স্কুল ব্যাগ খালি, বিহারের এক্স ফ্যাক্টর পিকে'র ঝুলি প্রথম বারে শূন্য
2025 সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিহারে ইতিহাস গড়েছে ৷ মোদি-নীতীশ ক্যারিশমায় ধুয়ে মুছে সাফ হাত-লণ্ঠনের বন্ধন ৷ ভোটকুশলী প্রশান্তও খাতা খুলতে পারলেন না ৷

By PTI
Published : November 14, 2025 at 8:40 PM IST
পটনা, 14 নভেম্বর: ভোটের প্রচারে বিহারে পরিবর্তন আনার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন তিনি ৷ লালু প্রসাদের আরজেডি, নীতীশের জেডি (ইউ) আর বিজেপি'র বাইরে মানুষকে আরেকটি পছন্দের সুযোগ দিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর ৷ দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, "বিহারের 60 শতাংশ মানুষ পরিবর্তন চায় ৷ যেদিন ফল ঘোষণা হবে, সেদিন সারা ভারত আশ্চর্য হয়ে যাবে ৷ দেখবেন বিহারের তরুণ ও জনগণ তাঁদের বুদ্ধিমত্তার জোরে নতুন একটি ব্যবস্থাকে বেছে নিয়েছেন ৷"
শুক্রবার ভোটগণনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথাও স্কুলের ব্যাগের চিহ্ন দেখা গেল না ৷ খাতা খুলতে পারলেন না রাজনীতির কৌশল বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত ৷ একসময় তিনি বিজেপির স্লোগান ঠিক করে দিয়েছেন ৷ তৃণমূলের হয়ে ভোটের কৌশল ঠিক করেছেন ৷ একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠ জয় পায় ৷ ভোটগণনার দিনই তিনি ঘোষণা করেন, তাঁর হাতে তৈরি সংস্থা আই-প্যাক থেকে এবার মুক্তি নিচ্ছেন ৷
এরপর ধীরে ধীরে জন সুরাজ পার্টি তৈরির কাজে মন দেন কিশোর ৷ গত বছরের 2 অক্টোবর গান্ধি জয়ন্তীর দিন, বিহারে বিধানসভা ভোটের মাত্র এক বছর আগে ভোটকুশলী প্রশান্ত জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠা করেন ৷
ভোট-প্রচারে লালু-নীতীশ-মোদি-রাহুলের বিকল্প হিসাবে জন সুরজকে তুলে ধরেছিলেন পিকে ৷ শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের ভোট দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি ৷ তাই জন সুরজ দলের প্রতীক 'স্কুল কা বস্তা' স্কুল ব্যাগ ৷
অন্য দলগুলির নেতাদের মতো হেলিকপ্টারে উড়ে উড়ে ভোট প্রচার করেননি কিশোর ৷ সেই পুঁজি তাঁর ছিল না বলে খবর ৷ তাঁর ভরসা ছিল এসইউভি ৷ দিন-রাত ওই গাড়িতে করেই ঘুরেছেন ৷ ওই গাড়ির ছাদে উঠে হাতজোড় করে দাঁড়িয়েছেন ৷ ওই গাড়ির জানলা দিয়ে গলা বাড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ৷
ভোট প্রচারের মাঝে তাঁর দলকে বিজেপি ভয় পেয়েছে বলে সাংবাদিক বৈঠক করেন দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ৷ জন সুরাজের প্রার্থীকে ডেকে পাঠিয়ে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য বলেছেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ ৷ এই অভিযোগের ছবি দেখিয়েছেন ৷
মোকামা বিধানসভা কেন্দ্রে জন সুরাজের প্রার্থী প্রিয়দর্শী পীযূষের হয়ে প্রচারে বেরিয়ে মৃত্যু হয়েছে দুলার চাঁদ যাদবের ৷ হত্যার অভিযোগ উঠেছে ওই কেন্দ্রেরই জেডি (ইউ) প্রার্থী অনন্ত সিং ও তার দুই শাগরেদের বিরুদ্ধে ৷ তারা এখন জেলে বন্দি ৷ কিন্তু, তাতেও জয়ী হয়েছে গ্যাংস্টার অনন্ত ৷
এত প্রচার সত্ত্বেও সকালে ভোটগণনার ট্রেন্ডে দেখা যায় জেএসপি প্রার্থীরা 10 শতাংশেরও কম ভোট আদায় করতে পেরেছে ৷ বিহারের মূল কয়েকটি সমস্যা- বেকারত্ব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে অব্যবস্থা, শিল্পায়নের অভাব, পরিযায়ী শ্রমিকের মতো ইস্যুগুলি থেকে বিহারকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পিকে ৷ কিন্তু তাঁর রণনীতি কাজ করল না ভোট ময়দানে ৷
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ফলাফল এতটাই শোচনীয় যে, 238 টি বিধানসভায় জন সুরজ প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ৷ নিয়ম বলছে, একজন প্রার্থীকে মোট ভোটের অন্তত এক ষষ্ঠাংশ পেতে হবে ৷ না হলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে অর্থাৎ সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে 10 হাজার টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের ক্ষেত্রে 5 হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত হবে ৷ অনেকগুলি আসনে জন সুরজ পার্টির প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট নোটার থেকেও কম ৷
ফরবেসগঞ্জ বিধাসভা আসনের জেএসপি প্রার্থী মহম্মদ একরামুল হক 24তম রাউন্ডের গণনার পর মাত্র 789টি ভোট পেয়েছেন ৷ এদিকে নোটায় প্রাপ্ত ভোট 2 হাজার 253টি ৷ দলের খুব কম সংখ্যক প্রার্থীই 10 শতাংশ ভোট পেয়েছেন ৷ এর মধ্যে চনপটিয়া আসনের ত্রিপুরারি কুমার তিওয়ারি ওরফে মণীষ কাশ্যপ 16.58 শতাংশ ভোট পেয়েছেন ৷ জোকীহাট আসনে 23 রাউন্ড গণনার পর 16.34 শতাংশ ভোট পেয়েছেন সরফরাজ আলম ৷
এর আগে কিশোর দাবি করেছিলেন, তাঁর দল 150টি আসন জিততে পারে ৷ পরে অবশ্য তিনি দাবি করেন যে তাঁর দল হয় ইতিহাস গড়বে ৷ নয়তো জন সুরাজকে কেউ মনেই রাখবে না ৷ এর মধ্য়বর্তী রাস্তায় জন সুরাজ থাকবে না ৷
জেএসপি মুখপাত্র পবন কে বর্মা জানিয়েছেন, বিহারের ডেবিউ ম্যাচে দলের এই হার কেন, তা পর্যালোচনা করে দেখা হবে ৷ কিন্তু, রাহুল দ্রাবিড় তাঁর প্রথম দশটি একদিনের ম্যাচে 50 রানও করে উঠতে পারেননি ৷ এদিকে তিনিই পরে বিশ্ব ক্রিকেটের 'দ্য ওয়াল' হয়ে উঠেছেন, যিনি 22 গজে দেওয়ালের মতোই টিকে থাকতেন ৷
2025-এর বিহারে প্রশান্তের প্রথম রাজনৈতিক ম্যাচ ৷ আগামী পাঁচ বছরে মগধের উপর দিয়ে এনডিএ জোটের হাওয়া বইলেও পরের ভোটে বিহারবাসী বদল চাইবে না, কে বলতে পারে ? জন সুরজের আলোয় বিহারে বদল হতেও পারে ৷ যাই হোক না কেন, এই দুনিয়ায় পরিবর্তনই একমাত্র নিশ্চিত ! অন্তত রাজনীতি তাই করে দেখায় !

