কুলদীপ সেঙ্গারের জামিনে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের, ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে দাবি উন্নাওয়ের নির্যাতিতার
উন্নাওকাণ্ডে দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের বিরোধিতা করে শনিবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই ৷ সোমবার মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিল শীর্ষ আদালত ৷

By PTI
Published : December 29, 2025 at 12:51 PM IST
নয়াদিল্লি, 29 ডিসেম্বর: উন্নাওকাণ্ডে দোষী কুলদীপ সিং সেঙ্গারের জামিন মঞ্জুর করেছিল দিল্লি হাইকোর্ট ৷ সোমবার সেই রায়ে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট ৷ দিল্লি হাইকোর্টের 23 ডিসেম্বরের নির্দেশ মেনে সেঙ্গারকে কোনওভাবেই হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত ৷
পাশাপাশি তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ বাতিল করেছিল হাইকোর্ট ৷ সেই নির্দেশের উপরেও স্থগিতাদেশ জারি করল সর্বোচ্চ আদালত ৷ 4 সপ্তাহ পর আবারও এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে বলে জানায় শীর্ষ আদালত ৷ আদালতের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন উন্নাওয়ের নির্যাতিতা ৷ তিনি বলেন, " সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে আমি খুবই খুশি ৷ আমি সুবিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলাম ৷ আজ সেই বিচার পেয়েছি ৷ তবে যতক্ষণ না পর্যন্ত সেঙ্গারের ফাঁসি হচ্ছে ততক্ষণ আমার লড়াই চলবে ৷ আদালতের আমার সম্পূর্ণ আস্থা আছে ৷ "
Supreme Court stays the order of Delhi High Court which suspended life sentence of expelled Bharatiya Janata Party (BJP) leader Kuldeep Singh Sengar in the 2017 Unnao rape case of a minor girl.
— ANI (@ANI) December 29, 2025
Supreme Court also issues notice to Sengar on an appeal of CBI against High Court… pic.twitter.com/sDRuuIV7MX
সুপ্রিম কোর্টে কী কী হল ?
উন্নাওকাণ্ডে দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের বিরোধিতা করে শনিবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই ৷ সোমবার মামলার শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দিল শীর্ষ আদালত ৷ এদিন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জেকে মহেশ্বরী এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসির অবসরকালীন বেঞ্চে সিবিআইয়ের আবেদনের শুনানি হয় ৷ সিবিআইয়ের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুসার মেহেতা দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশের আর্জি জানান ৷ সেই আর্জিতে সিলমোহর দেয় আদালত ৷
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, দিল্লি হাইকোর্টের 23 ডিসেম্বরের রায় মেনে কুলদীপ সেঙ্গারকে কোনও মতেই ছাড়া সম্ভব নয় ৷ বিষয়টি বিবেচনার জন্য আইনতভাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি হয়েছে ৷
সিবিআই কী বলল ?
গত 23 ডিসেম্বর শর্তসাপেক্ষ উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের জামিন মঞ্জুর করে দিল্লি হাইকোর্ট ৷ সেই রায়ের বিরোধিতা করে শীর্ষ আদালতের আবেদনে সিবিআই জানায়, ধর্ষণকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত বহিষ্কৃত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা স্থগিত করে দেওয়া আইনবিরোধী এবং বিকৃত ৷ এই রায়ের ফলে নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ৷ সেই সঙ্গে সিবিআই আরও জানায়, সাংবিধানিক পদাধিকারী হওয়ার সুবাদে একজন ক্ষমতাসীন বিধায়ক জনগণের আস্থা অর্জন করেন ৷ ভোটারদের উপর তাঁর দায়বদ্ধতা রয়েছে ৷ দেশ তথা সমাজের প্রতি তাঁর কিছু কর্তব্যও রয়েছে ৷ অথচ, দিল্লি হাইকোর্ট সেই বিষয়টি বিবেচনা করতে ব্যর্থ হয়েছে ৷
দিল্লি হাইকোর্টে কী কী হয়েছিল ?
2019 সালের রায়ে উত্তরপ্রদেশের নিম্ন আদালত 4 বারের বিধায়ককে ভারতীয় দণ্ডবিধির 376 ধারা এবং পকসো আইনের 5(সি) এবং 6 ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি শোনায় ৷ 5(সি) ধারা যুক্ত হওয়ায় তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় ৷ কারণ, এই ধারায় বলা আছে কোনও পাবলিক সার্ভেন্ট (সরকারি কর্মী বা জনসেবক ৷ এক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি ৷ ) এই ধরনের কাজ করলে তা আরও গুরুতর বিষয় হয়ে ওঠে ৷ এমতাবস্থায় কুলদীপের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় ৷
কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, বিধায়ক কোনও 'পাবলিক সার্ভেন্ট' নন ৷ তাই এক্ষেত্রে পকসো আইনের 3 নম্বর ধারা যুক্ত করে হাইকোর্ট ৷ এই ধারা অনুসারে কোনও ব্যক্তির সর্বোচ্চ সাত বছর জেল হতে পারে ৷ কিন্তু সেঙ্গার ইতিমধ্যেই পকসো আইনের সাত বছর 5 মাসের জেলে খেটেছেন ৷ তাই তাঁকে জামিনের নির্দেশ দেয় আদালত ৷ কিন্তু শীর্ষ আদালত এই রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে ৷
বিচারের ঘটনাক্রম
2017 সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারকে দোষী সাব্যস্ত করে দিল্লির নিম্ন আদালত ৷ এরপর 2019 সালের 20 ডিসেম্বর তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় দিল্লির তিস হাজারি আদালত ৷ সেই আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন জানান বহিষ্কৃত বিজেপি নেতা ৷
গত 23 ডিসেম্বর সেই মামলায় কুলদীপের জামিন মঞ্জুর করে আদেলত ৷ হাইকোর্ট 15 লক্ষ টাকা ব্যক্তিগত বন্ডে বিজেপি নেতাকে জামিন দেয় । সেই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ ছিল, উন্নাওয়ের নির্যাতিতার বাড়ির 5 কিলোমিটারের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেন না কুলদীপ । নির্যাতিতার পরিবারকে হুমকি না-দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে আদালতের তরফে ৷ তবে, ধর্ষণকাণ্ডের সাজা থেকে মুক্তি পেলেও নির্যাতিতার বাবার মৃত্যুর ঘটনাতে সাজা ভোগ করতে হবে তাঁকে ৷ দিল্লি হাইকোর্টের এই রায়ের পর শুক্রবার আদালতের বাইরে বিক্ষোভ দেখায় একাধিক মহিলা সংগঠন ৷ উন্নাওয়ে নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের ন্যায়ের দাবিতে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দেন তাঁরা ৷ বিক্ষোভে যোগ দেন নির্যাতিতার মা-ও ৷

