দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে কাশ্মীর থেকে আটক আরও এক চিকিৎসক
আটক তাজামুল আহমেদ শ্রীনগরের হাসপাতালে কর্মরত । তথ্য সংগ্রহের জন্য, নাকি জঙ্গি সন্দেহে তাজামুলকে আটক করা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

Published : November 12, 2025 at 2:37 PM IST
শ্রীনগর, 12 নভেম্বর: দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় আরও এক চিকিৎসককে আটক করল পুলিশ ৷ তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাশ্মীরের ওই ডাক্তারকে আটক করা হয়েছে বলে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ।
তাজামুল আহমেদ মালিক নামে ওই চিকিৎসক দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাঁও জেলার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে ৷ উপত্যকার তৃতীয় স্তরের সরকারি হাসপাতাল শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতালে (এসএমএইচএস) কর্মরত তিনি। তবে এই চিকিৎসক তাজামুল মালিককে আটক করা হয়েছে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশে, নাকি তাঁকেও বৃহত্তর জঙ্গি মডিউলের অন্যতম সন্দেহভাজন হিসেবে মনে করছেন তদন্তকারীরা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলাকালীন কোনও অবস্থাতেই মুখ খুলতে চাইছে না পুলিশও ৷
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে অবশ্য জানা যাচ্ছে, তাজামুল জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত 'হোয়াইট কলার' জঙ্গি মডিউলের এক সদস্য হতে পারে ৷ এই জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে আটক তাজামুল হল কাশ্মীরে পঞ্চম চিকিৎসক ৷ এও জানা যাচ্ছে, জম্মু ও কাশ্মীর, হরিয়ানার ফরিদাবাদ এবং উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে কাজ করা, বিস্ফোরণে নিহত সন্দেহভাজন ডাক্তার উমর মহম্মদ-সহ বাকি ডাক্তাররাও গত মাসের শেষের দিক থেকে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের নজরে ছিল।
পুলওয়ামার ডাক্তার মুজাম্মিল শাকিল ফরিদাবাদের আল ফালাহ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন এবং অনন্তনাগের ডাক্তার আদিল আহমেদ রাথের সাহারানপুরের বিখ্যাত মেডিকেয়ার হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন ৷ তাদের এই মাসের শুরুতেই জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পাকড়াও করে। এরপরই কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ এবং ফরিদাবাদ-সহ বিভিন্ন স্থানে 2900 কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-সহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
অক্টোবরের শেষের দিকে শ্রীনগরের নওগাঁয়ে পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে হুমকি দিয়ে লেখা জইশ-ই-মহম্মদের পোস্টারের তদন্ত শুরু করার পরই এই যাবতীয় তথ্য সামনে এসেছে ৷ এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, এই গ্রেফতারগুলি অত্যন্ত কৌশলে পরিকল্পনা করা হয়েছিল যাতে কোনওভাবেই যাতে গোপন থাকে ।
আর এই গ্রেফতারের ফলেই সন্ত্রাসীদের অত্যাধুনিক নেটওয়ার্ক এবং তাদের সাম্প্রতিক সময়ে বৃহৎ অস্ত্রভাণ্ডার, জঙ্গি নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁস হয়ে গিয়েছে । প্রায় এক হাজার লোককে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে জামাত-ই-ইসলামির মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা রয়েছে ৷ যাদের অধিকাংশের আত্মীয়স্বজন পাকিস্তানে বসবাস করে বলে জানা গিয়েছে।
শুধুমাত্র কুলগাঁও থেকেই প্রায় 500 জনকে আটক করা হয়েছে ৷ একসময় জঙ্গিবাদের কেন্দ্রস্থল ছিল এবং 2019 সালে 370 ধারা বাতিলের পর থেকে এই এলাকায় ঘন ঘন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত। পুলিশ এক কর্তারা বলেন, "এই পদক্ষেপ তৃণমূল স্তরে সন্ত্রাসীদের সমর্থন কাঠামো ভেঙে ফেলার অন্যতম প্রচেষ্টা ৷"

