'বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতি' বিতর্কে কেন্দ্রকে 'সুপ্রিম' ভর্ৎসনা, অষ্টম শ্রেণির NCERT বই নিষিদ্ধ করল শীর্ষ আদালত
NCERT-র অষ্টম শ্রেণির বইতে বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতি সংক্রান্ত অধ্যায় পড়ানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ৷ এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছেন স্বয়ং দেশের প্রধান বিচারপতি ৷

Published : February 26, 2026 at 12:49 PM IST
|Updated : February 26, 2026 at 1:14 PM IST
নয়াদিল্লি, 26 ফেব্রুয়ারি: এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির বই বিতর্ককে 'গভীর ষড়যন্ত্র' এবং 'সুপরিকল্পিত' কাজ বলে তোপ দাগল সুপ্রিম কোর্ট । আদালত অবমাননা আইন বা আইনের অন্য কোনও বিধানের অধীনে কেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা জানতে চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্কুল শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং এনসিইআরটি'র ডিরেক্টর দীনেশ প্রসাদ সাকলানিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট ৷
এনসিইআরটি ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে বলে দাবি করেছে ৷ তারপরে কড়া পদক্ষেপ করেছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ ৷ বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি বেঞ্চ সরকারকে অনলাইনে উপলব্ধ সংশ্লিষ্ট বইটির পিডিএফ সংস্করণটি সরিয়ে নেওয়ার আদেশ দিয়েছে । একই সঙ্গে 'বিচার ব্য়বস্থার দুর্নীতি' সংক্রান্ত বিতর্কিত অধ্যায়টি রয়েছে এমন বইগুলি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি ৷
গতকালই এই বিষয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ৷ তাঁর পর্যবেক্ষণ, "যে কেউ এই প্রতিষ্ঠানকে অসম্মান করবে, তা মেনে নেব না ৷" এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, "আমরা নিঃশর্তে ক্ষমা চাইছি ৷ স্কুল শিক্ষা দফতরের সচিব আদালতে উপস্থিত রয়েছেন ৷ এনসিইআরটি ক্ষমা চেয়ে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করেছে ৷"
তখন প্রধান বিচারপতি বিবৃতি নিয়ে জানায়, সেখানে ক্ষমা চাওয়া নিয়ে একটিও শব্দ নেই ৷ তিনি বলেন, "প্রাথমিকভাবে বইটির বিষয়বস্ত পর্যালোচনা করে আমাদের মনে হচ্ছে, এই প্রতিষ্ঠানকে খাটো করে দেখানো এবং বিচার ব্যবস্থার অবমাননার জন্য এটা সুপরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে ৷"
এসজি তুষার মেহতা তখন বলেন, যে দু'জন আধিকারিক 'বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতি' সংক্রান্ত অধ্যায়টি তৈরি করেছেন, তাঁরা আরও কখনও শিক্ষা মন্ত্রকের কোনও কাজে সুযোগ পাবেন না ৷ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, "এটা অত্যন্ত হালকা পদক্ষেপ ৷ তারা গুলি ছুড়েছে ৷ আজ বিচার ব্যবস্থা রক্তাক্ত হয়েছে ৷" তিনি আরও বলেন, "আমাদের উপর প্রবল আক্রমণ করা হয়েছে ৷ এটা জনপরিসরে হয়েছে ৷ বিভিন্ন সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বইটির এই অংশগুলি পাওয়া যাচ্ছে ৷ আমিও কোথাও থেকে একটি কপি পেয়েছি ৷" এই ঘটনায় তিনি আরও গভীর তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন ৷
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মন্তব্য, "দুর্ভাগ্যবশত, সংবিধানের নৈতিকতা ও মৌলিক কাঠামো বজায় রাখা নিয়ে বিচার ব্যবস্থার ভূমিকার কথা এই পাঠ্যবইয়ে নেই ৷ আমাদের মনে হচ্ছে, বইয়ের শব্দ চয়ন অসাবধানতাবশত নয় বা প্রকৃত ভুল নয় ৷ এই পরিস্থিতিতে, আমরা কোনও বৈধ সমালোচনা দমনের জন্য স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করছি না ৷"
তুষার মেহতা বেঞ্চের কাছে জানান, 32টি বই বাজারে গিয়েছিল ৷ সেগুলি তুলে নেওয়া হয়েছে ৷ বাকি বইগুলি বিক্রি করা হবে না এবং পুরো অধ্যায়টি একটি নতুন দল খতিয়ে দেখবে ৷ প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, "আমরা আরও গভীর তদন্ত চাই ৷ কে এই কাজটি করেছে, তাঁকে খুঁজে বের করাটা আমার কর্তব্য ৷ যদি একজনেরও বেশি কেউ থাকে, তাহলে তাঁদের সকলের শাস্তি হওয়া উচিত ! জবাবদিহি করতে হবে ৷ আমি যতক্ষণ না পর্যন্ত তদন্তে সন্তুষ্ট হচ্ছি, ততক্ষণ এই শুনানি বন্ধ হবে না ৷" আগামী 11 মার্চ ফের এই মামলার শুনানি ৷

