ওই বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি ৷ তিনি কেরলের স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন ৷ অন্যদিকে, 18 নভেম্বর এসআইআর প্রসঙ্গে দলের অবস্থান ঠিক করতে বৈঠক ডেকেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি ৷ সেখানেও অনুপস্থিত ছিলেন শশী ৷
গত বেশ কয়েকমাস ধরে দলের সঙ্গে এই কংগ্রেস নেতার দূরত্ব বাড়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা চলছে ৷ অপারেশন সিঁদুরের সময় কংগ্রেসের অবস্থানের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছিলেন শশী ৷ পরে সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে পাকিস্তানের মুখোশ খুলো দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাংসদদের প্রতিনিধি দল পাঠায় ভারত ৷ তার জন্য বিভিন্ন দল থেকে সাংসদদের নাম চাওয়া হয় ৷ সেখানে কংগ্রেসের তরফে শশীর নাম না পাঠানো হলেও তাঁকেই একটি দলের নেতা নির্বাচন করে আমেরিকা-সহ আরও কয়েকটি দেশে পাঠায় মোদি সরকার ৷ তবে এই গোটা সময়টায় শুধুই যে দুপক্ষের মধ্য়ে বৈরিতা দেখা গিয়েছে তা নয়, কখনও কখনও দূরত্ব কমেছে ৷
অতিসম্প্রতি শশীকে বীর সাভারকরের নামাঙ্কিত একটি পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় ৷ যদিও সাংসদ জানিয়েদেন পুরস্কার তিনি গ্রহণ করছেন না ৷ রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করেছিল, হয়তো কাছাকাছি আসছে দু'পক্ষ ৷ কিন্তু মাত্র দিন দুয়েকের মধ্যেই বদলে গেল পরিস্থিতি ৷

