মসজিদের কাছে অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদে গিয়ে আক্রান্ত দিল্লি পুলিশ, আহত 8
দুষ্কৃতীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে পাথর ছোড়ে এমনটাই অভিযোগ ৷ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের আটজন কর্মী আহত হয়েছেন ৷ আটক করা হয়েছে পাঁচজনকে ৷

By PTI
Published : January 7, 2026 at 10:43 AM IST
নয়াদিল্লি, 7 জানুয়ারি: বেআইনিভাবে দখল হওয়া জমি মুক্ত করতে গিয়ে আক্রান্ত দিল্লি পুলিশ ৷ বুধবার ভোরে বেআইনি উচ্ছেদ অভিযানে যান আধিকারিকরা ৷ সেখানেই দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হতে হল তাঁদের ৷ পুলিশকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ৷ ঘটনায় আট পুলিশ কর্মী আহত হন ৷ অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদে প্রায় 32টি বুলডোজার নিয়ে এসেছিল কর্পোরেশন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (এমসিডি) বুধবার ভোরবেলা রামলীলা ময়দানের কাছে তুর্কমান গেটের ফয়েজ-এ-ইলাহি মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি দখল উচ্ছেদ অভিযানে নামে ৷ পুলিশ জানিয়েছে, উচ্ছেদ কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল । উচ্ছেদ অভিযান যাতে সুষ্ঠুভাবে হয়, তার জন্য গোটা এলাকাটিকে নয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয় ৷ যার প্রত্যেকটিতে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ৷ এমনকী সমস্ত সংবেদনশীল স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছিল ৷
উচ্ছেদ অভিযানের আগে, শান্তি বজায় রাখা এবং যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে আমান কমিটির সদস্য এবং অন্যান্য স্থানীয়দের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠকও করে পুলিশ ৷ সম্ভাব্য সমস্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল বলেই পুলিশের দাবি । তবে, উচ্ছেদের দিন দেখা গেল অন্য ছবি ৷ আধিকারিকদের দাবি, কয়েকজন দুষ্কৃতী পুলিশকে লক্ষ্য করে ব্যাপক পাথর ছুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল ৷ যদিও ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ৷

এই প্রসঙ্গে, দিল্লির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশিস সুদ জানান, তুর্কমান গেট এলাকার মসজিদের কাছে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের সময় পাথর ছোড়ার ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক ৷ তিনি সতর্ক করে এও জানিয়েছেন, হিংসার ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না । পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে ৷ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে ।
আশিস সুদ আরও বলেন, "মসজিদের আশেপাশে কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে গড়ে উঠেছিল ৷ যার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ মেনেই সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ৷ আইনের আওতাধীনে পরিচালিত কাজে বাধা দেওয়া বা বিঘ্ন ঘটানো কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না ।"

তাঁর কথায়, "কিছু অপরাধী ও দুষ্টু লোক বিক্ষোভ ও হিংসায় লিপ্ত হয়েছে ৷ যা সহ্য করা হবে না । এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে ৷ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে । আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে ফয়েজ-এ-ইলাহি মসজিদ সম্পূর্ণ নিরাপদ । এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র সেইসব অবৈধ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে যাদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ দিয়েছিল । এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও স্বেচ্ছাচারিতা বা অসৎ উদ্দেশ্য নেই ।"
সেন্ট্রাল রেঞ্জের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মধুর ভার্মা বলেন, "উচ্ছেদের সময়, কয়েকজন দুষ্কৃতী পাথর ছোড়া শুরু করে ৷ পরিমিত ও ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয় ৷ কোনও উত্তেজনা ছাড়াই স্বাভাবিক পরিস্থিতি আনা সম্ভব হয় ।" অন্যদিকে, এলাকার অন-নুমোদিত কাঠামো ভাঙতে কর্পোরেশন প্রায় 32টি বুলডোজার নিয়ে আসে ।

এর আগে সোমবার মধ্যপ্রদেশে, উজ্জয়িনী জেলার মহাকাল চকের কাছে নির্মিত একটি বহুতল আবাসনের বিরুদ্ধে কর্পোরেশনের একটি দল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল ৷ প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই এটি নির্মিত হয়েছিল বলে অভিযোগ । একটি নোটিশও জারি করা হয়েছিল, কিন্তু তা উপেক্ষা করা হয় ৷ এরপরেই এটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় কর্পোরেশন ৷
উজ্জয়িনী কর্পোরেশনের সহকারী কমিশনার দীপক শর্মা বলেন, "আমরা মহাকাল চকের কাছে অবস্থিত একটি কাঠামো নির্মাণের জন্য অনুমতি না নেওয়ায় গোলাম মহম্মদের স্ত্রী নূর জাহানের নামে একটি নোটিশ জারি করেছিলাম । কিন্তু তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন ৷ আদালত এতে কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি । এরপরও তাঁরা নির্মাণকাজ বন্ধ করেননি ৷ তাই পুলিশ প্রশাসন ও কর্পোরেশনের সহায়তায় অবৈধ নির্মাণটি ভেঙে দেওয়া হয় ৷ কোনও অনুমতি ছাড়াই বহুতলটি নির্মাণ করা হয়েছিল । তাই পুরোটাই ভেঙে ফেলা হয়েছে ।" আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রাস্তা ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল ।

