দিল্লি বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে 13, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল প্রমাণ; গাড়ি চালাচ্ছিল উমরই
দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত মূল দুই অভিযুক্তের একজন চিকিৎসক উমর নবি বিস্ফোরণে ব্য়বহৃত হুন্ডাই i20 গাড়িটি নিয়ে ঘুরছিল এবং বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয় ৷

By PTI
Published : November 13, 2025 at 9:44 AM IST
নয়াদিল্লি, 13 নভেম্বর: প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছিল, শেষমেশ ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল প্রমাণ ৷ লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই i20 গাড়িটির চালকের আসনে ছিল কাশ্মীরের চিকিৎসক উমর নবি ৷ বৃহস্পতিবার এমনটাই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ৷ এদিকে এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড় হয়েছে 13 ৷ দিল্লির এলএনজেপি হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন আরও একজনের মৃত্যু হয় ৷
মঙ্গলবার উমরের মায়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য এখানে পাঠানো হয় ৷ একই সঙ্গে বিস্ফোরণস্থল থেকে সংগৃহীত দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় ৷ যার সঙ্গে উমরের মায়ের ডিএনএ পরীক্ষায় মিল পাওয়া যায় ৷ এর পরই তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি চালাচ্ছিল চিকিৎসক উমর উন-নবি বা উমর মহম্মদ ।
সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দিল্লি পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, "ডিএনএ পরীক্ষার পর আমরা নিশ্চিত করে যে, উমরই বিস্ফোরণে ব্যবহৃত গাড়িটি চালাচ্ছিল ৷" দিল্লিতে বিস্ফোরণের পরেই অর্থাৎ সোমবার রাতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামা থেকে উমরের মা এবং দুই ভাইকে আটক করা হয়। উমরের মায়ের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় ৷
সূত্রে জানা গিয়েছে, উমরের দেহাবশেষের ডিএনএ নমুনা তার মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে 100 শতাংশ মিলে গিয়েছে ৷ যার ফলে বিস্ফোরণের সময় গাড়িতে উমরের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে । বিস্ফোরণে ব্যবহৃত i20 গাড়িটির ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার হওয়া হাড়ের টুকরো, দাঁত ও পোশাকের থেকে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয় ৷
দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্তে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত মূল দুই অভিযুক্তের একজন ডাঃ উমর বিস্ফোরণে ব্য়বহৃত হুন্ডাই i20 গাড়িটি নিয়ে ঘুরছিল এবং বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়েছে ৷ আরেকজন মুজ্জামিল তুর্কিতে ঘুরতে গিয়েছিল ৷ সূত্রের খবর, তাদের দু'জনের পাসপোর্টে তুরস্কের অভিবাসনের স্ট্যাম্প পাওয়া গিয়েছে ৷ বিদেশে বেড়াতে গিয়ে তারা দু'জনে অন্য দেশে স্থিত কোনও হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা ৷
সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার কাছে একটি সাদা রঙের হুন্ডাই i20 গাড়িতে বিস্ফোরণ হয়। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে 13 জনের ৷ ওই দিনই সকালে ফরিদাবাদে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং হরিয়ানা পুলিশের যৌথ দল। গ্রেফতার করা হয়েছিল মুজাম্মিল আহমেদ-সহ একাধিক ব্যক্তিকে। মুজাম্মিলের ফোন ঘেঁটে পুলিশ জানতে পারে, চলতি বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে একাধিকবার লালকেল্লার সামনে গিয়েছিল সে । শুধু মুজাম্মিল নন। আর এক চিকিৎসক উমর নবিও তার সঙ্গে লালকেল্লার সামনে গিয়েছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।
উমর 'হোয়াইট কলার' জঙ্গি মডিউলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল বলেও জানতে পারে পুলিশ। উমর জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার কোয়েল গ্রামের বাসিন্দা। নিষিদ্ধ জইশ-ই-মহম্মদ ও আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দের সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি মডিউলটি পুলিশ ফাঁস করে এবং তিন জন ডাক্তার-সহ আট জনকে গ্রেফতার করার কয়েকঘণ্টার পর অর্থাৎ সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণ ঘটে।

