ড্রপসিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত একই পরিবারের 6, সর্ষের তেল থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা
গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরিবারের আরও এক সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৷ কিন্তু এই ড্রপসি রোগের উপসর্গ কী ? কেনই বা হয় এই রোগ ?

Published : July 9, 2026 at 9:02 AM IST
পালামৌ, 9 জুলাই: গ্রামে রহস্যজনকভাবে অসুস্থতা বেড়েই চলেছে ৷ একে একে পরিবারের 6 জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ সপ্তম জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৷ ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ডের পালামৌর জেলার অন্তর্গত পাডওয়া ব্লকের সিক্কা গ্রামে স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।জানা গিয়েছে, 15 বছর পর ফের ভারতে ড্রপসি রোগ হানা দিয়েছে ৷
পাটন ব্লকের মেডিক্যাল আধিকারিক শ্রাবণ কুমার জানিয়েছেন, সিক্কা গ্রামের ওই পরিবারের সবথেকে বয়স্ক লাখো দেবীর মৃত্যু হয়েছে মঙ্গলবার মাঝরাতে মারা যান ৷ তিনি আরআইএমএস (রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস)-এ মারা যান। একটি সমীক্ষা চালানো হয়েছে তাঁর পরিবারে ৷ পরিবারের আরেকজন ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে ৷ এই ঘটনায় আমরা সকলেই ভিসেরা রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। তারপরই এই পরপর মৃত্যুর কারণগুলি জানা যাবে ৷
একই পরিবারে ছ'জনের মৃত্যুর কারণ ভাবাচ্ছে প্রশাসনের আধিকারিকদের ৷ তবে চিকিৎসাধীন সুনীল মেহতাকে প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ চলছে ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত 20 দিনে একে একে 6 জনের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এল ৷
এই পরিবারের প্রথম মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে গত 19 জুন ৷ কুলদীপ মেহতা সেদিন প্রথম মারা যান। তাঁর মেয়ে ববিতা কুমারী (20 জুন), আরেক মেয়ে ইন্দু কুমারী (26 জুন), পুত্রবধূ শ্বেতা কুমারী (28 জুন) এবং ছেলে নকুল মেহতা (29 জুন) মারা যান। কুলদীপ মেহতার স্ত্রী লাখো দেবী গত পরশু মাঝরাতে মারা যান ৷
স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে জানা গিয়েছে, এই পুরো পরিবার ড্রপসি রোগে ভুগছিল ৷ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা, আরও বেশকিছু খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখে, স্বাস্থ্য বিভাগ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছয় যে পরিবারের সকলেই ড্রপসি নামক একটি রোগে ভুগছিল। 2011 সালের পর ভারতে ফের ড্রপসি রোগ দেখা দিল। এছাড়াও, এও সামনে এসেছে, মৃতরা সকলে যে সর্ষের তেল খাচ্ছিলেন তা আর্জিমোন মেক্সিকানা দ্বারা দূষিত ছিল। রাঁচি ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি আর্জিমোন মেক্সিকানার এই উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। ড্রপসি রোগ থেকে কীভাবে আক্রান্তদের সারিয়ে তুলবে তা স্বাস্থ্য বিভাগ সরেজমিনে খতিয়ে দেখছে ৷
ড্রপসি (Dropsy) কী ? শরীরে অতিরিক্ত জল জমে ফুলে যায় ৷ এই রোগে আক্রান্ত হলে হার্ট, লিভার বা কিডনির মতো অভ্যন্তরীণ অঙ্গের সমস্যা দেখা যায় ৷ বিষাক্ত সর্ষের তেল বা ভেজাল জাতীয় খাবার খেলে শরীরে এই রোগ হানা দেয় ৷ এর প্রধান লক্ষণগুলি, হাত, পা এবং মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় ৷ পেটে ব্যথা, বদহজম এবং বমি বমি ভাব হতে থাকে ৷ শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং ত্বক নীলচে বা কালচে হয়ে যাওয়া থেকে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করেন রোগীরা ৷
আর্জিমোন মেক্সিকানা কী? আর্জিমোন মেক্সিকানা (Argemone mexicana) বা 'শিয়ালকাঁটা' একটি কাঁটাযুক্ত ঔষধি গুল্ম । পালামৌ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় এই কাঁটাযুক্ত আগাছা। এর উজ্জ্বল হলুদ ফুল এবং হলুদ আঠায় ল্যাটেক্স রয়েছে। রাঁচির খাদ্য পরীক্ষাগারের রিপোর্ট অনুযায়ী, আর্জিমোন তেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই তেল পশুদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

