ETV Bharat / bharat

ভোররাতে হাসপাতালের ICU-তে আগুন, মৃত্যু অন্তত 5 রোগীর; গুরুতর দগ্ধ 20

আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন সকলে ৷ হাসপাতাল কর্মী ও স্থানীয়দের তৎপরতায় অনেককে রক্ষা করা গেলেও মৃত্যু হয় বেশ কয়েকজনের ৷

Bihar News
হাসপাতালে আগুন লাগার পর উদ্ধার কাজের মুহূর্ত (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : June 4, 2026 at 8:31 AM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

মুজফফরপুর (বিহার), 4 জুন: হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে আগুন লেগে মৃত্যু হল কমপক্ষে পাঁচ রোগীর ৷ আহত প্রায় 20 জনেরও বেশি রোগী ৷ বৃহস্পতিবার ভোররাতে ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের মুজফফরপুরের ব্রহ্মপুরা এলাকার প্রখ্যাত প্রসাদ হাসপাতালে ৷

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুন ও ধোঁয়া উঠতে থাকায় হাসপাতালটিতে আর্তনাদ ও চিৎকারে ভরে গিয়েছিল । হাসপাতালের কর্মী এবং আশেপাশের বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে জানালা ভেঙে আহত রোগীদের উদ্ধার করেন । তাদের তৎপরতায় বহু জীবন রক্ষা পায় ।

বিহারের প্রসাদ হাসপাতাল থেকে ইটিভি ভারতের রিপোর্ট (ইটিভি ভারত)

খবর পেয়ে আটটি ফায়ার ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয় । অক্লান্ত প্রচেষ্টার পর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন । ফায়ার অফিসার আর.এন. পান্ডে বলেন, "ভোর 3টের দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায় । উদ্ধারকারী দল সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় । সে সময় আইসিইউ-টি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিল । এখন পর্যন্ত 20 জনেরও বেশি রোগীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে । পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে ।"

জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিদর্শন করেছেন । আহত সকল রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে অবিলম্বে মুজফফরপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে ৷ সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে ।

প্রশাসনিক দল বর্তমানে মৃতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে । এছাড়াও, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ যৌথভাবে আইসিইউ ওয়ার্ডের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করছে ।

জেলাশাসক সুব্রত কুমার সেন জানিয়েছেন যে, এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে । আইসিইউ-তে 13 থেকে 15 জন রোগী ভর্তি ছিলেন । হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটই অগ্নিকাণ্ডের প্রধান কারণ হতে পারে । তবে, এটি এখনও নিশ্চিত করা হয়নি । পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে, জেলা প্রশাসন ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্তের জন্য একটি উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ।

ঘটনার পর ত্রাণকার্য দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে । ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে । স্থানীয় প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে, সকল ক্ষতিগ্রস্তকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা প্রদান করা হবে । এই দুর্ঘটনা হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ।