ETV Bharat / bharat

বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির মোকাবিলায় 'বামপন্থী' হয়ে উঠেছে কংগ্রেস, দাবি থারুরের

নরসিমা রাও থেকে শুরু করে মনমোহন সিংয়ের সময় দলের নীতি অন্য ছিল বলে মনে করেন শশী ৷ সভাপতি হওয়ার দৌড়েও থাকতে নারাজ তিনি ৷

SHASHI THAROOR
সংসদে বাদল অধিবেশনের সময় সাংসদ শশী থারুর (ফাইল চিত্র, আইএএনএস)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : November 14, 2025 at 10:19 AM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 14 নভেম্বর: বিগত কয়েক বছরের মধ্যে অনেক বেশি 'বামপন্থী' হয়ে উঠছে কংগ্রেস ৷ বিজেপির বিভাজনমূলক রাজনীতির বিরোধিতা করতে গিয়েই এই পরিবর্তন ৷ বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শশী থারুর ৷

এদিন তাঁর থেকে জানতে চাওয়া হয়, বিজেপির রাজনীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেস এবং বাম দলগুলির জোট কতটা যুক্তিযুক্ত? উত্তরে থারুর জানান, দলীয় বিশ্বাস এবং আদর্শে কিছু ফাঁক রয়েছে ৷ সেই সমস্ত ফাঁক পূরণ করা প্রয়োজন ৷ তিনি বলেন, "কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ কৌশলগত পরিবর্তন ঘটেছে ৷ আর এর ফলে আমাদের দল বেশকিছু ক্ষেত্রে বাম মনোভাবাপন্ন দলে পরিণত হয়েছে ৷"

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের প্রসঙ্গ তুলে থারুর বলেন, "একটু পিছনের দিকে হাঁটলে দেখতে পাবেন, মনমোহন সিংয়ের সময় দলে অনেকবেশি কেন্দ্রীয়করণের মনোভাব ছিল ৷ আর এই মনোভাব বিজেপির কাছ থেকে পাওয়া ৷ বিজেপির কিছু নীতিকেও আমাদের সরকার গুরুত্ব দিয়েছিল ৷ " কিন্তু বিগত কয়েক বছরে কংগ্রেসের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে ৷ দেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দলটি অনেকবেশি বাম মনস্ক হয়ে উঠেছে বলে জানান তিরুবনন্তপূরমের সাংসদ ৷ তবে আসন সামঝোতার ক্ষেত্রে এর কোনও প্রভাব পড়েনি ৷

কংগ্রেস সাংসদ জানান, নয়ের দশকের গোড়ার দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নরসিমহা রাওয়ের অধীনে বেশ কিছু নীতি নির্ধারণ করেছিল কংগ্রেস ৷ ক্ষমতায় আসার পর সেই সমস্ত নীতি অনুসরণে দেখা গিয়েছে বিজেপিকেও ৷ তিনি জানান, 1991 থেকে 2009 সালের মধ্যে কেন্দ্রীয়করণের একটি বাতাবরণ ছিল ৷ পরে অবশ্য তাতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন শুরু হয় ।

কংগ্রেস সভাপতি পদে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না জানতে চাইলে থারুর জানান, পরিস্থিতিতে খুব বেশি পরিবর্তন না-হলে, আর সেদিকে যাবেন না ৷ তাঁর কথায়, " গতবার সভাপতি পদে লড়াই নিয়ে আমার বেশকিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে ৷ আর তা মাথায় রেখে এই নির্বাচন থেকে আমি দূরেই রয়েছি ৷" তবে একসময় কংগ্রেসে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যবস্থার থাকত ৷ সেই সমস্ত দিনের কথা মনে করে আজও আনন্দ হয় বলে জানান কংগ্রেস সাংসদ ৷ তাঁর মতে, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ৷ শুধু কংগ্রেসের বলে নয়, প্রতিটি দলের জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ ৷

অনুষ্ঠানে তাঁকে দিল্লিতে লালকেল্লার সামনে গাড়ি বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে থারুর জানান, সরকার কী করবে, সেই নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না ৷ তবে, জঙ্গি হামলার ঘটনায় কাউকে শাস্তি না-দিয়ে চুপচাপ বসে থাকার কোনও মানে হয় না ৷ ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ থারুর জানান, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়াই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ৷

পড়ুন: দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ড: সংসদের শীতকালীন অধিবেশন এগিয়ে এনে সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি কংগ্রেসের